Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

আমরা বিভিন্ন সময় দেখতে পাই, কিছু লোক প্রস্রাব করার পর লুঙ্গির একপাশ উচুঁ করে ঢিলা দিয়ে পুরুষাঙ্গ ধরে ৪০ কদম হাঁটাহাঁটি করেন। বিভিন্নরকম অঙ্গভঙ্গি করেন। নানারকম কাশির মতো শব্দ করেন। ক্ষেত্রবিশেষে প্রকাশ্যে এ ধরনের ঘটনা অনেক সময় বিব্রতকরও হয়। প্রস্রাব করার

আলী আকবর
ইমেইল থেকে

প্রকাশের সময় : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:১২ এএম

ইসলামে পবিত্রতার গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ, এটি হাদিসের কথা। নবী করিম সা. বলেছেন, তোমরা পেশাব থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, অধিকাংশ কবরের আজাব এ জন্যই হয়ে থাকে। পবিত্র কোরআন শরীফে মসজিদে কুবায় অবস্থানকারী একদল সাহাবীর পবিত্রতা অর্জনের বিষয়টি আল্লাহ তায়ালার খুব পছন্দ হয়। তিনি প্রসঙ্গ তাদের উল্লেখ করেন। বলেন, সে মসজিদে কিছু মানুষ এমন আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। তাফসীরে আছে, এ সাহাবীরা পেশাবের পর ঢিলা ব্যবহারের পাশাপাশি পানিও ব্যবহার করতেন। এ পটভ‚মিকার পর সকলের অবগতির জন্য বলতে চাই, পেশাব পায়খানা থেকে ১০০% পবিত্র না হলে অজু ও নামাজ একটাও সহীহ হবে না। অতএব, মূল লক্ষ্য পেশাব থেকে পবিত্র থাকা। যার শারীরিক সুস্থতা ও সক্ষমতা অটুট আছে, তার জন্য পানি ব্যবহার কিংবা ঢিলা ব্যবহার যথেষ্ট। উভয়টি ব্যবহার করা অধিক পছন্দনীয়। তবে, পুরুষের একটি সময় এমন আসে যখন পেশাব শেষ করে পানি ব্যবহার করে উঠে যাওয়ার পরও এক দু’ফোটা পেশাব পুনরায় বের হয়। যা অজু আগে হলে কাপড় নাপাক হয়, অজুর পর হলে অজু ভেঙ্গে যায়, নামাজের ভেতর হলে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। এ সমস্যা যার তার পক্ষে পেশাবের পর সামান্য হাঁটাচলা করে, কাশি দিয়ে, প্রয়োজনে উঠবস করে শেষ পেশাবটুকুও বের করা জরুরী হয়ে পড়ে। ঢিলা বা টিস্যু থাকলে ফোটাগুলো শুষে নেয়। পেশাব আর হবে না এমত প্রত্যয় জন্মালে পানি ব্যবহার করা উত্তম। এ সমস্যাটুকু যার আছে (সব পুরুষেরই জীবনের নানা সময়ে এমন হয়েই থাকে) তার জন্য এসব কৌশলে পবিত্র হওয়া জরুরী। যার সমস্যা নেই, তার জন্য এতকিছুর প্রয়োজন নেই। অবশ্য মানুষের সামনে, দৃষ্টিকটু হাঁটাচলা, কাশি ইত্যাদি নিষিদ্ধ। যা অশ্লীল পর্যায়ে চলে যায় এবং ইসলামের সুন্দর ফিচারকে কলুষিত করে। আপনার প্রশ্ন ঠিকই আছে। কিন্তু প্রশ্ন এখানে পবিত্রতার। প্রয়োজন হলে অফিসে বা আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও যেভাবেই পারেন, পেশাব থেকে পবিত্র হবেন। তবে, খেয়াল রাখবেন, এসব কাজ যেন ফ্রেশ হওয়ার মতই আড়ালস্থানে শালীন উপায়ে হয়। ব্যক্তিগত এ কাজটি অবিবেচক, নির্লজ্জ ও দৃষ্টিকটু উপায়ে করা না হয়। মনে রাখতে হবে, হাদিসের বাণী ‘পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ’ যেমন আমলযোগ্য। ‘লজ্জা শরম ঈমানের অঙ্গ’ এ বাণীটিও কম প্রণিধানযোগ্য নয়।

সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতাওয়া বিশ্বকোষ।
উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী

ইসলামিক প্রশ্নোত্তর বিভাগে প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা
inqilabqna@gmail.com



 

Show all comments
  • রাসেল ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১০:০৯ এএম says : 0
    মুফতি সাহেবকে অসংখ্য ধন্যবাদ
    Total Reply(0) Reply
  • আসলাম ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১০:১১ এএম says : 0
    বিষয়টি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারনা পেলাম
    Total Reply(0) Reply
  • বশির ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১০:১২ এএম says : 0
    সকল পত্রিকায় এমন একটি বিভাগ চালু করা উচিত।
    Total Reply(0) Reply
  • Shamsul Alom ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:১০ পিএম says : 0
    মুফতি সাহেবকে অসংখ্য ধন্যবাদ, বিষয়টি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারনা পেলাম.
    Total Reply(0) Reply
  • Jakir Ahmed Razi ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১০:৪৩ পিএম says : 0
    ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি
    Total Reply(0) Reply
  • MD Hasan ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৫:০৯ এএম says : 0
    When a person die, Muslims feed people on 4th day, also on 40th day. There is a trend now a days, people even rent club , arrange extravagant dinner. Is it allowed in Islam? Please explain ... Thanks, MD, Hasan Kansas, USA
    Total Reply(1) Reply
    • Syed Abdur Rahman, Jeddah ৬ মার্চ, ২০১৯, ১১:১৪ এএম says : 0
      In Islam, feeding people is one of the best worships. Hadis, our Prophet SM said, donate a piece of bread, which is greater than one thousand rakhat nawfal namaaj. So, feeding on any day after a person dies for his/her magferaat is considered as a source of magfiraat. It's better not to be extravagant i.e. a very rich man can feed people many times when his parents die for their magfiraat. zazak Allah khairaan.....
  • আনোয়ার ১ মার্চ, ২০১৯, ৭:৩১ এএম says : 0
    মাশায়াল্লাহ
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রশ্ন :


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ