Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে চায় ফিলিপাইন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৩:৩০ পিএম

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুর্তেতে। বুধবার রাজধানী ম্যানিলায় এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এ প্রস্তাব দেন। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করা সংক্রান্ত গত বছরের ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। স্থানীয় জিএমএ অনলাইন পোর্টালের বরাত দিয়ে তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনিসাফাক এ খবর দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট দুর্তেতে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে আমি আগ্রহী।’ এর আগে গত বছরের এপ্রিল মাসে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার আর্মির চালানো সাঁড়াশি অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে মন্তব্য করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট। তার এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় মিয়ানমার। পরে তিনি অবশ্য ক্ষমাও চান।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২০১২ সালের সহিংসতায় বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিহতের পর থেকেই বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করছিলেন তারা।
এই শঙ্কার মধ্যেই ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালায় মিয়ানমার আর্মি। ভয়াবহ এই হামলার শিকার হয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
অন্টারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি নামের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর ২৪ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে।
‘ফোর্সড মাইগ্রেশন অব রোহিঙ্গা: দ্য আনটোল্ড এক্সপেরিয়েন্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ৩৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমানকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং ১ লাখ ১৪ হাজার রোহিঙ্গার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, ১৮ হাজার রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েকে ধর্ষণ করেছে মিয়ানমার সেনা ও পুলিশ। রোহিঙ্গাদের ১ লাখ ১৫ হাজার বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তছনছ করা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার বাড়ি-ঘর। এ ছাড়া জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও গণধর্ষণ, গণহত্যা, নির্মম নির্যাতন ও গুমের কথা হয়েছে। যার মধ্যে অনেক ছোট্ট বাচ্চা ও শিশু রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা


আরও
আরও পড়ুন