Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

সউদী বিনিয়োগ সমৃদ্ধির নতুন দুয়ার খুলে দেবে

| প্রকাশের সময় : ৯ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

মুসলিম দেশ হিসেবে সউদী আরব ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ভ্রাতৃপ্রতিম এই দুই দেশ এখন অত্যন্ত ঘনিষ্ট হয়ে একসাথে কাজ করার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারবদ্ধ। এর প্রমাণ পাওয়া গেছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সউদী আরবের বিপুল অংকের বিনিয়োগ আগ্রহ থেকে দেশটি তেল নির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন ধরনের সেবা ও পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। এর অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, সৌরশক্তি, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন্স, ওষুধশিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে, যা গৃহিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু বিনিয়োগই নয়, দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সৃষ্টিতেও আগ্রহী। গত বৃহস্পতিবার সউদী আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী মাজেদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাবি এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন মেজইয়ে আলতাইজরি ৩৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে দুই দিনের সফের বাংলাদেশে আসেন। গত বৃহ¯পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বলা হয়, সউদী আরবের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুই হাজার একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। দেশটি বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, উড়োজাহাজকে গুরুত্ব দিয়ে ১৬টি প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। এর অংশ হিসেবে দুই চুক্তি ও চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশে এই বিপুল সউদী বিনিয়োগ বিশ্বের মুসলিম দেশসহ বিশ্ব স¤প্রদায়কে নতুন বার্তা দেবে। এই বিনিয়োগ স¤পর্ক বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দুই দেশকে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সউদী আরব সফর করেছিলেন। সে সময়েই বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সউদী আরবের ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশিত হয়। তার সফল সফরেরই ফল হিসেবে সউদী সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সফরে আসেন। প্রতিনিধি দলের সাথে সংলাপে অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বাংলাদেশে সউদী বিনিয়োগের যথার্থতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাদের বোঝাতে সক্ষম হন। বাংলাদেশে সউদী বিনিয়োগ যে অত্যন্ত লাভজনক হবে, এ বিষয়টি সউদী প্রতিনিধি দল উপলব্ধি করেন। দেশটির বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী মাজেদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাবি কনভিন্সড হয়ে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশ এশিয়ার নতুন টাইগার। আমরা এ দেশকে বিশ্বাস করি। সউদী আরবের একটি বড় উন্নয়ন সহযোগী বাংলাদেশ। আমাদের বাংলাদেশী ভাইয়েরা গত এক দশকে সউদী আরবের উন্নয়নে সহায়তা করেছে। প্রায় দুই মিলিয়ন বাংলাদেশী সউদী আরবে আছেন। যারা নতুন সউদী আরব গড়ে তুলতে ভ‚মিকা রাখছেন। এ কথা অনস্বীকার্য, যে কোনো বিনিয়োগকারীকে যদি তার বিনিয়োগের যথার্থতা, যৌক্তিকতা এবং লাভ সম্পর্কে বোঝানো যায়, তবে সে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সউদী প্রতিনিধি দলকে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে কেন সউদী আরব বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে তা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। সালমান এফ রহমান দেশের কর্পোরেট জগতে এক কিংবদন্তী ব্যক্তিত্ব। তিনি ভালো করেই জানেন, ব্যবসা-বাণিজ্য কীভাবে সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ করতে হয়। সউদী আরবের যে ২৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগযোগ্য অর্থ রয়েছে, এ বিষয়টি তিনি ভালভাবে অবগত বলেই দেশটিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উৎসাহী করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রশ্নাতীত। পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে তিনি তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অর্থমন্ত্রী হয়ে অর্থনীতির ক্ষেত্রে তিনি যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা ইতোমধ্যে অর্থনীতিবিদদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমরা মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুই ব্যক্তিত্বকে যথার্থভাবেই দায়িত্ব দিয়েছেন। যে ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব বাংলাদেশের তরফে দেয়া হয়েছে, তা সউদী আরবের জন্য বেশি কিছু না হলেও আমাদের জন্য অনেক কিছু। এ বিনিয়োগ হলে আমাদের অর্থনীতির উন্নয়ন ও অগ্রগতি অনেক বেড়ে যাবে। এই উপমহাদেশে তো বটেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের উন্নতি আবারো দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, সউদী এই বিনিয়োগে উৎসাহী হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোও তাদের বিপুল অর্থ নিয়ে বিনিয়োগে উৎসাহী হয়ে উঠবে।
সউদী আরব এখন রক্ষণশীল অর্থনীতি থেকে বের হয়ে উন্মুক্ত অর্থনীতির দিকে ঝুঁকেছে। বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করছে। এক্ষেত্রে সউদী ক্রাউনপ্রিন্সের ভূমিকা অগ্রগণ্য। তার পদক্ষেপের কারণেই দেশটি বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিযোগিতার রেসে শামিল হয়েছে। এ রেসে মুসলমান দেশ হিসেবে ভ্রাতৃত্বের পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশকে সঙ্গে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এখন বাংলাদেশের কর্তব্য হচ্ছে, বিনিয়োগে দেশটি যেভাবে আগ্রহ ও উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে এসেছে তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো। সউদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো প্রস্তুত করে দেয়া। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ শুরু হলে দেশের কর্মসংস্থানের অভাবনীয় উন্নতি হবে। দেশের খেটে খাওয়া অনেক মানুষকে সউদী আরব যেতে হবে না। তাদের কর্মসংস্থান সউদী বিনিয়োগকৃত প্রকল্পগুলোতেই হবে। এমনকি সউদী আরবে যেসব বাংলাদেশী কাজ করে তারাও এসব প্রকল্পে এসে কাজ করতে পারবে। এক্ষেত্রে ভাষাগত কোনো সমস্যায়ও পড়তে হবে না। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রী সউদী আরবের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ট করে বাংলাদেশের প্রতি দেশটির যে অসীম আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন এবং বিনিয়োগে উৎসাহী করে তুলেছেন, তা সংশ্লিষ্টরা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বাস্তবায়ন করবেন। এ সুযোগ যাতে কোনোভাবে হাতছাড়া না হয়, এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেবেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সউদী

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন