Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫, ১৭ রজব ১৪৪০ হিজরী।

ইসলামের দৃষ্টিতে ভালোবাসা দিবস

শাহ মাহমুদ হাসান | প্রকাশের সময় : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

শেষ

ইসলাম নারী-পুরুষকে পর্দা করার নির্দেশ দিয়ে উভয়ের বিচরণ ক্ষেত্র পৃথক করেছে এবং উভয়ের দৃষ্টি অবনত রাখার বিধান রেখেছে। যেই সমাজ নারীকে অশ্লীলতায় নামিয়ে আনে, সেই সমাজ অশান্তি ও সকল পাপাচারের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। আর এজন্যই ইসলামে সুনির্দিষ্ট বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে যে কোন প্রকার সৌন্দর্য বা ভালবাসার প্রদর্শনী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। নারী জাতিকে লক্ষ্য করে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা জাহেলী যুগের ন্যায় নিজেদের প্রদর্শন করে বাহিরে বের হয়ো না।’ (সূরা আহযাব : ৩৩)। এ ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শনের পরিনতি কি ভয়াবহ হতে পারে তা দেখতে চাইলে পশ্চিমা বিশ্বের দিকে তাকানোই যথেষ্ট, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ছয় মিনিটে একজন নারী ধর্ষিতা হচ্ছে। ইসলামে বেগানা নর-নারীর কোন নির্জন স্থানে মিলিত হওয়া সম্পূর্ণ হারাম। কারণ তাতে ব্যভিচার হবার সম্ভনা তৈরী হয়। ব্যভিচার করার আগ্রহ তৈরী হতে পারে এমন কাজের ধারে-কাছে যেতেও কুরআন নিষেধ করেছে। ‘আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সূরা ইসরা : ৩২)। ইসলামের নির্দেশনা মতে, কোনো ব্যক্তি শুধু ব্যভিচার থেকে দূরে থেকেই ক্ষান্ত হবে না, বরং এ পথে ধাবিতকারী বিষয় থেকেও দূরে থাকবে। হাদীসে এসেছে, ‘যখনই কোন পুরুষ পর নারীর সাথে নির্জনে দেখা করে তখনই শয়তান সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিাত হয়।’ (তিরমিযি : ২১৬৫)। আর শয়তান তাদেরকে ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করার অপচেষ্টায় মেতে ওঠে। ইসলাম বিবাহবহির্ভ‚ত যে কোনো যৌনাচারকে যেনা বলে গণ্য করেছে। হাদিসে এসেছে, ‘দুই চোখের যেনা হলো পরনারীর প্রতি নজর করা, দুই কানের যেনা হলো যৌন উত্তেজক কথা-বার্তা শ্রবন করা, মুখের যেনা হলো পরনারীর সাথে রসালো কণ্ঠে কথা বলা। হাতের যেনা হলো পরনারীকে স্পর্শ করা এবং পায়ের যেনা হলো যৌন মিলনের উদ্দেশ্যে পরনারীর কাছে গমন। অন্তরের যেনা হলো হারাম বস্তু কামনা করা। আর যৌনাঙ্গ এগুলো বাস্তবায়ন করে বা মিথ্যা সাব্যস্ত করে।’ (মুসলিম : ৬৯২৫)।
ভালবাসা দিবস উদযাপনের পরিণতি
ভালবাসা দিবস পালনের নামে যুবক-যুবতীরা উলঙ্গ-বেহায়াপনার উৎসবে মেতে ওঠে। এর মাধ্যমে সমাজে বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ও ব্যভিচারকে পূনর্বাসন করা হচ্ছে। আর যেই সমাজে নির্লজ্জতা ও ব্যভিচার ব্যাপক আকাড়ে ছড়িয়ে পরে সেখানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায় এবং আল্লাহর কঠিন আযাব ও গজব অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। একজন প্রকৃত মুসলিম নারী বা পুরুষ এ ধরনের নোংরা উদযাপনে কখনো অংশ গ্রহণ করতে পারে না। যারা এ ধরনের অশ্লীলতায় নেতৃত্ব দেয় এবং অংশ গ্রহণ করে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা মুুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার ঘটায় তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সূরা নূর : ১৯)। রসুল (সা.) বলেছেন, ’যে জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্লজ্জতা প্রকাশমান, তারা তার ব্যাপক প্রচারেরও ব্যবস্থা করে, যার অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ মহামারী, সংক্রামক রোগ এবং ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষ এত প্রকট হয়ে দেখা দিবে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে কখনই দেখা যায়নি।’ (ইবনু মাজাহ : ৪০০৯)। অতএব সমাজে অবৈধ প্রেম, পরকীয়া, অশ্লীলতা, অপসংস্কৃতি চালু রেখে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করা যাবে না। আর এগুলো সমাজ থেকে মূলৎপাটন করতে হলে দরকার ইসলামী অনুশাসনের বাস্তবায়ন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভালোবাসা দিবস

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আরও
আরও পড়ুন