Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

কারাগারে থাকা সাজাপ্রাপ্ত কবিরকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১১ মার্চ, ২০১৯, ৮:৪৪ পিএম

বরিশাল কারাগারে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণকারী সাজাপ্রাপ্ত আসামী কবির সিকদারকে (৩৫) নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। নিহত কবির সিকদারের স্ত্রী হনুফা বেগম সোমবার বরিশাল প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। 

কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে হনুফা বেগম বলেন, স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল কারাগারে আসেন। পর পর ৫বার টিকেট কাটার পরও নানা অজুহাত দেখিয়ে স্বামীর সঙ্গে তাকে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। হনুফা বলেন, সারা দিন অপেক্ষায় রেখে বিকাল ৪টার দিকে তাকে জানানো হয়, স্বামী কবির সিকদার অসুস্থ হয়ে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি তাৎক্ষণিক হাসপাতালে গিয়ে স্বামীর লাশ দেখতে পান। হনুফা বেগম বলেন, কারাবন্দীরা জানিয়েছে যে কবির সিকদার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। হনুফার দাবী, কবির সিকদার দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ছিলেন। এ ঘটনার কিছুদিন আগেও তিনি কারাগারে স্বামীর সঙ্গে দেখা করে করেছেন। খুব শিগগিরিই জামিনে মুক্তির বিষয়টিও তাকে জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে কবির সিকদার আত্মহত্যার করার মতো কোন কারন নেই বলে পরিবারের দাবী। সংবাদ সম্মেলনে কবির সিকদারের ভাই জলিল সিকদার জানান, কবিরের মৃতদেহের দুই হাত ও বুকে কালো দাগ দেখা গেছে। এ থেকে তারা ধারনা করছেন তাকে নির্যাতন করে হত্যা কওে গলায় ফাঁস লাগিয়ে পরিত্যক্ত ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যা নাটক সাজানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিভিশন ওয়ার্ডের রান্নাঘরের ষ্টোর রুমের আড়ার সঙ্গে কবির সিকদারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। কারা তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার বণিক জানিয়েছিলেন, ‘কবির গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে’। কবির সিকদার ভোলার মনপুরা থানার একটি চুরি মামলায় পাঁচ বছর কওে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। সে পিরোজপুরের ভান্ডরিয়া উপজেলার জামিরতলা গ্রামের বাসিন্দা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নির্যাতন


আরও
আরও পড়ুন