Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

বৃষ্টি না হওয়ায় হালদার মা মাছ ডিম ছাড়তে পারছে না

প্রকাশের সময় : ১৮ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

হাটহাজারী উপজেলা সংবাদদাতা : দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী। এ নদীতে চৈত্র-বৈশাখ মাসে রুই, কাতলা মৃগেল ও কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ে। চৈত্র মাসে হালদা নদীতে ছাড়া ডিম খুবই উৎকৃষ্ট। এ ডিমের পোনা দ্রæত বর্ধনশীল। বাংলা বছরের শেষ মাস থেকে বিশেষ করে ফাল্গুন মাসের শেষ দিকে সাংগু, মাতামুহুরী, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন শাখা নদী ও খাল থেকে মা মাছ হালদা নদীতে চলে আসে।
প্রতিবছরের মতো এবারও মা মাছগুলো হালদা নদীতে এসেছে। মাছের পেট ভর্তি ডিম নিয়ে চৈত্র মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা দুটি বড় তিথি চলে গেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় মা মাছ ডিম ছাড়েনি। নদীতে ডিম ছাড়তে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ প্রয়োজন। বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের বেগ প্রবল হলে মা মাছগুলো উজানে এসে ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার গেল চৈত্র মাসে সামান্য বৃষ্টি হলেও প্রবল বর্ষণ হয়নি। বর্ষণ না হওয়ায় হালদা নদীতে ঢলের বেগ না থাকায় মা মাছ চৈত্র মাসে ডিম ছাড়েনি।
প্রত্যেক বছর ডিম আহরণকারীরা ফাল্গুন মাস থেকে ডিম আহরণের সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত থাকে। এবারও ডিম আহরণকারীরা ইতোমধ্যেই তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এক সময় ‘মাটির কুয়াতে’ সনাতন পদ্ধতিতে ডিম থেকে রেনু ফোটানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল। সনাতনী এ পদ্ধতিতে ডিম ফোটাতে গিয়ে অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যেত। বিষয়টি সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগের দৃষ্টিগোচর হলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে হাটহাজারীতে চারটি এবং রাউজানে তিনটি হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসব হ্যাচারিতে আধুনিক পদ্ধতিতে ডিম থেকে রেনু ফোটানো হয়। এতে করে ডিম বেশি নষ্ট হয় না। হালদা নদী হাটহাজারী ও রাউজানের সীমানা নির্ধারণকারী। হাটহাজারী-রাউজানের সীমানায় মা মাছ ডিম ছাড়ে বলে এ দুই উপজেলায় সরকার সাতটি ডিম ফোটানোর জন্য হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
গত ৪/৫ বছরের হিসাবে দেখা যায় এপ্রিলে হালদায় রুই জাতীয় মাছ প্রথম দফায় ডিম ছাড়ে। এরপর কোনো কোনো বছর মে/জুনে দ্বিতীয় দফায় ডিম ছাড়ে। এ বছর এপ্রিলে হালদাতে তিন দফা নমুনা ছাড়লেও ডিম দেয়নি মা মাছ। এমনকি চলতি প্রথম মাসে ভারী বর্ষণের অভাবে মাছ ডিম দেয়নি হালদায়। তারপরেও প্রতি জো’তে ডিম ধরার সরঞ্জাম নিয়ে হালদার পাড়ে অবস্থান করতে দেখা যায় ডিম সংগ্রহকারীদের। কিন্তু ডিম না দেওয়ায় তারা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। তবে দুয়েক দিনের মধ্য প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের সম্ভাবনা রয়েছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ