Inqilab Logo

বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫ মাঘ ১৪২৮, ১৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

এবার হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে কাঁচাবাজার

প্রকাশের সময় : ১৭ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নূরুল ইসলাম : এবার মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে বসানো হয়েছে কাঁচাবাজার। বিক্রি হচ্ছে কাঁচা তরিতরকারি, মসলা, ফলমূল, মাছ, মুরগিসহ নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফ্লাইওভারের বেশ কিছু অংশ জুড়ে এই বাজার। ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত বাজার জমে।
ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫টি দোকান বসে গেছে। এজন্য দোকানদারদের অগ্রীম বাবদ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। দোকানদাররা জানান, বর্ষার কারণে এখন ফুটপাতে বেচাকেনা কম হয়। মাথার উপরে একটা ছাদ থাকা মানে ক্রেতা-বিক্রেতা দু’পক্ষেরই সুবিধা। সে কারণে অগ্রীম দিতে কেউ দ্বিধা করেনি। তবে প্রতিদিনের ভাড়ার পরিমাণ অনেক বেশি। ৪শ’ টাকা দিতে অনেকেই হিমশিম খায়। একাধিক দোকানদারের দেওয়া তথ্য মতে, সৈনিক লীগের নাম ভাঙিয়ে এই বাজার বসানো হয়েছে।
অগ্রীম টাকাও গেছে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের নেতাদের পকেটে। এ নিয়ে শরীফ নামের এক নেতার সমর্থকদের সাথে হান্নান নামক সৈনিক লীগের এক নেতার মারামারির ঘটনাও স্থানীয় এমপি পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবে সৈনিক লীগ যাত্রাবাড়ী থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কে বাজার বসিয়েছে, কারা টাকা নিয়েছে তা আমি জানি না। এছাড়াও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় পার্কের পাশে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বসানো হয়েছে দু’সহ¯্রাধিক দোকান। এসব দোকান থেকেও প্রতিদিন চারশ’ টাকা করে চাঁদা তুলছে চিহ্নিত কিছু চাঁদাবাজ।
যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের যাত্রাবাড়ী অংশে কাঁচাবাজার বসানো হয়েছে। ফ্লাইওভারকে ছাদ হিসাবে ব্যবহার করে বসানো এই বাজারে কাঁচা তরিতরকারি, শাক-সবজি, মসলা, ফলমূল, খুচরা মাছ, মুরগিসহ নিত্যপণ্য সামগ্রী বিক্রি হয়। সাত-সকালে পাইকারি বাজারের সাথেই এই বাজার বসে। চলে সকাল ১১টা পর্যন্ত। পাইকারি বাজারের কাছে বলে এই বাজারে পাইকারি জিনিসপত্রও পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫টি দোকান বসেছে ফ্লাইওভারের নিচে। এখানকার দোকানদাররা জানান, দোকানের পজিশনের জন্য দোকানভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা অগ্রীম দিতে হয়েছে। এর বাইরে প্রতিদিন ভাড়া বাবদ দিতে হয় দোকান প্রতি চারশ’ টাকা। মিলন নামে এক দোকানদার জানান, সৈনিক লীগের নেতা পরিচয়ে কয়েকজন প্রতিদিন চাঁদার টাকা তোলে। চাঁদা না দিলে পরদিন আর দোকান বসতে দেয় না। আরমান নামে একজন বলেন, মাথার উপর ফ্লাইওভারের ছাদ, পাইকারি বাজারের কাছে এবং মেইন রাস্তার উপরে বলে এখানকার রেটটা একটু বেশি। ৫/৬ ঘণ্টায় একজন দোকানদার অনায়াসে ১০/১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারে। এই হিসাব মাথায় রেখেই চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। যার পোষাবে সে থাকবে, না পোষালে চলে যাবে। কয়েকজন দোকানদার জানান, এই বাজারের চাঁদার টাকাকে কেন্দ্র করে হান্নান নামে সৈনিক লীগের এক নেতার সাথে শরীফ নামে এক নেতার সহযোগীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। যার মীমাংসার জন্য শেষ পর্যন্ত স্থানীয় এমপির কাছে যেতে হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন ফুটপাত দখলের পর এভাবে ফ্লাইওভার দখল হলো কীভাবে? ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষ কী ঘুমিয়ে থাকে। জানতে চাইলে অরিয়ন গ্রুপের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি দেখেন একজন প্রকল্প কর্মকর্তা। দীর্ঘদির তিনি অসুস্থ। তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
রাজধানীর ঐতিহ্য ও গর্ব মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের অনিয়ম দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিছুদিন আগেও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার ঠিক উপরে বাস দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যাত্রীদের ওঠানামা করার জন্য ফ্লাইওভার কেটে সিঁড়ি তৈরি করা হয়। এরপর এর সাথে যোগ হয় টেম্পু স্ট্যান্ড। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে আসা চলন্ত গাড়িগুলো বাস স্টপেজের কাছে এসেই হোঁচট খেতো। কয়েকটি দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে। এ নিয়ে দৈনিক ইনকিলাবে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বাস ও টেম্পু স্ট্যান্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও ফ্লাইওভারের কুতুবখালী অংশে এখনও এলোপাতাড়ি বাস দাঁড়ানোর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া গুলিস্তানের দিকে যেতে টিকাটুলি এবং ফিরতিপথে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, পকেট গেইট নামক স্থানে ফ্লাইওভারের উপরেই এখনও নিয়মিত বাস দাঁড়ায়।
অপরদিকে, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার মোড়ে পার্কের সামনে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে অবৈধ আরেকটি বাজার। এখানে দু’সহ¯্রাধিক দোকান রয়েছে। দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে। এখানকার দোকানদাররা জানান, প্রতিটি দোকান থেকে গড়ে ৪শ’ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। একজন নয়, একেক জন একেক উসিলা দিয়ে চাঁদা তোলে। যেমন- বিদ্যুতের জন্য লাইট ভাড়া হিসাবে দোকান প্রতি ৫০ টাকা করে নেয় মহসীন। যুবলীগের সেলিম ওরফে ঠেলা সেলিমকে দিতে হয় ৫০ টাকা। সৈনিক লীগের পক্ষে জামালকে দিতে হয় ৫০ টাকা, কাবিলার ছেলে জনিকে দিতে হয় ৫০ টাকা, নুরুর বউকে দিতে হয় দোকান প্রতি ২০ টাকা, এছাড়া যুবলীগের হারুন ও জুয়েলকেও পৃথকভাবে ৫০ টাকা করে দিতে হয়। এভাবে দোকান প্রতি ৪শ’ টাকা করে দিয়ে এখানে ব্যবসা করে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই বাজার চলে। ব্যস্ত এলাকা বলে এখানে বেচাকেনাও তুলনামূলক অনেক বেশি বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তবে চাঁদাবাজদের উৎপাত না থাকলে ব্যবসায় আরও উন্নতি এবং জিনিসপত্র আরও সস্তায় বিক্রি করা যেতো বলে কয়েকজন বিক্রেতা জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এবার হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে কাঁচাবাজার
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ