Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

সরকার খালেদা জিয়াকে অশুভ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে চায় -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:২৬ পিএম

সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে এক অশুভ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বরে মিডনাইট নির্বাচনের পর এখন শেখ হাসিনা নতুন পাটিগনিত কষছেন। আর সেটি হচ্ছে-দেশের অবিসংবাদিত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ধীরে ধীরে নি:শেষ করে দেয়া। অসুস্থ দেশনেত্রীকে টানাহেঁচড়া করে ঘনঘন আদালতে নিয়ে আসা, অন্ধকারাচ্ছন্ন শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে তাঁর জন্য আদালত স্থাপন করা, তাঁর পছন্দমতো চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা করতে না দেয়া, তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে না নেয়া, সাত দিন পর পর নিকটাত্মীয়দের সাথে দেখা করতে না দেয়া, আত্মীয়স্বজনদেরকে দেখা করতে দিতে বিলম্ব করা, অস্বাস্থ্যকর ও কীট-পতঙ্গে ভরা কারাকক্ষে থাকতে বাধ্য করা, যে মামলায় অন্যরা জামিন পেয়েছেন সেই একই মামলায় তাঁকে জামিন না দেয়া। এভাবে তাকে অশুভ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়া। বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ২৯ ডিসেম্বরের মিডনাইট নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা হবে বলেই বেগম জিয়াকে বেশ কয়েক মাস আগেই কারান্তরীণ করা হয়েছে। গণতন্ত্রের সূর্যকে অস্তগামী করার জন্যই বেগম জিয়া এখন কারাগারে। বর্বরোচিক একদলীয় কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করার জন্যই বেগম জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থায় ক্রমাগত হস্তক্ষেপের কারণেই বেগম জিয়া এখন কারাগারে। আমরা আবারও আহবান জানাচ্ছি-এই মূহুর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
দেশে এখন স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আগ্রাসী একদলীয় শাসনে মানুষের অন্তত নিশ্চিন্তে মৃত্যুর সুযোগ নেই। অপঘাত, দূর্বিপাক, দূর্ঘটনা ও গুপ্তঘাতকদের দৌরাত্মে অস্বাভাবিক মৃত্যুরই এখন জয়জয়কার। চারিদিকে শুধু ট্র্যাজেডিরই পূণরাবৃত্তি ঘটছে। ঘরে ঘরে শুধু বুকফাটা কান্নারই আহাজারি। পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে রানা প্লাজা ও চকবাজারে প্রাণহানির ঘটনা বেশিদিনের আগের ঘটনা নয়। শেখ হাসিনার আমলজুড়েই নাৎসিবাদের ভয়ঙ্কর আত্মপ্রকাশে সমগ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখন চাপাকান্না। কোথাও পরিকল্পিত হত্যাকান্ড আবার কোথাও বিভৎস আগুনে ঝলসে গিয়ে পোড়া মানুষের গন্ধ, ক্রসফায়ারে নদী-নালায় গলিত লাশের গন্ধ, বিচার বহির্ভূত হত্যায় ঝোপে-ঝাড়ে পড়ে থাকে বিকৃত লাশের পচা গন্ধ-যা আমাদের সভ্যতাকে বে-আব্রু করে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী কসাইয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেছেন-গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে। গণবিরোধী সরকারের কাছে জনগণের ইচ্ছার কোন মূল্য নেই। ম্যান্ডেটবিহীন বলেই জনগণের দু:খ-কষ্টের প্রতি তাদের কোন লক্ষ্য নেই। জনগণের সরকার নয় বিধায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না জনগণ। এটি ক্ষমতাসীনদের জন্য আরেকটি লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এটি একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানী। এমনিতেই তীব্র গ্যাস সংকটে গ্রহিতারা প্রচন্ড দুর্ভোগে পড়েছে। এর ওপর গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় এই জ্বালানীর ওপর নির্ভরশীল জনগণের জীবন দূর্বিষহ হয়ে পড়বে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষনা জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বিএনপি’র পক্ষ থেকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেয়া কমিশনের জন্য অস্বস্তিকর। সিইসি তাঁর এই বক্তব্যে স্বীকার করে নিলেন যে, জনগণ ও দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিকট তাঁদের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। যেদেশে ভোটের আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সীল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়, ভোট চুরি হয়, ভোট দিতে পারে না সেদেশের মানুষ বর্তমান নির্বাচন কমিশন ধিক্কার ছাড়া অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য নয়। তিনি জনগণকে ভোট প্রদান থেকে প্রতারিত করেছেন। তাঁর আজ্ঞাবহ জীবনদর্শণের জন্য গণতন্ত্র এখন রাহুগ্রস্ত। ৩০ ডিসেম্বরে ভোট চুরির মহৌৎসব করে একটা অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়ে দেশকে গভীর সংকটে নিপতিত করার মূল হোতাই হচ্ছেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। কাজেই জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো এখন নির্বাচন কমিশন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) মহিলা দলের সভাপতি রাজিয়া আলিম কারাগারে প্রচন্ড অসুস্থ। আদালত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বললেও জেল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এছাড়া ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ৩১, ৩২ ও ৩৩ নং ওয়ার্ড কমিশনার এবং মহিলা দল লালবাগ-চকবাজার থানা শাখার সদস্য সচিব নাসরিন রশীদ পুতুল বহুদিন ধরে কারাগারে আটক আছেন। তিনিও ভীষণ অসুস্থ। আমি অবিলম্বে তাদের সুচিকিৎসা এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

এছাড়া ঢাকা মহানগর এর নেতৃবৃন্দের মধ্যে কারান্তরীণ
আব্দুল আলীম নকী, সহ-সভাপতি-ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি
আলহাজ মোয়াজ্জেম হোসেন, সহ-সভাপতি-ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি
আশরাফুর রহমান আশরাফ, যুগ্ম সম্পাদক-ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি
আরিফুর রহমান নাদিম, যুগ্ম সম্পাদক-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি
ডি এম নজরুল, যুগ্ম সম্পাদক-ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি
রেজাউল করিম ফাহিম, সহ-সাধারণ সম্পাদক-ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি
ভিপি মো: হানিফ, প্রচার সম্পাদক-ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি
এ বি এম এ রাজ্জাক, দপ্তর সম্পাদক-ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি
কিরণ, যুগ্ম সম্পাদক-ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি
গোলাম কিবরিয়া মাখন, সভাপতি-ভাষানটেক থানা বিএনপি
আবুল কালাম আজাদ, সভাপতি-বনানী থানা বিএনপি
আক্তার হোসেন জিল্লু, সভাপতি-কাফরুল থানা বিএনপি
আব্দুল আউয়াল, সভাপতি-রুপনগর থানা বিএনপি
মো: ওসমান গনি শাহজাহান, সভাপতি-মোহাম্মদপুর থানা বিএনপি
মো: নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক-আদাবর থানা বিএনপি
ইঞ্জিনিয়ার মজিবুল হক, সাধারণ সম্পাদক-রুপনগর থানা বিএনপি
মিজানুর রহমান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক-বনানী থানা বিএনপি
আবুল হোসেন আব্দুল, সভাপতি-মিরপুর থানা বিএনপি
হাজী ওয়াজেদ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক-মিরপুর থানা বিএনপি
হাজী আব্দুর রহমান, সভাপতি-দারুস সালাম থানা বিএনপি
হুমায়ুন কবির রওশন, সাধারণ সম্পাদক-শাহ আলী থানা বিএনপি
আব্দুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক-ক্যান্টনমেন্ট থানা বিএনপি
মো: দ্বীন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক-গুলশান থানা বিএনপি
হাজী দুলাল, সভাপতি-উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপি
এ কে এম লুৎফুল বারী মুকুল, সহ-সভাপতি, মিরপুর থানা বিএনপি
হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক-দারুস সালাম থানা বিএনপি
মো: আমির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক-ভাষানটেক থানা বিএনপি
মো: মাসুম বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক-আদাবর থানা বিএনপি
মো: নাজিম উদ্দিন দেওয়ান, দক্ষিণখান থানা বিএনপি নেতা
মো: শফিকুর রহমান শফিক, সহ-সভাপতি-ভাষানটেক থানা বিএনপি
মো: হাশেম মিয়া, বিএনপি নেতা-তেজগাঁও থানা বিএনপিসহ কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।



 

Show all comments
  • Mohammed Shah Alam Khan ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৯:০৫ পিএম says : 0
    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাহেব, আপনাকে উপদেশ দেয়া আর না দেয়া একই কথা তারপরও আপনার এতো মিথ্যাকথা শুনার পর আপনাকে কিছু কথা না বলেই পারছিনা। প্রথমেই বলতে চাই আপনি মুসলমান এবং আপনার যথেষ্ট বয়স হয়েছে এটা আমাদের জন্যে মৃত্যুর সময় তাই আমরা পরকালের জন্যেই সংগ্রহে ব্যাস্ত থাকি। জনসেবা করাও আল্লাহ্‌র কাজ কিন্তু সেটা হতে হবে সবার মঙ্গলের জন্যে। জনসেবা করার নামে মিথ্যা কথা বলা চলবে না এটাই প্রধান শর্ত কারন ইসলাম মিথ্যা চায় না। কাজেই প্রথমেই আপনাকে মিথ্যা বলা ছাড়তে হবে। তারপর আল্লাহ্‌ কাদের জন্যে এই দেশ বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছেন সেটা জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং সেইভাবে কাজ করতে হবে। আর সেটা করতে চাইলেই আপনাকে পাকিস্তানের সঙ্গ ছাড়তে হবে। ৩য়ত বাঙালী জাতীয়তা বাদে বিশ্বাস এনে সেইভাবে কাজ করতে হবে। এক কথায় মুক্তিযুদ্ধের উপর পূর্ণ আস্তা রেখে সেইভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের কল্যাণ করার নিমিত্তে গঠিত কোন দলের প্রধান খারাপ লোক হতে পারেনা এদিকে নজর রাখতে হবে। তাই আপনারা দুষ্ট খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেককে দলের প্রধান রাখার জন্যে সংবিধানে যে পরিবর্তন এনেছেন সেটাকে আবার পরিবর্তন করে পূর্বের যায়গায় চলে যেতে হবে। আরো অনেক পরিবর্তন আনতে হবে তবে এখন এই কয়টা আনার চেষ্টা করেন দেখবেন আপনাদের দল বিএনপি হু হু করে এগিয়ে যাবে কারন এখন সরকারি দলকে বিরোধিতা করতে পারে এমন কোন দল নেই কাজেই আপনারা যদি দেশের মঙ্গল চান তাহলে নিজেদেরকে আগে একটু সংশোধন করুন দেখুন আল্লাহ্‌ আপনাদেরকে সাহায্য করবেন। দেশের ও দশের মঙ্গলের জন্যে আল্লাহ্‌ আপনাদেরকে সুমতি দান করুন এই প্রার্থনা। আমিন
    Total Reply(0) Reply
  • Nahid hasan ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৭:৪৯ পিএম says : 0
    আপনারা আর কত প্যাচাল পারবেন প্যাচাল পারতে পারতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়েছে*প্যাচালের রাজনীতি এবার দয়া করে বাদ দেন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ