Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

আরো দু’জনের পরিচয় শনাক্ত

চকবাজার ট্র্যাজেডি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৬ এএম


* ৩৬ স্বজনের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ
* ১৯ লাশ বিভিন্ন হাসপাতালের ফ্রিজে
* বার্নের ৯ জনের অবস্থা অপরিবর্তিত

 

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াজেদ ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরও দু’জনের পরিচয় মিলেছে। গতকাল তাদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এনিয়ে অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া ৬৭টি লাশের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৪৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বাকি ১৯ লাশের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য গতকাল পর্যন্ত দাবিদার ৩৬ স্বজনের কাছ থেকে ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৯ জনের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তারা সবাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ঢাকা মেডিক্যাল, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে এসব বিষয় জানা গেছে।
চকবাজার থানার এসআই মুনশি আবদুল লোকমান বলেন, সকালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার নাটেশ্বর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও একই গ্রামের মো. জাফর আহমেদের লাশ শনাক্ত করেছে তাদের পরিবার। মঞ্জুর লাশের নম্বর ৪১ ও জাফরের ৬১। নিহত দু’জনের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএর নমুনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখনও ১৯ জনের লাশ শনাক্ত হয়নি।
নিহত আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই মাইনুল হোসেন মহিউদ্দিন বলেন, তার ভাই লালবাগ রয়েল হোটেলের বিপরীতে একটি বাসায় থাকতেন। চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশে হায়দার মেডিকো ফার্মেসির মালিক ছিলেন তিনি। ঘটনার সময় ফার্মেসির ভেতরেই ছিলেন তিনি। মাইনুল বলেন, আমরা ৫০ থেকে ৬০টি লাশ দেখেছি। শুক্রবার রাতে আমি ও আমার আরেক ভাই মিলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করি। তিনি বলেন, আমরা ভাইয়ের গায়ের শার্টের অংশবিশেষ ও শরীর দেখে লাশ চিনতে পারি। এছাড়া আমাদের দোকান পুড়ে যাওয়ার পর সেখানকার ভিডিও ধারণ করেছিলাম। যা দেখে সেখানে পড়ে থাকা লাশের সঙ্গে মিলিয়ে আমরা শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।
মাইনুল আরও বলেন, তার ভাই ২০ বছর ধরে চকবাজারে ব্যবসা করেন। সেদিন বিস্ফোরণের পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের পরে আমরা দোকানের সামনের ডেস্কে একটি পুড়ে যাওয়া লাশ এবং ভেতরে আরও তিনটি লাশ দেখতে পাই। তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের এক ছেলে ও এক মেয়ে। তারা শুধু বলে- চাচ্চু আমার বাবার লাশাটি শুধু একবার দেখতে চাই।
এদিকে জাফর আহমেদের বড় ছেলে রাজী আহমেদ বলেন, তার বাবা প্লাস্টিক ব্যবসায়ী ছিলেন। কাঁচামাল কিনতে সেদিন চকবাজার গিয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। পরবর্তীতে তিনিসহ অন্যান্য স্বজনরা ঘটনাস্থলসহ ঢামেক হাসপাতালে খুজেও লাশ শনাক্ত করতে পারেন নাই। তবে শুক্রবার রাতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে গিয়ে তিনি ও অন্যান্য স্বজনরা তার বাবার লাশ শনাক্ত করতে সক্ষম হন। রাজী বলেন, তার বাবার পরনের শার্ট দেখে লাশ শনাক্ত করতে পেরেছি। এছাড়া পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডিএনএর নমুনাও সংগ্রহ করেছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এসআই (ডিএনএ, পরীক্ষক) মাসুদ রাব্বি সবুজ বলেন, অশনাক্ত হওয়া বাকি ১৯ লাশের জন্য দাবিদার মোট ৩৬ জন স্বজনের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া আগামীকাল (আজ) থেকে সিআইডির মূল অফিসের ডিএনএ বিভাগে নমুনা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নমুনা হিসেবে বড়দের ক্ষেত্রে রক্ত ও বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভোকাল সোয়াব (গালের মাংস) নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা ডিসি অফিসের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ৪৬ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ (গতকাল) দু’জনের লাশ স্বজনরা শনাক্ত করেছেন। পরে যাচাই শেষে দু’জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একইসাথে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য লাশের দাবিদার নিকট আত্মীয়দের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
জানা গেছে, অশনাক্ত লাশগুলোর মধ্যে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪টি, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৪টি, কুর্মিটোলায় ৩টি, হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ৫টি ও ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের ফ্রিজে ৩টি লাশ সংরক্ষণ করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল মর্গের ফ্রিজ নষ্ট থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ লাশগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে সংরক্ষণের জন্য পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট জানা গেছে।
বার্ন ইউনিটের ৯ জনের অবস্থা অপরিবর্তিত
এদিকে, ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ৯ জনের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এই ৯ জনই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক। বাকি চারজনও আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। সামন্ত লাল সেন বলেন, বার্ন ইউনিটে থাকা সর্বশেষ ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এই পাঁচজন সম্পূর্ণ ঝুঁকিতে রয়েছেন। বাকি চারজনও ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, বাকী চারজনের প্রত্যেকের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। শ্বাসনালী পুড়ে গেলে রোগীরা ঝুঁকিতে থাকেন।
আইসিইউতে থাকা পাঁচজন হলেন- আনোয়ার হোসেন, রেজাউল করিম, মো. সোহাগ, জাকির হোসেন ও মোজাফফর হোসেন। এছাড়া পোস্ট অপারেটিভে ভর্তি থাকা চারজন হলেন- মাহমুদুল হক, মো. সেলিম, মো. হেলাল ও মো. সালাউদ্দিন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট ৬৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও ঢাকা জেলা প্রশাসন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চকবাজার ট্র্যাজেডি

৭ মার্চ, ২০১৯
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ