Inqilab Logo

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

বিশ্বব্যাংকের আপত্তি - ভুল নকশায় বিআরটি প্রকল্প

প্রকাশের সময় : ১৬ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

পলাশ মাহমুদ : মগবাজার-মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের নকশায় ত্রুটি নিয়ে বিতর্ক শেষ না হতেই আরেক মেগা প্রকল্পের নকশায় ত্রুটি ধরা পড়েছে। রাজধানীর বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে বিমানবন্দর সড়ক থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত নির্মিতব্য সড়ক প্রকল্পের নকশায় এ ভুল চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইতিমধ্যে বিস্তারিত নকশা চূড়ান্ত করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এছাড়া বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ফুটওভার ব্রিজে ওঠানামার ব্যবস্থা না রাখার বিষয়েও আপত্তি করে সংস্থাটি। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের এ সংস্থা বিআরটি প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠায়। বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নকশা পর্যালোচনা করে ত্রুটি শনাক্ত করে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে ডিটিসিএকে নকশায় ত্রুটির বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়। নির্মল বায়ু টেকসই পরিবেশ (কেস) প্রকল্পের টিম লিডার (ট্রান্সপোর্ট) শিকে সাকাকি স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ডিটিসিএর পাঠানো নকশার আংশিক নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নকশা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের গভীরতা পর্যাপ্ত নয় বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে কিছু বিষয় উল্লেখ করে দিয়ে বলা হয়, পথচারীদের বিশেষত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়গুলো নকশায় বিস্তারিত বিবেচনা করা হয়নি। নকশাটি ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর হয়ে পড়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ধাপ ও সিগনাল টাইমিংয়ের ধাপ এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এসব বিষয় বিবেচনা করে সংশোধিত নকশা জমা দেয়ার অনুরোধ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ নকশা যাচাই-বাছাই করে শিগগিরই মতামত দেয়া হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়।
জানাযায়, বিআরটি রুটে সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ হয়ে গেছে। শান্তিনগর থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে ফ্লাইওভার। এছাড়া এজন্য পুরো রুটে বিআরটি নির্মাণ নিয়ে সন্দিহান বিশ্বব্যাংক। তাই গত বছর প্রকল্পটি থেকে অর্থায়ন প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দর সড়ক থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত তিন ধাপে বিআরটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়ে।
নকশা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের চিঠিতে বেশকিছু ভুলের বিস্তারিত ব্যাখ্যাও সংযোজন করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীর চারটি পয়েন্টে পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এগুলো হচ্ছে, বিজয় সরণি-তেজগাঁও মোড়, গুলিস্তান, পুরনো ঢাকার বংশাল রোড ও ইংলিশ রোড। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আরো কিছু পয়েন্টে গাড়ি বাম দিকে টার্ন নেয়ার সময় যাত্রী পারাপারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ দুর্ঘটনা এড়াতে নকশায় কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
বিআরটির ক্ষেত্রে সড়কের দুই পাশ আটকানো থাকে। এজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কথা নকশায় বলা হয়েছে। কিন্তু হুইল চেয়ার ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়নি নকশায়। এছাড়া কাজী নজরুল ইসলাম সরণি সড়কের জিরো পয়েন্ট (জিপিও) মোড়ে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশের মধ্যে যানবাহন পারাপার বন্ধ করে দেয়ার কথা নকশায় রয়েছে। এক্ষেত্রে যানবাহন বিকল্প কোন পথে চলাচল করবে ও টার্ন নেবে তা নকশায় উল্লেখ নেই।
তবে তিন ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপে নির্মাণ করা হবে বিমানবন্দর থেকে মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত অংশটি। এ অংশের নকশায় কোনো ধরনের সমস্যা না থাকায় প্রথম অংশটি নির্মাণে বিশ্বব্যাংককে প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম অংশ নির্মাণ না হলে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত নির্মিতব্য অন্য বিআরটি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে প্রথম অংশ শেষ হওয়ার পর মহাখালী-গুলিস্তান (দ্বিতীয় অংশ) ও গুলিস্তান-কেরানীগঞ্জ (তৃতীয় অংশ) নির্মাণ করা হবে।
এ বিষয়ে বিআরটি নকশা প্রণয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. আনিসুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিআরটির নকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তাই সংস্থাটির মতামতের জন্য তা পাঠানো হয়েছে। কিছু বিষয় তারা চিহ্নিত করেছে, যেগুলো সংশোধনের কাজ চলছে। বিশ্বব্যাংকের মতামতের ভিত্তিতে নকশা চূড়ান্ত করা হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিশ্বব্যাংকের আপত্তি - ভুল নকশায় বিআরটি প্রকল্প
আরও পড়ুন