Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

সেনা হত্যার নেপথ্যরা এখনো চিহ্নিত হয়নি

সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনার সেনা তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ না হওয়ায় হত্যাকান্ডের নেপথ্যরা চিহ্নিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই হত্যাকান্ডের যে তদন্তগুলো হয়েছিলো, সেই তদন্তগুলোর পূর্ণাঙ্গ কোনো তদন্ত এখনো জাতির সামনে প্রকাশ করা হয় নাই। বিশেষ করে সেনাবাহিনী যে তদন্ত করেছিলো সেই তদন্ত এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রকাশিত হয় নাই। ফলে স্বাভাবিকভাবে জাতির সামনে প্রশ্ন থেকেই গেছে এই ভয়াবহ ঘটনার পেছনে মূল কারা ছিলো, পরিকল্পনাকারী কারা ছিলো, কারা লাভবান হয়েছে এ বিষয়গুলো সেই ভাবে উদ্ঘাটিত হয় নাই।
গতকাল (সোমবার) সকালে বনানীর কবরাস্থানে পিলখানায় বিদ্রোহে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন।
২০০৯ সালের পিলখানা বিডিআর হত্যাকান্ডের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এদিনটি আমাদের জন্য, জাতির জন্য কলঙ্কময় দিন। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপরে এই দিনে আঘাত করা হয়েছিলো। আমরা বিশ্বাস করি, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের সেনাবাহিনী নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাদেরকে দূর্বল করে দেয়া, তাদের মনোবলকে দূর্বল করে দেয়াই ছিলো সেদিনকার সেই বিদ্রোহের ও হত্যাকান্ডের মূল কারণ। আমরা এইদিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে চাই এবং ঘোষণা করতে বলি।
তিনি বলেন, আমরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং এই দিনটিকে স্মরণ গোটা জাতিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবার জন্য শপথ নেয়ার আহবান জানাচ্ছি।
সকাল সাড়ে ১০টায় বনানী কবরস্থানে নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভের বেদীতে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বনানীতে সেনা কবরস্থানে বিডিআর হত্যাকান্ডে নিহতদের স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করে নিহত নিহতদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পরে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতও করেন নেতৃবৃন্দ।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত উর্ধ্বতন সেনা ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী, ফজলে এলাহী আকবর, কামরুজ্জামান, শাহজাহান মিয়া মিলন, সারোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান, মাহমুদুল হাসান, আমিনুল ইসলাম, শায়রুল কবির খান।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস-বিডিআর বিদ্রোহে বিডিআর এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ