Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬, ১৮ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম রাত কেটেছে খালেদা জিয়ার - সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

চকবাজারে চুড়িহাট্টায় অগ্নিকান্ডে ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সারারাত নির্ঘুম উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আমরা দেশনেত্রীকে নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন-উৎকন্ঠিত এবং আতঙ্কিত। কারণ বেগম জিয়াকে যে পরিত্যক্ত কারাগারে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে তার চারপাশে রাসায়নিক বিস্ফোরকের ডিপো। সেখানে তিনি একমাত্র বন্দি।
চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানসন থেকে নাজিমউদ্দিন রোডে দেশনেত্রীর কারা প্রকোষ্ঠের দূরত্ব মাত্র দেড় থেকে দুই শত মিটার। অগ্নিকান্ডের দিন সারারাত চারদিকে বিকট শব্দ, মানুষের আর্তচিৎকার, রাসায়নিক বিস্ফোরণের ভয়ঙ্কর ও বিকট শব্দ গ্রাস করেছিল আশপাশের সকল এলাকা। অল্প দূরত্বে নির্ঘুম উৎকন্ঠায় কেটেছে চরম অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার। আর আমরা গভীর উৎকন্ঠা নিয়ে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর নিরাপত্তার জন্য দোয়া করেছি। তাঁকে এক অশুভ উদ্দেশ্যে ভয়াবহ বিপজ্জনক পরিবেশে বন্দী করে রেখেছে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী। গতকাল (রোববার) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় অগ্নিকান্ডে নিহত প্রায় একশত মানুষের মৃত্যুতে গোটা জাতির সাথে আমরাও শোকাহত। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে শনিবার সারা দেশে শোক দিবস পালন করেছি। এখনো নিখোঁজ ১৫ জনের অধিক। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দগ্ধরা কাতরাচ্ছে। স্বজনদের কান্না আর বুক ফাটা আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এই মিডনাইট অবৈধ সরকার পুরান ঢাকার মৃত্যুপুরীর মৃত্যুর মিছিল নিয়ে কেবল বাগাড়ম্বর করছে। পুরান ঢাকায় মৃত্যুর সঙ্গে বসবাস করছেন বাসিন্দারা। আর সরকার নিজেদের অবৈধ মসনদ সুরক্ষায় গ্রেফতার-মামলা-অত্যাচারে ব্যস্ত। তথাকথিত উন্নয়নের নামে পকেট ভারী করা হয়েছে, অথচ জনগণের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি।
তিনি বলেন, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) জরিপ করে জানিয়েছে, পুরান ঢাকায় ২ হাজারেরও বেশি কলকারখানা এবং ২২ হাজার গুদাম ও দোকান রয়েছে। সরকার পুরান ঢাকায় ৮০০ এর বেশি অবৈধ রাসায়নিক গুদাম এবং কারখানা চিহ্নিত করেছে। ওয়াহেদ ম্যানসনের বেজমেন্টে লাশের সন্ধানে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যালের চোরাই গোডাউনের সন্ধান পেয়েছেন। সেখানে শত শত বস্তা, প্লাষ্টিকের ড্রাম আর টিনের মাঝারি সাইজের ড্রামে আয়রন অক্সাইড, আয়রনিক ইয়ালো, অক্সাইড রেডবার ও এসিড গ্রিন পেয়েছেন। তারা বলেছেন, কোনোভাবে আগুন নিচে গেলে এমনভাবে বিস্ফোরণ ঘটতো যা বিল্ডিংটিকে উড়িয়ে নিয়ে যেত। তখন এই আগুন এক থেকে দুই শত মিটার পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়তো। কী হতো জানিনা, এটি ভাবলেই অজানা আশঙ্কায় শিউরে উঠতে হয়। তখন কারাগারে দেশনেত্রীর কি হতো তা মহান আল্লাহ জানেন। এ নিয়ে কথা বলতে গা শিউরে উঠছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম জিয়ার কারাগারের চারদিকে এই বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের গুদাম, কারখানা ও দোকান ভরা। গোপনে এরকম কত কেমিক্যাল গোডাউন আছে তা খোদ কর্তৃপক্ষই জানেনা। চুড়িহাট্টার একদিন পর গত শুক্রবার রাতে পুরান ঢাকার সিদ্দিক বাজারে গ্যাসের একটি পাইপ লাইন থেকে অগ্নিকাÐের ঘটনা ঘটেছে। চার বছর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কম্বল তৈরির কারখানায় আগুন লাগার ভয়াবহতা আমাদের এখনো মনে আছে। গত বছরের ২৬ ফেব্রæয়ারি থেকে দেশনেত্রীকে যে কক্ষে বন্দী রাখা হয়েছে তার ১৫০ গজের মধ্যে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারে অগ্নিকাÐের ঘটনা ঘটেছে।
রিজভী বলেন, শুধুমাত্র প্রতিহিংসার লেলিহান অনলে দগ্ধ শেখ হাসিনা অবৈধ ক্ষমতার জোরে এমন একটি কেমিক্যাল বিস্ফোরক বেষ্টিত ভয়ংকর বারুদের ডিপোর মাঝখানে আতঙ্কজনক পরিবেশে দেশনেত্রীকে এক বছর বন্দী রেখেছেন।
সরকারকে পদত্যাগ করার আহŸান জানিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, সরকার চকবাজার ট্রাজেডির দায় এড়াতে পারে না। তিনি বলেন, এই ঘটনার দায় যেহেতু স্বীকার করেছেন এখন পদত্যাগ করুন। স্বচ্ছ ভোট জালিয়তির সাফল্যের মৌতাতে বুঁদ হয়ে থাকবেন না। দেশবাসিকে দয়া করে রেহায় দিন। পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক সভ্য দেশে এই বিভীষিকাময় ঘটনা ঘটলে দায় স্বীকার করে সরকার পদত্যাগ করতো। এসময় সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, শওকত মাহমুদ, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, মীর আলী নেওয়াজ, আমিরুল ইসলাম খান আলিম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে ৫ চিকিৎসক
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ৫ চিকিৎসক।
সূত্র জানায়, গতকাল (রোববার) বিকেল তিনটার দিকে এই পাঁচ চিকিৎসক পুরান ঢাকায় নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে যান। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারা কারাগারে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
পাঁচ সদস্যের এই চিকিৎসকদের দলে ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডাক্তার মো. আব্দুল জলিল চৌধুরী, রিউমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার শামীম আহমেদ, কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার তানজিলা পারভিন, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার বদরুন্নেসা আহমেদ এবং অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার চৌধুরী ইকবাল মাহমুদ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী


আরও
আরও পড়ুন