Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬, ১৮ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

ওরা দু’জন যেভাবে এমপি হন

৭ মার্চ মনসুর-মোকাব্বিরের শপথ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই আগামী কাল বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে ৭ মার্চ বেলা ১১টায় স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের দুজনের শপথ অনুষ্ঠান হবে। এই দুই এমপির শপথ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা বিতর্ক। বিএনপির বাইরের দুই নেতা যেভাবে এমপি নির্বাচিত হন তা নিয়েও চলছে কথাবার্তা।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামে নাম লিখিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান সিলেট-২ থেকে গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ধানের শীষ প্রার্থী তাহসিনা রুশদির লুনার মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় লন্ডনে অবস্থানরত মোকাব্বিরকে নির্বাচনে সক্রিয় করে তোলেন কামাল হোসেন। উল্লেখ মোকাব্বির উদিয়মান সূর্য প্রতীকে মনোনয়ন পত্র দাখিল করার পর কর্মস্থল ইংল্যান্ড চলে গিয়েছিলেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগরে রাতে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে পুর্ননিবাচনের দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচনের পর গণফোরাম সিদ্ধান্ত নেয় শপথ না নেয়ার। ইতোমধ্যে গণশুনানি করেছে এবং প্রায় ৮০ জন প্রার্থী আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন। কিন্তু সুলমান মনসুর আগে থেকেই শপথ নেয়ার পক্ষ্যে থাকলেও মোকাব্বির খান প্রথমে শপথ না নেয়ার পক্ষ্যে থাকেন। সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব কামাল হোসেনের ওপর ছেড়ে দেন। তবে পরে শপথ নেয়ার জন্য স্পীকারের কাছে চিঠি দেন।
আওয়ামী লীগের এক সময়ের সাংগঠনিক সম্পাদক ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে সংস্কারপস্থি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে দলে অপাঙক্তেয় হলে কামাল হোসেন তাকে ডেকে নিয়ে ছাড়ায় দেন। কোনো দল না থাকলেও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চর্চায় ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’ গঠন করলে সুলতান মনসুরকে সেখানে নেন। যদিও অন্যান্য দলগুলো বলেছিল সুলতান মনসুরের কোনো দল নেই তাকে নেয়া ঠিক হচ্ছে না। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দুই এমপির শপথ নেয়া প্রসঙ্গে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, শপথ নিতে গেলে অবশ্যই আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। দলীয় সিদ্ধান্ত ও আইনগত সিদ্ধান্ত যা নেওয়া দরকার, সেগুলো আমরা নেব। ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরীক গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী বলেন, ড. কামাল হোসেন ও বিএনপির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নিলে তা হবে বেঈমানীর নামান্তর।
গণফোরামের এই দুই এমপির শপথ নিয়ে গণফোরাম, ঐক্যফ্রন্ট এবং সিলেট, মৌলভীবাজারে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা বিতর্ক হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা জানান, ঐক্যফ্রন্টের যেসব সমাবেশ হয়েছে ড. কামালের অনুরোধে কোনো দল না থাকা সত্তে¡ও সুলতান মনসুরকে বক্তৃতা দিতে দেয়া হয়েছে। ওই সব সভায় সময়ের অভাবে বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতাই বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ পাননি। সমাবেশে মনসুর ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান দিয়ে বক্তৃতা শেষ করতেন। তখনই তার সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ভাবা উচিত ছিল। আওয়ামী লীগে অবাঞ্ছিত হয়ে তিনি ‘ঐক্য প্রক্রিয়ায়’ এসে এমপি হয়েছেন। বিএনপির লোকজন তাকে ভোট দিয়েছে। বিশেষ করে ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ শেষে ঢাকার ফোন পেয়ে হঠাৎ প্রশাসনের লোকজন বিকল্পধারার প্রার্থী এম এম শাহীনের বদলে ধানের শীষের সুলতান মনুসরকে বিজয়ী করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। নাকা ক্যারিশমার পর ধানের শীষ প্রার্থীকে বিজয়ী করা হয়। ঐক্যফ্রন্টের আরেক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, মোকাব্বির নমিনেশন দাখিল করে লন্ডন যান। হাইকোট সর্বশেষ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনার রুশদির মনোনয়ন বাতিল করায় আসনটি বিএনপি প্রার্থী শুণ্য হয়। বিএনপির নেতাদের অনুরোধে ড. কামাল হোসেন লন্ডনে ফোন করে মোকাব্বিরকে দেশে ডেকে আনেন। অতপরের ইতিহাস সবার জানা। সেই ব্যাক্তি দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এমপি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ওরা শপথ নিলেও বিএনপিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট


আরও
আরও পড়ুন