Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫, ১৮ রজব ১৪৪০ হিজরী।

চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে আমুকে দুষলেন দিলীপ বড়ুয়া

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে দুষলেন আরেক সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও সাম্যবাদি দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া। তিনি বলেন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন ও কারখানা সরানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে এতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না। 

গতকাল চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় চৌদ্দ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দিলীপ বড়–য়া বলেন, আমাদের যে শিল্পমন্ত্রী ছিলেন, উনি যদি সিরিয়াসলি বিষয়টি টেকআপ করতেন তাহলে হয়তো এতদিনে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন রিলোকেট করা সহজ হত।
তিনি বলেন, আমি মন্ত্রী থাকাকালে কেমিক্যাল মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বিসিকের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তারা ঢাকার বাইরে একটি জমিতে স্থানান্তরিত হবে। এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল। কিছু ডিসক্রিটের কারণে পুরো ব্যাপারটি এগোয়নি। তিনি আরো বলেন, যারা স্টেক হোল্ডার আছেন, তারা সরকারকে বাধ্য করতে পারেনি। ভবন মালিকদেরও দায় আছে। তারা বেশি ভাড়া পাওয়ার জন্য গোডাউন ভাড়া দেয় এবং ব্যাপারটি লুকিয়ে রাখে। এ সময় রাসায়নিকের মজুতের সনদ দেয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশনকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই শিল্পমন্ত্রী।
চকবাজারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নেতারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এরকম ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১০ সালে নিমতলীতে একই ধরণের ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। ওই দুর্ঘটনায় ১২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিলে চকবাজারের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া গেলেও সঠিক সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত সংখ্যা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তারা।
প্রতিনিধি দল মনে করে, আবাসিক এলাকায় দাহ্য পদার্থ বা কেমিক্যাল রাখা উচিত নয়। অবিলম্বে এসব কেমিক্যাল কারখানা নিরাপদ স্থানে সরাতে হবে। দ্রুত এই ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে হতাহতদের চিকিৎসায় সন্তোষ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, জাসদ নেতা নাদের চৌধুরী, জেপি নেতা এজাজ আহমেদ মুক্তার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, সদস্য হামিদুল কিবরিয়া চৌধুরী প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন