Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

বিক্ষোভের মুখে কেমিক্যাল বিরোধী টাস্কফোর্স

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

রাজধানীর পুরান ঢাকার আবাসিক ভবন থেকে কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থ সরাতে গিয়ে আবারও ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছে গঠিত টাস্কফোর্সের অভিযানিক দল। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বকশিবাজারের জয়নাগ রোডে অভিযানের শুরুতেই প্লাস্টিক ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন টাস্কফোর্স। অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে এ পর্যন্ত তিন দিন স্থানীয় বাড়ির মালিক ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়তে হয় টাস্কফোর্সের সদস্যরা। গতকাল পুরান ঢাকার বিভন্ন এলাকায় সিটি কর্পোরেশন গঠিত টাস্কফোর্সের পাঁচটি দল অভিযান পরিচালনা করেনে। এ অভিযানে ৫ বাড়িতে রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সন্ধান পেয়ে বাড়িগুলোর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অভিযানের শুরুতেই বকশিবাজারের জয়নাগ রোডে ১১/১সি নম্বর বাসায় প্লাস্টিক দানার কারখানা ও গুদাম পান অভিযানিক দল। পরে কারখানাসহ পুরো ৭ তলা ভবনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই রোডের আরও একটি বাসার নিচতলায় প্লাস্টিক দানার কারখানা পাওয়ায় সেখানেও বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। দুটি বাসার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরপরই প্লাস্টিক ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ থেকে তারা অভিযান বিরোধী নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ করা প্লাস্টিক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, আপনারা পুরান ঢাকায় যেসব দাহ্য পদার্থ রয়েছে সেগুলো সরান, প্লাস্টিকের দানা দাহ্য পদার্থ নয়। যদি গোডাউন সরাতে হয় তাহলে সময় দিন। আর আমাদের জন্য বাড়ির সবাইকে কষ্ট দিচ্ছেন কেন? দুই মন্ত্রীর রেষারেষিতে ভুল অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমরাও চাই পুরান ঢাকা থেকে সকল প্রকার দাহ্য পদার্থ সরানো হোক।
অভিযান শেষে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ শরীফ আহমেদ বলেন, পাঁচটি স্থানে অভিযান চালিয়ে চারটি গোডাউনে আমরা প্লাস্টিক সামগ্রী পেয়েছি। প্লাস্টিক দানায় আগুন লাগলে প্রচুর ধোঁয়া হয়, আর এতে শ্বাস বন্ধ হয়ে প্রাণহানিও ঘটতে পারে। ঝুঁকির কারণেই আবাসিক ভবনে কোনো গুদাম বা কারখানা রাখা যাবে না।
এদিকে একই সময়ে ডিএসসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে চকবাজার এলাকায় টিম-২ এর অভিযান পরিচালনা করে। তিনি বলেন, আমাদের ৫টি টিম পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। এ অভিযান প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চালানো হয়। আমার নেতৃত্বাধীন টিম পাঁচটি গোডাউনের ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদ খানসহ তিতাস গ্যাস, ঢাকা ওয়াসা, ডিপিডিসি, বিস্ফোরক অধিদফতর, পরিবেশ অধিদফতর, ঢাকা জেলা প্রশাসন চকবাজার থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত রোববার পুরান ঢাকার চকবাজারে আবাসিক ভবন থেকে কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থ সরাতে গেলে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন গঠিত টাস্কফোর্সের অভিযানিক দল। পরে অভিযান কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ৬৪ নম্বর হাজি ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় মোট ৭১ জন মারা গেছেন। প্রাথমিক তদন্তে আগুনের কারণ হিসেবে কেমিক্যালকেই দায়ী করা হয়। পরে পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনগুলো থেকে কেমিক্যাল সরানোর নির্দেশ দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। মেয়র সাঈদ খোকনের নির্দেশে টাস্কফোর্স গঠন করে গত বৃহস্পতিবার থেকে আবাসিক ভবন থেকে কেমিক্যাল অপসারণ অভিযান হয়। #



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কেমিক্যাল

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন