Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আশা হারাচ্ছে না জুভেন্টাস

অ্যাটলেটিকো এমন একটা দল যাদের বিপক্ষে আপনি একটা পাস ভুল করলেই পস্তাবেন-জুভেন্টাস কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৮:২৯ পিএম | আপডেট : ৮:৫৭ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগের খেলা শেষ। এই পর্বে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচটি জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। পরশু শালকের মাঠে শেষ ৫ মিনিটে লেরয় সানে ও রাইম স্টার্লিংয়ের গোলে দশজনের দল নিয়েও স্বাগতিকদের ৩-২ গোলে হারায় পেপ গার্দিওলার দল। শক্তির ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় এই ম্যাচে সিটির পক্ষেই বাজি ছিল বেশি। কিন্তু কে জানত অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে গিয়ে এভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে জুভেন্টাস!
তার মানে ইতালিয়ান দলের কাছে ডিয়েগো সিমিওনে এক দুর্বোধ্য নামই হয়ে রইলো। তিন বারের সাক্ষাতে লা লিগা প্রতিপক্ষকে হারাতে পারলো না টানা অষ্টম সেরি আর পথে অনেকদূর এগিয়ে যাওয়া জুভেন্টাসও। শেষ তিন ফাইনাল খেলা ও প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও দলের হয়ে কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। গদিন-লুইস-সাউল-হার্নান্দেসদের জমাট রক্ষণের সামনে রোনালদো-দিবালা-মানজুকিচরা ছিলেন অসহায়।
অন্যদিকে মাত্র ৩৭ শতাংশ বলের দখল রেখেও পাল্টা আক্রমণে জুভা রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ান গ্রিজম্যান-কস্তারা। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ভাগে দুই জনই গোলের সহজতম সুযোগ হাতছাড়া না করলে হয়ত আর বড় পরাজয় নিয়ে ফিরতে হত মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির দলকে। সবচেয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল রোনালদোর জন্য। রিয়াল ছেড়ে তুরিনে পাড়ি দেয়ার পর এবারই প্রথম মাদ্রিদে আসেন। কিন্তু সাবেক নগর প্রতিদ্বন্দ্বী দর্শকদের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন ‘ধর্ষক’ দুয়ো।
ওয়ান্দা মেত্রপলিতনে পরশু রাতে ভিএআরের সহায়তায় অ্যাটলেটিকোর একটি পেনাল্টি আবেদন ও আলভারো মোরাতার একটি গোল বাতিল করেন রেফারি। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ০-০। এসময় ডি বক্সে গোলমালের মধ্য থেকে হেসে হিমেনেসের শট জাল খুঁজে নেয়। ৫ মিনিট পর সফরকারীদের বুকে দ্বিতীয় আঘাত হানেন ডিয়াগো গদিন। দুই ডিফেন্ডারের গোলে শেষ আটের কথা চিন্তুা করতেই পারে অ্যাটলেটিকো। পরিসংখ্যানও কিন্তু তাদের পক্ষেই কথা বলছে। এর আগে পাঁচ বার প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়ার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জুভেন্টাস। অ্যাটলেটিকোও প্রথম লেগে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়নি।
এরপরও দ্বিতীয় লেগে সাবধান থাকছেন সিমিওনে। এখনো যে তাকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে সেটাও জানেন আর্জেন্টাইন কোচ, ‘আমরা জানি তুরিনে ম্যাচটা কঠিন হবে। আমি নিশ্চিত সেখানে অনেক ভুগব আমরা। এ ছাড়া আমি কোন রাস্তা দেখছি না।’ তার দৃষ্টিতে লড়াই এখনো শেষ হয়নি ‘আমরা জানি জুভেন্টাসে আমাদের ভুগতে হবে, এবং আমি বলব ম্যাচ এখনো ভারসম্য অবস্থায় রয়েছে। কিছুই এখনো জেতা হয়নি।’
অন্যদিকে অ্যাটলেটিকোকে প্রাপ্য কৃতিত্ব দিলেন জুভ কোচ অ্যালেগ্রি, ‘আমরা জানতাম এটা কঠিন হতে যাচ্ছে এবং স্লো ট্যাম্পুর মত অ্যাটলেটিকো আপনাকে বাজে খেলতে বাধ্য করবে। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের প্রতিউত্তরটা যে ভুল ছিল-এটাই পরিস্কার।’ তবে প্রথম লেগের সব স্মৃতি যেতে চান ইতালিয়ান কোচ, একই সঙ্গে প্রতিপক্ষকে প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রাখলেন তিনি, ‘গত মৌসুমে ঘরের মাঠে রিয়ালের কাছে ৩-১ গোলের হারের পরও আমরা মরে যায়নি, এবারও মরছি না। এই পরাজয়ের স্মৃতি আমাদের ভুলে যেতে হবে এবং তুরিনে আরো ভালো খেলার চেষ্টা করতে হবে। কারণ অ্যাটলেটিকো এমন একটা দল যাদের বিপক্ষে আপনি একটা পাস ভুল করলেই পস্তাবেন।’
দ্বিতীয় লেগে অসুবিধার কথা মানছেন শালকে ডিফেন্ডার নাবিল বেন্তালেবও। সার্জিও আগুয়েরোর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও নাবিলের দুই পেনাল্টি গোলেই প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগকিরা। ৬৮ মিনিটে অটামেন্ডি লাল কার্ড দেখলে ম্যাচে ফেরাটা কঠিন হয়ে পড়ে সিটির জন্যে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত ফ্রি কিক থেকে সফরকারী সিটিকে ম্যাচে ফেরান সানে। আর একেবারে অন্তিম সময়ে স্টার্লিংয়ের গোলে হৃদয় ভাঙে স্বাগতিক দর্শকদের।
ঘরের মাঠে ৩ গোল খেয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় লেগে সিটির মাঠে কাজটা কঠিন হয়ে যাবে মানছেন নাবিল। তবে আশা হারাচ্ছেন না, ‘দ্বিতীয় লেগে আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, লড়াই করতে হবে ২০০% দিয়ে। এরপর আমরা দেখব কি ঘটে।’
শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়াতে পেরে খুশি সিটি কোচ গার্দিওলা, ‘আমাদের শুরুটা সত্যিই ভালো ছিল। এরপরও আমরা কিছু সহজ বল হারিয়েছি যেগুলো এমন প্রতিযোগিতায় আপনি আশা করতে পারেন না। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ব্যক্তিগতভাবে আমরা ভালো খেলেছি।’ স্টালিংয়ের গোলে দল জয় পায় ঠিকই কিন্তু গার্দিওলা সানের গোলটিকে এগিয়ে রাখছেন, ‘ম্যাচটা শেষদিকে দুর্দান্ত হয়ে ওঠে লেরয়ের নৈপূণ্যে। বড় খেলোয়াড়রা এমন ম্যাচ এভাবে জিতে যায়।’
অক্টোবর ২০১৫ এর পর থেকে ঘরের মাঠে মাত্র এক ম্যাচে হেরেছে অ্যাটলেটিকো, জয় ১৪ ম্যাচে, ৩টি ড্র। এসময় মাত্র ছয় গোল খেয়েছে সিমিওনের দল।
এ নিয়ে শেষ ১৪ ম্যাচের ১৩টিতেই জিতলো সিটি। এসময় তারা গোল করেছে ৫২টি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন