Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

নতুন সিজারের খোঁজে

জাহেদ খোকন | প্রকাশের সময় : ২ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

দেশের জিমন্যাস্টিক্সে নজরকাড়া খেলোয়াড়ের বরই অভাব। মাঝে মধ্যে প্রতিভাবান জিমন্যাস্ট চোখে পড়লেও এর সংখ্যা নেহাতই কম। যে কারণে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় না থাকায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গেমসে দূর্ভোগ পোহাতে হয় বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিক্স ফেডারেশনকে। খুঁজতে হয় ভালো মানের জিমন্যাস্ট। ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন এশিয়ান গেমসে এমনই একজন বাংলাদেশী জিমন্যাস্টকে খুঁজে পেয়েছিল জিমন্যাস্টিক্স ফেডারেশন যাকে নিয়ে বড় ক্রীড়া আসরে লড়ার সাহস করা যায়। এ দুই আসরের জিমন্যাস্টিক্স ডিসিপ্লিনে দেশের হয়ে লড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লাল-সবুজের জিমন্যাস্ট সাইক সিজার। পদক জিততে না পারলেও তিনি বিশ্বের সেরা জিমন্যাস্টদের সঙ্গে লড়াই করেছেন হাড্ডাহাড্ডি। বেশ কিছুদিন ধরে ফেডারেশন ছিল আরেকজন সাইক সিজারের খোঁজে। যাকে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণে রেখে প্রবাসী জিমন্যাস্ট সাইক সিজারের মতই গড়ে তোলার ইচ্ছা তাদের। অবশেষে পাওয়া গেল সেই মানের একজনকে।
উচ্চতায় তেমন লম্বা না হলেও মেদহীন পেশিবহুল শরীর। ছিপছিপে গড়ন বান্দরবানের লামার কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের জিমন্যাস্ট সাংখেঅং খুমী কিতং। যিনি গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমন্যাশিয়ামে জাতীয় জিমন্যাস্টিক্সের দ্বিতীয় দিন রিংয়ে অসাধারণ নৈপূণ্য দেখিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন। অবশ্য সেটা তাকে ভাগ করতে হয়েছে বিজেএমসির শিশির আহমেদের সঙ্গে। একজন আদর্শ জিমন্যাস্টের গঠন এদের দু’জনের মধ্যেই রয়েছে। তাদের মাঝে দেখা গেছে সাইক সিজারের ছায়া। কিন্তু এদের মধ্য থেকে বাংলদেশ কি আসলেই পাবে আরেকজন সাইক সিজারকে? এ প্রশ্নের উত্তরে জিমন্যাস্টিক্স ফেডারেশনের সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন বলেন, ‘সাইক সিজারের চেয়েও ভালোমানের জিমন্যাস্ট তৈরী করবো আমরা। সেই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছি।’
‘সকল খেলার ভিত জিমন্যাস্টিক্স’- শ্লোগানটা সবারই জানা। জিমন্যাস্টিক্সের মাধ্যমে শরীরের ফিটনেস ধরে রাখা যায় বলে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ও আনসারের মতো সংস্থাগুলো জিমন্যাস্ট তৈরী করছে বর্তমানে। সদ্য এ তালিকায় যোগ দিয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনও। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে জিমন্যাস্টিক্সে উন্নতি করাও শুরু করেছে সংস্থাটি।
চলমান জাতীয় জিমন্যাস্টিক্সে স্বর্ণজয়ী কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কিতং ২০১২ সালে কারাতে খেলতেন। কিন্তু পরের বছর থেকেই জিমন্যাস্টিক্স খেলা শুরু করেন। খেলছেন একাধারে রিং, প্যারালাল বার ও পোমেল্ড হর্সে। সাত বছর ধরে জিমন্যাস্টিক্স খেললেও তিনি চেনন না সাইক সিজারকে। তার কথা, ‘আসলে আমাদের ফাউন্ডেশনে মোবাইল খুব একটা ব্যবহার করা যায না। তাই সাইক সিজার ভাইয়ের খেলা দেখা হয়নি। তবে ছবিতে দেখেছি।’ পাঁচ ফুট দু’ইঞ্চি উচ্চতার এই জিমন্যাস্ট আরো বলেন, ‘আমি না পারলেও যাতে পরের প্রজন্ম অলিম্পিকে খেলতে পারে সেই পথটা তৈরী করে যেতে চাই।’ কিতংয়ের খেলা দেখে মুগ্ধ জাজ দেওয়ান মো: নজরুল হোসেনও। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ নৈপূণ্য দেখিয়েছে কিতং। মাটিতে তার ল্যান্ডিংও ছিল দুর্দান্ত। পরিশ্রম করলে ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে পারবে। তবে কেতংয়ের মতো শিশির আহমেদ ও সাদ্দাম হোসেনও ভাল পারফরমার।’
ফেডারেশন সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন আরো বলেন, ‘আমরা তৃনমূল থেকে কাজ শুরু করেছি। বিশেষ করে বান্দরবানের ছেলে-মেয়েদের উপর জোর দিচ্ছি। কারণ দৈহিক শক্তিতে তারা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। আমরা বাছাইকৃত জিমন্যাস্টদের নিয়ে ছয়মাস স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ করাচ্ছি। সামনেই সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে বয়সভিত্তিক ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ জিমন্যাস্টিক্সে অংশ নেবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা। সেখানে যারা ভালো করবে, তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের জন্য চীনে পাঠানো হবে।’
সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে জিমন্যাস্টিক্স নেই। তাই এসএ গেমসে কখনই দেখা যায়নি জিমন্যাস্টদের। তবে এবার নেপালে আসন্ন এসএ গেমসে জিমন্যাস্টিক্স ডিসিপ্লিনটি রাখার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলদেশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামুন। তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) থাইল্যান্ডে দক্ষিণ এশীয় অলিম্পিক কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জিমন্যাস্টিক্সকে আসন্ন এসএ গেমসে রাখার ব্যাপারে আলোচনায় জানানো হবে।’ মামুন যোগ করেন, ‘ এসএ গেমেস বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা চাইলেও অন্য চার দেশ জিমন্যাস্টিক্স চায়নি। তাই এ গেমসে ডিসিপ্লিনটি হচ্ছে না। সভায় যদি আরেকটি দেশ রাজি হয়, তাহলেই এসএ গেমসে জিমন্যাস্টিক্স যুক্ত হবে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন