Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

আফসোস কবি আল মাহমুদ

কবির মৃত্যুর পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া

মে হে দী হা সা ন প লা শ | প্রকাশের সময় : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

বাংলাদেশের সেরা ৫ জন কবির মধ্যে আল মাহমুদ অন্যতম এবং স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সেরা কবি নিঃসন্দেহে। চিন্তা, সৃজন ও মননের জগতে যে বন্ধ্যা, অনুর্বর সময় আমরা পার করছি তাতে আরেকজন আল মাহমুদ বাংলা ভাষায় জন্মাতে কত শত বছর লাগবে আমি জানি না। কিন্তু সেই কবির মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া দেখে আমি মর্মাহত, ব্যথিত। সকালে পত্রিকা খুলে, টিভির স্ক্রলে চোখ বুলিয়ে আল মাহমুদের মৃত্যুতে সরকারী শোক বাণী খুঁজলাম, পেলাম না।
আল মাহমুদ একদা জাসদ করতেন, বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, এরশাদ ঘেঁষা ছিলেন, এমনকি শেষ জীবনে যাদের সমর্থন করার কারণে অনেকেই আল মাহমুদকে বিতর্কিত বলেন সেই জামায়াত- কারো বিবৃতিই চোখে পড়েনি। জামায়াতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামে আল মাহমুদের মৃত্যুর সংবাদই ছাপেনি। আল মাহমুদের একটি কবিতা, লেখা না হলে যেসব পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা মর্যাদা পেতো না সেসব পত্রিকায় আল মাহমুদের মৃত্যু সংবাদের ট্রিটমেন্ট দেখে কষ্টভরা দীর্ঘশ্বাস পড়েছে।
ভারাক্রান্ত মন নিয়ে প্রেসক্লাবে আল মাহমুদের জানাযায় অংশ নিতে গেলাম। সেখানে গিয়ে আরো মন বিষিয়ে উঠল। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত, জনপ্রিয় ও বিপ্লবী পত্রিকা জাসদের মুখপত্র গণকণ্ঠের সম্পাদক ছিলেন আল মাহমুদ। এ পত্রিকা সম্পাদনার দায়ে জেল খেটেছেন তিনি। কিন্তু তার কফিনের পাশে জাসদ সমর্থক কোনো সাংবাদিককে দেখলাম না। একটি বিশেষ ধারার করগণ্য কিছু সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের দেখলাম। প্রেসক্লাবের, কিম্বা অন্যধারার সাংবাদিক নেতাদেরও দেখিনি। প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ বিএনপির পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অপর্ন করেছেন, সাথে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আহমদ আজম খান। বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা নেই্। জাসাস নেতৃবৃন্দকে দেখলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, বিবৃতি নেই কেন? জানালো, আজ দেয়া হয়েছে। আজ হয়তো আরো অনেকেই দেবে বা দিয়েছে। কিন্তু আল মাহমুদ হাজির না হলে যেসব সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভা অলঙ্কৃত হতো না, পৌরহিত্য হতো না- তাদের কাউকেই দেখলাম না।
আল মাহমুদ ভাষা সৈনিক ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়ার অপরাধে পুলিশের তাড়া খেয়ে ঢাকা শহরে সেই যে এসেছিলেন, তারপর স্থায়ী হয়েছিলেন। প্রেসক্লাবে ঢাবি শিক্ষক ড. মামুনের কাছে শুনলাম, শহীদ মিনারে তার লাশ নেয়ার অনুমতি দেয়নি ঢাবি কর্তৃপক্ষ। কবি আবদুল হাই শিকদার ভাইয়ের কাছে শুনলাম, বাংলা একাডেমিতে তার লাশ নেয়া হলেও সেখানে কোনো জানাযার ব্যবস্থা করা হয়নি। আল মাহমুদ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন একথা কেউই অস্বীকার করে না। সব থেকে দুঃখজনক বিষয় শুনলাম, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্য গার্ড অভ অনারটুকু তাকে দেয়া হয়নি। একজন মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পাকিস্তানী হানাদারদের অধীনে চাকরী করে বেতন নিয়েও লিখলেন, ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সিঁথির সিঁদুর মুছে গেলো মুছে গেলো হরিদাসীর। তিনি হলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নিশান বরদার। আরেকজন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে লিখলেন, ‘আমাদের আজানই তো আমাদের স্বাধীনতা›। তাই তিনি হলেন রাজাকার। কোলকাতা থেকে যাদের কারণে বাংলা ভাষার সাংস্কৃতিক রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত হলো আল মাহমুদ তাদের পুরোধা। সেই ঢাকার বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে কবির জন্য সাড়ে তিন হাত জায়গা বরাদ্দ হলো না। মাহমুদ ভাইয়ের পরিবারের ইচ্ছা ছিলো জাতীয় ঈদগাহে জানাযা করার, কাজী নজরুল ইসলামের কররের পাশে কবর দেয়ার- কিন্তু সেসব ইচ্ছে পুরণ হয়নি।
মাহমুদ ভাই, এই অর্থগৃন্ধু সমাজ, বিভেদ মথিত, পরজীবী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ সমাজ আপনার লাশের সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেটা এই সমাজের লজ্জা। মাহমুদ ভাই, অভিমান করবেন না। আপনি আমাদের ক্ষমা করুন। আপনি জানেন, ‘আল মাহমুদ মানেই আদি অন্তহীন আজন্ম মিছিলের অনিবার্যতা›। আপনি তো বলেছিলেন, আপনার ‘যাত্রা অনন্ত কালের›। ‘উদয় ও অস্তের ক্লান্তি আপনাকে কোনো দিনই বিহবল করতে পারেনি›। মাহমুদ ভাই আপনি চেয়েছিলেন, কোনো ‘শুভ শুক্রবারে› আল্লাহর দূত আপনার কাছে আসুক। আল্লাহ আপনার কথা শুনেছেন। শুভ শুক্রবারেই আল্লাহ তার দূত পাঠিয়ে আপনাকে তার ‘সিংহাসনের নিচে› নিয়ে গেছেন। এ যে অসামান্য। আপনি পরাজিত হননি। আপনার গন্তব্যতো ‘এক সোনার তোরণের দিকে›। আপনি পৌঁছুতে চেয়েছিলেন,
‘প্রভূ তোমার সান্নিধ্যে’।
‘এই ভূ-পৃষ্ঠে নেই› এমন ‘সোনার তোরণ পেরিয়ে› সেই গন্তব্যে আপনি পৌঁছে গেছেন।
সেই মহাপ্রভুর ‘সিংহাসনের নীচে একটি ফুরফুরে প্রজাপতি হয়ে›। ভাল থাকুন মাহমুদ ভাই অনন্তকাল।



 

Show all comments
  • Md Saiful ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২৬ এএম says : 0
    শুধুমাত্র ইসলামি মূল্যবোধ অন্তরে ধারণ করার কারণে আপনাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এবার আপনার পুরস্কার প্রাপ্তির পালা। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আপনার দুনিয়ার জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে উত্তম কাজের বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান দিক।
    Total Reply(0) Reply
  • Mostakim Ahmed Palash ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২৭ এএম says : 0
    কী আশ্চর্য! কবি চেয়েছিলেন শুক্রবার দিন পৃথিবী ছাড়তে, সেটাই ঘটলো! নেই আর আমাদের আল মাহমুদ... কোনো এক ভোরবেলা, রাত্রিশেষে শুভ শুক্রবারে মৃত্যুর ফেরেস্তা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাকিদ; অপ্রস্তুত এলোমেলো এ গৃহের আলো অন্ধকারে ভালোমন্দ যা ঘটুক মেনে নেবো এ আমার ঈদ। স্মৃতির মেঘলাভোরে __আল মাহমুদ
    Total Reply(0) Reply
  • Ruhul Amin Cm ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২৭ এএম says : 0
    দেশ একজন সাহসী ও চিন্তাশীল কবিকে হারালো। মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। আমিন।
    Total Reply(0) Reply
  • Hridoy Hasan ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২৮ এএম says : 0
    মন থেকে দোয়া করছি আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের একজন করে যেন কবুল করেন। এই দেশে মূল্যায়ন করা হয় হুমায়ুন আহমেদ,জাফর ইকবালের মত নাস্তিকদের। ইনশাআল্লাহ আপনাকে মূল্যায়ন করবেন স্বয়ং আল্লাহ। ইনশাআল্লাহ ..
    Total Reply(0) Reply
  • Md Shah Alam Majumder ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২৮ এএম says : 0
    বাংলা সা‌হি‌ত্যের এ প্রজ‌ম্মের অন্যতম সেরা ক‌বি যার ভিতর অাধু‌নিকতা অার ঈমানী শ‌ক্তির এক‌টি অনন্য সমম্বয় বিদ্যমান ছিল। অাল্লাহ এ মহান ক‌বির নাজাত দান করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Iqbal Hossain ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২৯ এএম says : 0
    আপনি নিপীড়িত, উপেক্কিত, অবহেলিত, পাপ্য সম্মান আপনি পাননি,রাষ্ট্র আপনার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়নি,অপরাধ একটাই আপনি নাস্তিকতার ফুলঝুড়ি ছড়াননি।
    Total Reply(0) Reply
  • Mzh Zumon ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২৯ এএম says : 0
    বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন ছিলেন কবি আল মাহমুদ. তার লেখা কবিতাগুলো চিরদিন এই জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে. মহান রাব্বুল আলামীন যেন ইসলামের শ্রেষ্ঠ সন্তান কে কবুল করে নিন আমীন.
    Total Reply(0) Reply
  • Md Ali ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:৩০ এএম says : 0
    এ দেশ আপনার যথাযথ সম্মান দেয় নি
    Total Reply(0) Reply
  • Parvez Abul Kalam Sohel ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:৩১ এএম says : 0
    আল্লাহ যেন উনাকে মাফ করে দেন সেই প্রার্থনা করি
    Total Reply(0) Reply
  • Anwar Hossain ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:৩১ এএম says : 0
    আমরা কবি আলমাহমুদ সারের মিতূতে গভীর ভাবে শোকাহত উনার রুহের মাগপেরাত কামনা করছি
    Total Reply(0) Reply
  • Karamot Ali ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৯:২৭ এএম says : 0
    প্রিয় কবি ঘুমাও চির শান্তির ঘুম,
    Total Reply(0) Reply
  • সাদিয়া আক্তার রিয়া ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২০ এএম says : 0
    ঠিকই বলেছেন। এখন এই দেশের গণমাধ্যমকে ঠিক গণমাধ্যম বলা যায় না। জনগণ এবং তাঁদের চাওয়া থেকে আমাদের গণমাধ্যমের অবস্থান যোজন যোজন দূরে
    Total Reply(0) Reply
  • কাউছার হামিদ জীবন ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:১৬ এএম says : 0
    আহা! আফসোস এই জাতির। আল মাহমুদ কে না চেনা নয় বরং নিজেদের স্বত্ব বুঝতে না পারাই আজকের মিডিয়ার বড় নেতিবাচকতা।
    Total Reply(0) Reply
  • Mushfique Wadud ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:১৭ এএম says : 0
    কবি আল মাহমুদ কে দিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে বুঝতে পারা যায়। যেই গণমাধ্যম সেলিব্রিটিদের খবরা খবর ছাপানোর জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পরে সেখানে আল মাহমুদ বেশ খানিকটা সময়ই অনুপস্থিত ছিলেন। যেই কবিদেরকে আজিজ মা‌র্কেটে যাতায়াত করা লোকজনও ভাল ভাবে চেনে না তাদেরকে নিয়ে পুরো পেজ জুড়ে ফিচার ছাপানো হলেও আল মাহমুদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদ মাধ্যমে অবহেলিত ছিলেন বহু সময় ধরে । তাঁর কবিতা ভাল না, তিনি বড় কবি নন এমন আলোচনা কখনও শুনি নাই। তার বিরুদ্ধে "প্রগতিশীল" সংবাদক‌র্মীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো তিনি স্বাধীনতা বিরোধী একটি দলের কিছু প্রোগ্রামে যাইতেন অথবা ইসলামিস্ট হয়ে গিয়েছিলেন। সেই দলে তিনি যোগদান করেছিলেন এমন কোন সংবাদ কখনও শুনি নাই।
    Total Reply(0) Reply
  • সাদ বিন জাফর ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:১৮ এএম says : 0
    এই গণমাধ্যাম যে সব কবি আর লেখকদেরকে নিয়ে মেতে থাকে তাঁদের অনেকেই মুক্তিযু্দ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁদের অনেকেরই কোন ভূমিকা নেই। তাঁদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী শাসকদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ শোনা যায়। আর আল মাহমুদ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে এতটাই প্রবলভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন যে অনেক মুক্তিযোদ্ধা বলেছেন তাঁরা আল মাহমুদের কবিতা থেকে উদ্ভুদ্ধ হয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। আল মাহমুদের কথা কি এই সব গণমাধ্যমের পাঠক/দ‌র্শকরা পড়তে/শুনতে চাইতেন না? আল মাহমুদকে নিয়ে লেখাগুলোর স্যোসাল মিডিয়ার শেয়ার দেখলেই বোঝা যায় জনগণ অবশ্যই চাইতেন। এই যে পাঠক/দ‌র্শক চাওয়ার পরও দেশের বেঁচে থাকা সবচেয়ে বড় কবিকে শুধু আদ‌র্শ ভিন্ন হওয়ার কারণে গায়েব করে দেওয়া সংবাদ মাধ্যম গুলো আসলে গণমাধ্যম না। কিছু ব্যক্তির আদ‌র্শ বাস্তবায়নের মাধ্যম। জনগণের চাওয়া দিয়ে এই সংবাদ মাধ্যমগুলোর এজেন্ডা সেট হয় না। নিজেদের ইচ্ছা এবং আদ‌র্শ দ্বারা পরিচালিত হয়।
    Total Reply(0) Reply
  • জমির উদ্দিন সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:১৯ এএম says : 0
    এই যে একজন বড় কবিকে মিডিয়া থেকে গায়েব করে দিতে চাওয়া এইটা একটা মিডিয়া ফ্যাসিবাদ। যারা ভিন্ন আদ‌র্শের মানুষদেরকে শুধুমাত্র আদ‌র্শের কারণে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চায় তাদের সাথে এই মিডিয়া ফ্যাসিবাদীদের চিন্তা এবং তত্ত্বগত কোন পা‌র্থক্য নাই।
    Total Reply(0) Reply
  • Hasan Mahmud ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:১৯ এএম says : 0
    আমাদের মিডিয়ার আল মাহমুদকে গ্রহণ করতে না পারার সবচেয়ে বড় কারণ মনে হয় শ্রেণীগত। আল মাহমুদ জামায়াতের সাথে সখ্য হওয়ার আগে যে এই মিডিয়া তাঁকে নিয়ে খুব মাতামাতি করেছে বিষয়টা এমন না। শহুরে মধ্যবিত্তের কাছে আল মাহমুদ বড় সেকেলে, বড় গ্রাম্য। তারা চান- কবিতা এই শহুরে মধ্যবিত্তের কাছেই থাকবে, শহরে থেকে গ্রামীণ জীবনের আকুতি পাকুতি গাইবে কিন্তু গ্রাম, গ্রামের জীবন নিয়ে কবিতা আর কবিদেরকে তারা গ্রহণ করবেন না।
    Total Reply(0) Reply
  • SH Shohaiel ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২১ এএম says : 0
    বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি ' কবি আল মাহমুদ ' চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। আফসোস আমাদের জন্য আমরা তার গুরুত্ব বুঝতে পারিনি যথাযথভাবে মূল্যায়নও করতে পারিনি।
    Total Reply(0) Reply
  • M. A. Amin ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২২ এএম says : 0
    আফসোস আল মাহমুদ!! বাংলাদেশের সেরা ৫ জন কবির মধ্যে আল মাহমুদ অন্যতম এবং স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সেরা কবি নিঃসন্দেহে। চিন্তা, সৃজন ও মননের জগতে যে বন্ধ্যা, অনুর্বর সময় আমরা পার করছি তাতে আরেকজন আল মাহমুদ বাংলা ভাষায় জন্মাতে কত শত বছর লাগবে আমি জানি না। কিন্তু সেই কবির মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া দেখে আমি মর্মাহত, ব্যথিত। সকালে পত্রিকা খুলে, টিভির স্ক্রলে চোখ বুলিয়ে আল মাহমুদের মৃত্যুতে সরকারী শোক বাণী খুঁজলাম, পেলাম না।
    Total Reply(0) Reply
  • নিষ্ঠুর জাতী ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২৩ এএম says : 0
    আল মাহমুদ একদা জাসদ করতেন, বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, এরশাদ ঘেঁষা ছিলেন, এমনকি শেষ জীবনে যাদের সমর্থন করার কারণে অনেকেই আল মাহমুদকে বিতর্কিত বলেন সেই জামায়াত কারো বিবৃতিই চোখে পড়েনি। জামায়াতে মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামে আল মাহমুদের মৃত্যুর সংবাদই ছাপেনি। আল মাহমুদের একটি কবিতা, লেখা না হলে যেসব পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা মর্যাদা পেতো না সেসব পত্রিকায় আল মাহমুদের মৃত্যু সংবাদের ট্রিটমেন্ট দেখে দীর্ঘশ্বাস পড়েছে।
    Total Reply(0) Reply
  • মিরান হাবিব ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:২৫ এএম says : 0
    স্যার আপনার সাথে একমত। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে প্রেসক্লাবে আল মাহমুদের জানাযায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে এসে আরো মন বিষিয়ে উঠল। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত, জনপ্রিয় ও বিপ্লবী পত্রিকা জাসদের মুখপত্র গণকণ্ঠের সম্পাদক ছিলেন আল মাহমুদ। এ পত্রিকা সম্পাদনার দায়ে জেল খেটেছেন তিনি। কিন্তু তার কফিনের পাশে জাসদ সমর্থক কোনো সাংবাদিককে দেখলাম না। একটি বিশেষ ধারার কর গণ্য কিছু সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের দেখলাম।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন