Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

চবিতে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও গুলি, আহত ১৩

চবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

গত শুক্রবার রাতভর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ১৩ জন কর্মী আহত হয়। বিবাদমান দুই পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইন গ্রুপ ও উল্কা। এ দুটি গ্রুপ সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দু’পক্ষের কর্মীরা বর্তমান হলে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান নিয়ে আছে বলে জানা যায়।
সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রসুল নিশানকে নগরীর লালখান বাজার থেকে অপহরণ ও মারধর করা হয়। এর জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অনুসারী উল্কা গ্রুপের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় মূলফটকের সামনে তালা দিয়ে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ করে। এ ঘটনায় সিক্সটি নাইন গ্রুপের সিনিয়র কয়েকজন নেতা-কর্মীকে দোষারোপ করে।
বিক্ষোভ চলাকালে সিক্সটি নাইনের নেতা-কর্মীরা উল্কার নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেন। পরে উল্কার পক্ষে এসে যোগ দেয় ভার্সিটি এক্সপ্রেস, একাকার, ও বাংলার মুখসহ আরও কয়েকটি সংগঠন। এ সময় পাঁচ রাউন্ড গুলি ও চারটি ককটেলের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দুই পক্ষই একে অপরকে ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করে। এছাড়া দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। পরে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে সিক্সটি নাইন গ্রুপের এক কর্মী খাবার খেতে বের হলে উল্কা গ্রুপের কয়েকজন কর্মী ধাওয়া দেয়। পরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতরা সবাই সিক্সটি নাইনের কর্মী। আহতদের মধ্যে ধ্রুব ও অর্ণবকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চবি মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, আহতদের মধ্যে তিন জনের মাথায়, চোখে ও হাতে বেশি আঘাত থাকায় তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের বিষয়ে ভিএক্স গ্রুপের নেতা মিজানুর রহমান বিপুল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, গোলাম রসুল নিশান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। তাকে অপহরণ করে মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় সিএক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা বিনা উস্কানিতে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করে। সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, নিশানের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা খুবই দুঃখজনক। তবে নগরীর ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি চক্র অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে তবে আমরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এছাড়াও ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ