Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ০২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

২০০ টাকায় ২২ কেজি পেঁয়াজ, গ্রামে গ্রামে মাইকিং

মেহেরপুর জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১১:৪৪ এএম

‘পেঁয়াজ কিনবেন গো পেয়াজ!’ ১০০ টাকায় ১০ কেজি। ২০০ টাকার কিনলে পাচ্ছেন ২২ কেজি। এভাবেই মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে মাইকিং ও বিভিন্ন অফারে বিক্রি করা হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ।

লাভের আশায় প্রতিবারের ন্যায় এবারও সুখ সাগর পেঁয়াজের চাষ করে আশায় বুক বেধেঁছিলেন মেহেরপুরের কৃষকরা। কিন্তু সুখসাগর পেঁয়াজ চাষ করে লাভ তো দুরের কথা লোকসান গুনতেই হাফিয়ে উঠেছে এ এলাকার পেঁয়াজ চাষীরা। তারা বলছেন, প্রতিবছরই সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষ করে আমাদের কমবেশি লাভ হতো। তাই এবারও পেঁয়াজ চাষ করেছি, ফলনও হয়েছে আগের মতো ভাল। কিন্তু এবারের চাষে লাভের মুখতো দুরের কথা লোকসান গুনতে আমাদের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে।

মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের এক কৃষক জানান, বিঘা প্রতি সুখসাগর পেঁয়াজ ১২০ মণ করে হয়। গত বছর চাষীরা শুরুতেই মণ প্রতি দাম পেয়েছিল ৭২০ টাকা। শেষের দিকে গিয়ে সে দাম গিয়ে দাড়ায় ৫০০ টাকার কাছে তাতেও কৃষকদের লাভ ছিল। সেই আশায় এবারও এ এলাকার কৃষকরা সুখসাগর পেঁয়াজের চাষ করে। এলাকার কৃষকরা জানান, এবার উৎপাদনের শুরু থেকেই দাম নেই সুখ সাগর পেঁয়াজের। মৌসূমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম ২৭০ টাকার বেশি পাওয়া যায়নি। এতে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলতে শ্রমিকদের যে মজুরিদের দিতে হয় তা ঘর থেকে দিতে হয়। ভাল চাষ হলে বিঘা প্রতি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১২০ মণ, যাতে খরচ হয় ৩২ হাজার ৭৫০ টাকা, বর্তমান বাজারে তা বিক্রয় করতে হচ্ছে ২৭০ টাকা মণ দরে। তাতে বিঘা প্রতি আসে ৩২ হাজার ৪০০ টাকা করে। এতে করে কৃষকের গাঁট থেকে টাকা গুনতে হচ্ছে। তাই এলাকার কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে পারছে না সুখসাগর পেঁয়াজ।

জানতে চাইলে কয়েকজন কৃষক বলেন, এবার ভারত থেকে আগেই পেঁয়াজ আমদানি করার কারণে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। মেহেরপুর জেলায় ৮০০ হেক্টর জমিতে এ বছর পেঁয়াজের চাষ করা হয়। এর মধ্যে মেহেরপুর-মুজিবনগরের শিবপুর এলাকাতেই প্রায় ৫ হাজার বিঘাতে এবারে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজের চাষ করা হয়েছে। এবারে পোঁজ চাষে এ এলাকার কোন চাষীর মুখে হাসি নেই।

এদিকে লোকসানের হাত থেকে কিছুটা বাঁচতে পেঁয়াজের ক্ষেতে কোন কোন কৃষক কলার আবাদ শুরু করেছেন। কৃষকরা জানান, সুখসাগর পেঁয়াজ চাষ শুরু করতে হয় আশ্বিন মাসের ১৫ তারিখ থেকে আর তার উৎপাদন শুরু হয় পৌষ মাসের শেষ সপ্তাহ হতে মাঘ মাসের শেষ পর্যন্ত। এতদিন একটি ফসলের ক্ষেত একটি আবাদে ফেলে রাখার পরও যদি লোকসান গুনতে হয় তাই কেউ বিকল্প হিসেবে একই ক্ষেতে কলার চাষ করছেন। তবে এলসির মাধ্যমে পেয়াজ আমদানী বন্ধ হলে দাম ভাল পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন কৃষকরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাইকিং
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ