Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা

কাশ্মীরিদের অধিকার সুরক্ষায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান তুমুল উত্তেজনার মধ্যেই কাশ্মীর সীমান্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুদেশের সেনাদের গুলি বর্ষণের কারণে সরিয়ে নেয়া হয়েছে সীমান্তের বাসিন্দাদের। এ অবস্থায় পাকিস্তানকে সময় মতো সমুচিত জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীনরা। আক্রান্ত হলে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকেও নয়া দিল্লিকে দেখে নেয়ার পাল্টা হুমকি এসেছে। এর মধ্যে থমথমে কাশ্মীরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, তবে ভারত সরকারই কাশ্মীরীদের হেনস্থা করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক সেসময় কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার নওসেরা সেক্টরে দুই দেশের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে হঠাৎই হামলা চালায় পাকিস্তানী সেনারা। পরে ভারতীয় সেনাবাহিনীও এর পাল্টা জবাব দেয়। মধ্যরাত পর্যন্ত হামলা-পাল্টা হামলা চলে বলে জানায়, স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। একই ঘটনা কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরেও। সেখানেও দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির খবর মিলেছে। এ অবস্থায় দুই দেশের সীমান্ত থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় নয়া দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিকে, কাশ্মীর জুড়ে নামানো হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। এ অবস্থায় কাশ্মীরীদের অধিকার সুরক্ষায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। ভারত সরকার সাধারণ মানুষের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। পাকিস্তানের করাচিতেও ভারতের কাশ্মীরবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়। এদিকে, সতর্ক ভারত দ্রæতই পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন বিজেপি›র সভাপতি অমিত শাহ। উত্তরপ্রদেশে এক জনসভায় অমিত এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি›র সরকার জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে। স্বাধীনতার পর অন্যরা যা পারেনি, বিজেপি তা করে দেখিয়েছে। আমরা গত পাঁচ বছরে শত্রুর গুলির জবাব গুলিতে দিয়েছি, কূটনীতির মাধ্যমে দিয়েছি, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে দিয়েছি। পাল্টা বক্তব্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কারাম জাভেদ বাজওয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত কোনো হামলা চালালে তা হবে দুঃসাহসিক কাজ। যেকোনো পরিস্থিতিতেই নয়া দিল্লিকে ইসলামাবাদ কঠোর জবাব দিতে পারবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এছাড়া, ভারত যৌথ নদীর গতিপথ পরিবর্তন করলে পাকিস্তানের জন্য তা উদ্বেগের বিষয় নয় বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সন্ত্রাসীদের হাতে যাতে অর্থ না পৌঁছয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করা ফিনানসিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে। ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামী অক্টোবরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদীদের অর্থের জোগান বন্ধ না করতে পারলে ইসলামাবাদকে কালো তালিকায় ফেলা হবে। এনডিটিভি, টিওআই, পিটিআই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ