Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

পাইলস

| প্রকাশের সময় : ১ মার্চ, ২০১৯, ১২:১১ এএম


মলদ্বারে বিভিন্ন রোগ হয়। এর মধ্যে পাইলস অন্যতম। আমাদের দেশে অনেকেই এই সমস্যায় কষ্ট পায়। অনেকেই চিকিৎসকের কাছে লজ্জায় যেতে চায়না । দীর্ঘদিন পাইলস থাকলে নানা সমস্যা হতে পারে। তাই সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। মলদ্বারে যেকোনো ধরনের সমস্যা হলেই আবার অনেকে মনে করে পাইলস। তবে মলদ্বারের সব সমস্যাই কিন্তু পাইলস নয়।
বিভিন্ন কারণে পাইলস হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে পাইলস হতে পারে। অনেকেই চাপ দিয়ে মলত্যাগ করে। চাপ দিয়ে মলত্যাগ করলে পাইলস হতে পারে। আইবিএস খুব পরিচিত রোগ আমাদের দেশে। আইবিএস এর বিভিন্ন ধরণ আছে। এখান থেকেও পাইলস হতে দেখা যায় । সন্তান ধারণের সময়ও অনেকের পাইলস হয় । দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করলে পাইলস হতে পারে। বংশগত কারণেও পাইলস দেখা যায় ।
পাইলসে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায় । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মলের সাথে তাজা রক্ত যায়। অনেক সময় ফিনকি দিয়েও রক্ত যেতে পারে। সাধারণত পাইলসে কোনো ব্যথা থাকে না। অনেক সময় মাংসপিন্ড মলদ্বারের বাইরে ঝুলে পড়ে। মাঝে মধ্যে পাইলস ফুলে গিয়ে ব্যথা হতে পারে। সবার একইরকম লক্ষণ হয়না। একেকজনের একেকরকম লক্ষণ দেখা দেয়।
অভিজ্ঞ চিকিৎসক মলদ্বারে আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করেই পাইলস বুঝতে পারেন। তেমন একটা পরীক্ষা নিরীক্ষা লাগেনা। তবে অন্য কোন অসুখ আছে কিনা তা জানার জন্যে কিছু পরীক্ষা লাগতে পারে।
পাইলস থেকে বাঁচতে প্রথমেই কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এর জন্য বেশি বেশি শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে। দৈনিক অন্তত ১০ গ্লাস পানি পান করতেই হবে। গোস্ত, তেল-চর্বি, ভাজা পোড়া কম খেতে হবে। এরপরেও কোষ্ঠকাঠিন্য না কমলে ইসুবগুলের ভুসি পানিতে ভিজিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খেতে হবে। তার পরেও সমাধান না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের মাধ্যমে মল নরম রাখতে হবে। চাপ দিয়ে মল ত্যাগ করা যাবেনা । দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা যাবেনা ।
বিভিন্ন ওষুধ দিয়ে পাইলস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। প্রাথমিক অবস্থায় পাইলসের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে। বর্তমানে বিনা অপারেশনে ব্যথামুক্তভাবে পাইলসের চিকিৎসা করা সম্ভব। লংগো পদ্ধতি বর্তমানে জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে পাইলসের চিকিৎসা করা সহজ। এ পদ্ধতিতে যন্ত্রের মাধ্যমে কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই পাইলসের চিকিৎসা করা হয়। এতে সামান্য ব্যথা হয়। ২/৩ দিনের মধ্যে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে । লেসারের মাধ্যমেও পাইলস এর চিকিৎসা বর্তমানে হচ্ছে। পাইলস হলে কলো রেকটাল সার্জনের কাছে যেতে হবে। বর্তমানে অনেক দক্ষ মহিলা সার্জনও আমাদের দেশে এই অপারেশন করছেন।
পাইলস হলে লজ্জা না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। বর্তমানে এর অনেক ভাল চিকিৎসা আছে। তাই ভয়ের কিছু নেই।

ডা. মোঃ ফজলুল কবির পাভেল

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পাইলস
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ