Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

মেসিময় এক কাব্যিক ম্যাচ

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

লা লিগায় সেভিয়ার মাঠ থেকে রোমাঞ্চকর এক জয় নিয়ে ফিরেছে বার্সেলোনা। দুই বার পিছিয়ে পড়া ম্যাচে ক্যারিয়ারের ৫০তম হ্যাটট্রিক করে দলকে জয় উপহার দিয়েছেন লিওনেল মেসি। লুইস সুয়ারেজের করা অন্য গোলটিও ছিল তার অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত পাসের সফল পরিসমাপ্তি।
উল্লেখিত খবর ফুটবল প্রেমীদের কাছে অজানা নয়। পরশু রাতে সেভিয়ার রোমান সানচেজ পিজুয়ান স্টেডিয়ামের ম্যাচটি অনেকে সরাসরি টিভি পর্দায় বা ফেসবুকে দেখেছেন। আর যাদের দেখার সৌভাগ্য হয়নি, তারা পুরো ম্যাচের হাইলাইটস পেতে পারেন প্রতিপক্ষ কোচ পাবলো মাচিনের হতাশামিশ্রিত চারটি বাক্যে, ‘আমি এবং আমার কোচিং স্টাফ মিলে গত সোমবার থেকে পুরো এক সপ্তাহ পরিকল্পনা করেছি কিভাবে মেসিকে আটকানো যায়। এরপরও সে তিনটা গোল এবং একটা গোলে সহায়তা করলো। আমি বুঝতে পারলাম বিশ্বে এমন কেউ নেই যে তাকে আটকে রাখতে পারে। সে যে ইতিহাসের সেরা, এতে কোন সন্দেহ নেই।’
এক কথায় বলতে গেলে পুরো ম্যাচ ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’। মাঝমাঠে তেমন সুবিধা করতে পারেননি কেউ। দুর্দান্ত খেলতে থাকা স্বাগতিক সেভিয়া প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকে ২-১ গোলে। প্রয়োজনে তাই রক্ষণেও নামতে দেখা গেছে মেসিকে। অথচ খাঁদের কীনারা থেকে দলকে উদ্বার করতে বারংবার এগিয়ে আসা আর্জেন্টাইন তারকা এটাকে শ্রেফ একটা জয় হিসেবেই দেখছেন, ‘আজ আমরা আবারও নিজেদের সেরা ছন্দে ছিলাম এবং অসাধারণ পারফম্যান্স দেখালাম।’
পাঁচ বারের বর্ষসেরা খুশি দল ছন্দে ফেরায়। বিশেষ করে সামনের দুই ম্যাচের কথা বিবেচনায় আনলে এদিন ছন্দে ফেরাটা লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের জন্য ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন দুই ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। দুটি ম্যাচই আবার রিয়ালের মাঠে। সান্তিয়াগো বার্নাবুয়ে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে দু’দলের মধ্যকার কোপা দেল রের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ। এর তিন দিন পর অর্থাৎ আগামী শনিবার একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লিগ ম্যাচের ফিরতি পর্বে মাঠে নামবে আর্নেস্তো ভালভার্দের দল। লিগে এক ম্যাচ বেশি খেলে দশ পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়ার পরও তাই স্বতর্ক মেসি, ‘এখন আমাদের সামনে কঠিন কিছু ম্যাচ আছে। আর সবকিছুই আরও কঠিন হয়ে উঠবে কারণ মৌসুমটা শেষের দিকে এগাচ্ছে।’
৩১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড স্বরণ করলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কোপা দেল রে ও লা লিগা মিলে শেষ ৫ ম্যাচের মধ্যে চার ম্যাচ ড্র করার কথা, ‘আমরা একটা কঠিন সময় পার করলাম, যেখানে সত্যি বলতে আমরা নিজেদের সেরা ফুটবলটা খেলিনি। তাই গোল গোল করাটা আমাদের জন্য আরও বেশি কঠিন ছিল।’ অথচ সেই কঠিন কাজটাই কত অবলীলায় করে ফেললেন মেসি! ক্যারিয়ারে এদিন পূর্ণ করেছেন ৬৫০ গোলের মাইলফলক। লা লিগায় করলেন ৩২তম হ্যাটট্রিক। প্রতিযোগিতায় তার চেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর, ৩৪টি। তবে পর্তুগিজ তারকাকে একটা জায়গায় ছাড়িয়ে গেছেন বার্সা সুপারস্টার। লা লিগায় নির্দিষ্ট কোন দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ গোল এখন মেসির, ২৮টি, সেভিয়ার বিপক্ষে। আর সব প্রতিযোগিতা মিলে সেভিয়ার বিপক্ষে করলেন ৩৫ ম্যাচে ৩৬ গোল। এদিন তার তিনটি গোলই ছিল দর্শনীয়। ম্যাচের ২৬তম মিনিটে ১৬ গজ দূরে পেয়েছিলেন ইভান রাকিটিচের ক্রস। সেটা সরাসরি জোরালো ভলিতে পাঠিয়ে দেন জালে। চার মিনিট আগে নাভাসের গোলের পিছিয়ে পড়ার এই ভলিতেই স্কোরলাইনে ফেরে সমতা। বিরতির তিন মিনিট আগে মার্কেদোর গোলে আবার পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা। ফিরে এসে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নেন মেসি। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে দেম্বেলের বাড়ানো বল ধরে ডি বক্সে ঢুকেই ডান পায়ের উঁচু কোনাকুনি শটে আবার স্কোরলাইনে সমতা ফেরান কাতালান অধিনায়ক। হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন ৭২ মিনিটেই, তার বাঁ পায়ের বাঁকানো শট ক্রসবারে বাতাস লাগিয়ে না গেলে। অবশেষে ৮৫ মিনিটে হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে প্রথমবারের মত দলকে এগিয়ে নেন দলের প্রাণভোমরা। গোলরক্ষকের সামনে বল পেলেও গোলটা সহজ ছিল না। এগিয়ে আসা গোলরক্সকের মাথার উপর দিয়ে চিপ শটে ফুটবল জাদুকর বল জালে পাঠান খুব সাবলীল অথচ দর্শনীয় ভঙ্গিমায়। লা লিগায় এটি ছিল তার ২৫তম গোল। সব প্রতিযোগিতা মিলে মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩টি। যোগ করা সময়ে তার সহায়তায় মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬তম গোলটি করেন সুয়ারেজ।

পরিসংখ্যানে মেসির হ্যাটট্রিক
প্রতিযোগিতা সংখ্যা
লা লিগা ৩২
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ৮
কোপা দেল রে ৩
সুপার কাপ ১
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ৬



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ম্যাচ

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন