Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

ভারতে মুসলিম স্থাপত্য

আলী এরশাদ হোসেন আজাদ | প্রকাশের সময় : ১২ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ভারতে মুসলিম শাসনামলের স্থাপত্যিকলার অনন্য নিদর্শন দিল্লীর লালকিল্লা। সম্রাট শাহজাহানের অমরকীর্তি দিল্লির লালকেল্লা তৈরিতে তৈমুরি, পারস্য ও ভারতীয় স্থাপত্যরীতির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে অত্যন্ত সার্থকভাবে। রহস্যময় জটিল নকশা ও অলঙ্করণে তৈরি হয় লালকেল্লা। লাল বেলে পাথরের কেল্লাটি ১৬৩৯ থেকে ১৮৪৮ সালের মধ্যে নির্মিত। ৬৫৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩২৮ মিটার প্রস্থ কেল্লার উচ্চতা ২৩ মিটার। দিল্লির লালকেল্লা চত্তরে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এগুলোর পরস্পরকে নহর-ই-বেহেস্ত নামক কৃত্রিম জলাশয় দ্বারা সংযুক্ত করা হয়েছে। এখানেই রয়েছে আওরাঙ্গজেবের তৈরি বিখ্যাত মতি মসজিদ। আগ্রা ফোর্ট মুঘল স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দির মধ্যে নির্মিত হয় আগ্রা ফোর্ট। এখানেই রয়েছে খাসমহল, শীশমহল, জেসমিন মহল, মুহাম্মান বুর্জ, মতি মসজিদ (নির্মাণকাল ১৬৪৬- ৫৩ খ্রি.), নাগিনা মসজিদ (নির্মাণকাল ১৬৫৮- ১৭০৭ খ্রি.), মিনা মসজিদ।
সম্রাট শাহজাহানের রাজকার্য পরিচালনা জন্যই তৈরি হয় দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই-খাস। দেওয়ান-ই-আমে সম্রাট তাঁর প্রজা সাধারণকে দর্শন দিতেন। সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয় সভাসদ, ঘনিষ্ঠজন নিয়ে দেওয়ান-ই-খাসে সময় কাটাতেন। এখানেই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বড় বড় সিদ্ধান্ত গৃহীত হতো। শ্বেতপাথরে মোড়ানো দেওয়ান-ই-খাস আভিজাত্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক। দেওয়ান-ই-খাসেই স্থাপিত হয়েছিল মোঘলদের ‘তখত-ই-তাউস’ বা ময়ূর সিংহাসন, ছিল হেরেমখানাও। অন্যদিকে প্রাসাদের একপ্রান্তে ছিল যমুনামুখী আটকোণা বিশিষ্ট ঝুল বারান্দা, নাম ছিল মুসামা বুরুজ।
মোঘল সম্রাট আকবরের অনন্য কীর্তি ফতেহপুর সিক্রি। তাঁর রাজত্বের চৌদ্দ বছর এখানেই ছিল তাঁর রাজধানী। বিখ্যাত দরবেশ সেলিম চিশতি যে স্থানে নিঃসন্তান আকবরের ব্যাপারে পুত্র সন্তান লাভের ভবিষ্যদ্বাণী করেন সেখানেই আকবর ১৫৭১ সালে ফতেহপুর সিক্রি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। আকবর তাঁর পুত্রের নাম রাখেন শাহজাদা সেলিম, তিনিই পরবর্তীতে মোঘল সম্রাট হলে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করেন। মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনবদ্য আকর্ষণ ফতেহপুর সিক্রিতে রয়েছে- জামা মসজিদ, বুলন্দ দরওয়াজা, দরবেশ বাবা সেলিম চিশতির মাজার, পাঁচ মহল ইত্যাদি।
ভারতে মুসলিম শাসন ও স্মৃতির অকৃত্রিম দ্যুতি সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিস্থল। এ সমাধিক্ষেত্রে মুঘল রাজপরিবারের ১৫০ জন সদস্যকে সমাহিত করার কারণে হুমায়ুনের সমাধিস্থলটি ‘মুঘল রাজবংশের সমাধিক্ষেত্র’ হিসেবে পরিচিত। শ্বেত পাথরে আচ্ছাদিত হুমায়ুনের সমাধি মির্জা গিয়াথ নির্মাণ করেছিলন। অষ্টভূজ প্লাটফর্মে অবস্থিত সমাধিক্ষেত্রটি চতুষ্কোণাকৃতির এবং সৌধচূড়া ৪২.৫ মিটারের দু’টি গম্বুজ শোভিত। সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিস্থল মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনুপম প্রথম নিদর্শন, যেটি কৃত্রিম জলাধার ও বিলাসবহুল উদ্যানের মধ্যস্থলে নির্মিত হয়েছে। এ সমাধিক্ষেত্রটির দক্ষিণ ও পশ্চিমে রয়েছে দু’টি সিংহ দরওয়াজা, আছে প্যাভিলিয়ন, হাম্মামখানা।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান,
ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন