Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

আদালতের নির্দেশ ও মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি এখনও কার্যকর হয়নি -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ মার্চ, ২০১৯, ১২:৫৭ পিএম

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আদালতের নির্দেশ ও মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি এখনও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বর্তমান ম্যান্ডেটবিহীন সরকার। সুচিকিৎসার অভাবে তাঁর অসুস্থতা ভয়ংকর পর্যায়ে উপনীত হলেও তাঁকে ফেলে রাখা হয়েছে গুমোট স্যাঁতসেতে পরিত্যক্ত কারাগারে। এর ওপর প্রতিনিয়ত সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী নেতারা সমস্ত শিষ্টাচার, সুরুচিকে অবজ্ঞা করে দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে কটুক্তি ও ব্যঙ্গ করে যাচ্ছেন। এটি কেবল মনুষ্যত্বহীন বিবেকবর্জিত মানুষদের দ্বারাই সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, আমাদের দলের সিনিয়র নেতারা গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে দেশনেত্রীর পছন্দ মতো বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার জন্য দ্রুত ভর্তি করার আহবান জানিয়েছেন। অত্যন্ত পরিতাপ নিয়ে বলছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছিলেন-কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে শিগগিরই বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকৎসা করা হবে। তার আগের দিন নিম্ন আদালত হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তারপর তিনদিন চলে গেছে কিন্তু কোন উদ্যোগ নেই।
আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের সাথে খালেদা জিয়াকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রানপ্রিয় নেত্রীকে নিয়ে প্রতি মুহুর্ত পার করছি উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আর অজানা আশংকায়। এখানেই জিঘাংসার শেষ নয়, গত এক মাস ধরে দেশনেত্রীর সাথে তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সর্বশেষ গত ১০ ফেব্রুয়ারি দেশনেত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়। এরপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এবং গত ৩ মার্চ দুই বার তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের জন্য আবেদন করলেও অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা গত দুই মাসে বহু চেষ্টা করেও দেশনেত্রী বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি পাচ্ছেন না। কারাগার কর্তৃপক্ষ বারবার একই কথা বলছেন-‘হাই লেভেল থেকে অনুমতি না পেলে আমাদের কিছু করার নেই।’ এই ‘হাই লেভেল’ টা কে তা আমরা জানি। দেশের জনগণও ভালো করে জানেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অভাবনীয়-বিস্ময়কর ভালোবাসার কারণে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী করে প্রশাসনকে নগদ টাকায় কিনে নিয়ে ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট করেছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন, খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকলে তার মিডনাইট ভোটের নীলনকশা দু:স্বপ্নে পরিণত হতো। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবারও আহবান জানাবো-আপনার মনের মতো নির্বাচন তো শেষ। এবার দেশনেত্রীকে মুক্তি দেন। তাঁর বয়স এবং গুরুতর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাঁকে কারামুক্ত করুন। কারন বন্দীশালার চাবি আপনার হাতেই। তাঁকে সুচিকৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ দিন।
বিএসএমএমইউ-তে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার সুযোগ নেই তা প্রমাণিত হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি’র পক্ষ থেকে বারবার বলে আসছি-বিএসএমএমইউ (পিজি)-তে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ নেই। আমাদের দাবি কতখানি সত্য ছিল তা সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হলো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি হলে তাঁকে চিকিৎসা দিতে ল্যাব এইড থেকে ধার করে চিকিৎসা যন্ত্র নিয়ে আসতে হয়েছে। আরও উন্নত চিকিৎসা দিতে তাঁকে নেয়া হয়েছে সিঙ্গাপুরে। আমরা তো আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেশেই একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি করে আসছি। অথচ সেই দাবি প্রতিহিংসার কারণে বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে।
ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখার কথা এখন স্বীকার করা হচ্ছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। ভোটের আগের রাতে শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশনের মদদে পুলিশ প্রশাসনের প্রকাশ্য সহযোগিতায় সন্ধ্যা রাত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটের বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। এই রাতের ভোটের কথা দেশের প্রতিটি মানুষ জানে। ভোটাররা কেউ ভোট দিতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনাররা এখন রাতে ভোটের বাক্স ভর্তি করার কথা স্বীকার করা শুরু করেছেন। গতকাল বুধবার সুনামগঞ্জে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইন শৃঙ্খলা সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই কোনো নির্বাচনে পূর্ব রাতে ভোট বাক্সে ব্যালট ভরে দেওয়া আর বরদাস্ত করা হবে না।’ তার মানে এখন নির্বাচন কমিশনের একজন উর্দ্ধতন ব্যক্তিই বললেন-একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ব রাতে ভোট বাক্সে ব্যালট ভরে দেয়া হয়েছিল, সেটা তিনি সরাসরি স্বীকার করলেন। সংসদ নির্বাচনের দুই মাস ছয় দিন পর এই স্বীকারোক্তির জন্য নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, কমপক্ষে বিবেকের তাড়নায় তিনি এই মহাসত্যটি স্বীকার করেছেন। এদিকে গতকাল মহাজোটের শরীক একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন-“এবার রাতের বেলা নয়, দিনের বেলাতেই ভোট ডাকাতি হবে। এমনকি বিনা ভোটের নির্বাচনের হিড়িক শুরু হয়ে গেছে।” এখন নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সরকারের শরীকরাও পর্যায়ক্রমে আগের রাতে ভোট ডাকাতির কথা অকপটে স্বীকার করছেন। কারন জনগণের সামনেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মহাভোট ডাকাতির রাজধর্ম পালন করেছে। তাহলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় তাদের মগজে কি কারফিউ জারি করা ছিল ? যে কারনে ব্যাখাতিত উন্মার্গগামিতায় জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিতে সরকারী বাহিনীগুলো রাতের আঁধারকে বেছে নিলেন ? অথচ নির্বাচন কমিশনের কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করলেন না। তবে এর জবাব একদিন জনগণকে দিতে হবে। সাধারণ মানুষ এখন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, যেকোন মূহুর্তে ভিসুভিয়াসের মতো জনগণের ক্ষোভের প্রবল অগ্ন্যুৎপাত ঘটবে। জনগনের রোষানল থেকে রেহাই চাইলে দ্রুত নির্বাচনের উদোগ নিন। আসলে স্বৈরাচার’রা জনগণের নাড়ীর স্পন্দন অনুভব করতে পারে না। তাই নির্বাচন কমিশনকে বলবো-ইতিহাসের জঘন্য অপকীর্তি ঢাকতে অবিলম্বে নির্বাচনের ফল বাতিলের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করুন এবং নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা দিন। আর সময়ক্ষেপন করবেন না।
এসময় তিনি সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, এ্যাড: শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব উন নবী খান সোহেল, লায়ন আসলাম চৌধুরী, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, মীর সরফত আলী সপু, জি কে গউছ, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, শহিদুল ইসলাম বাবুল, শেখ রবিউল ইসলাম রবি, মামুনুর রশিদ মামুন, শেখ মোহাম্মদ শামীম, হযরত আলী, মিয়া নুর উদ্দিন অপু, মনোয়ার হোসেন, ইসাহাক সরকারসহ দেশব্যাপী হাজার হাজার বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী


আরও
আরও পড়ুন