Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা ও ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত

কুষ্টিয়ার হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবন ধসের ঘটনায়

স্টাফ রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবন ধ্বসের ঘটনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
তিন জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভূক্ত করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবন ধ্বসের ঘটনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়. কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের অধীন হাসপাতাল ভবনের পোর্চ নির্মাণকালীন গত ১৭ জানুয়ারি নির্মণাধীন ছাদ ধ্বসে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ১জন শ্রমিক নিহত হয় ও ০৫জন শ্রমিক আহত হয়। দুর্ঘটনার কারণে প্রাথমিক তদন্ত করে গণপূর্ত অধিদপ্তর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে বর্ণিত নির্মাণ কাজের সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), মো, আব্দুর রশিদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। একইসাথে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো, ইমরুল চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুততার সাথে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্তক মিটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে গত ২২ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব বরাবর দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের ৩ জন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দুইটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বর্ণিত ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে বর্ণিত নির্মাণ কাজে দায়িত্বে অবহেলার কারণে গত ৩১ জানুয়ারি কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এ. জেড. এম. শফিউল হান্নান এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) আব্দুল মোতালেবকে সরকারি চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকৃত ৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভূক্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হলে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৫৪(৭) এবং বিধি ১২৭ (৪) (গ) অনুযায়ী বর্ণিত দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানদ্বয়কে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ বছরের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোন ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এ বিষয়ে দ্রুততার সাথে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাগিদ প্রদান করেছেন। মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গণপূর্ত অধিদপ্তর পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন