Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

নেপালের দুর্গম উত্তরাঞ্চলে বেল্ট অ্যান্ড রোড : বাড়ছে চীনের প্রভাব

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ১৪০ কিলোমিটার উত্তরে পূর্ণ উদ্যমে চলছে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ। ইন্দ্র বাহাদুর তামাং দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “চীনের দিকে রাস্তাটা এত চমৎকার, দেখে মনে হয় যেন সুইজারল্যান্ড; আর নেপালের দিকে কাঠমান্ডু থেকে সীমান্ত পর্যন্ত যেন ডিসকো রোড”। কাঠমান্ডু থেকে রাসুওয়াগাধি-ঝিলং সীমান্ত দিয়ে তিব্বতে যাওয়া আসা করে বাহাদুর। নেপাল উনবিংশ শতকের শুরুর দিকে তিব্বতে চাল, ময়দা এবং মাখন রফতানি করতো এবং উল আর চিনি কিনতো তিব্বত থেকে। এখন জিলংয়ের দিকের ট্রাকগুলো সব খালি, মাঝে মাঝে কিছু গম আর মরিচবাহী ট্রাক দেখা যাবে। সীমান্ত দিয়ে যে সব বাণিজ্য হচ্ছে এখন, এর মধ্যে ৯০ শতাংশই চীন থেকে নেপালে পণ্য নিয়ে আসছে। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে এ অঞ্চলে অবকাঠামো প্রকল্পগুলো বিকাশিত হচ্ছে দ্রুত। এর মধ্যে তাতোপানি-ঝাংমু এবং রাসুয়াগাধি-জিলং নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টিও রয়েছে। নেপাল তার মূল্যটা দিচ্ছে বেইজিংকে কূটনৈতিক সমর্থন দেয়ার মধ্য দিয়ে: তিব্বতে অবস্থিত একমাত্র বিদেশী মিশন রয়েছে নেপালের। সেখান থেকে নেপাল সম্প্রতি তিব্বত ও তাইওয়ানের উপর চীনের কর্তৃত্বের ব্যাপারে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। সপ্তাহে তিনবার নেপাল-তিব্বত যাওয়া আসা করে বাহাদুর। মাসে তার আয় ৫৩০ ডলার। নেপালের হিসেবে বেশ ভালো, যেখানে ২০১৭-১৮ সালে মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১০০০ ডলার। কিন্তু কাজটা ঝুঁকিপূর্ণ। কাঠমান্ডু থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পথে ভূমিধসের আশঙ্কা আছে। নেপালি সেনাবাহিনী বহুবার চেক করে যানবাহন। যাত্রার জন্য টানা আট ঘন্টা সজাগ থাকতে হয় ড্রাইভারকে। কিন্তু এর কোন বিকল্পও যে নেই। সীমান্তের ঠিক আগেই সড়ক চলে গেছে নেপালের তিমুর শহরের ভেতর দিয়ে। ২০১৫ সালে এই এলাকাটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ভূমিকম্পের পর চীনা সেনাবাহিনী এখানকার রাস্তাঘাটগুলো পরিস্কার করে দেয়, এখানকার বেঁচে যাওয়া মানুষদের উদ্ধার করে এবং তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে। তখন থেকেই এ অঞ্চলে চীনের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এর বেশির ভাগই হচ্ছে বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে। ধ্বংস হওয়া পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণের কাজ ২০১৬ সালে আবারও শুরু হয়। যদিও স্থানীয় অধিবাসীরা অভিযোগ করেছে যে, ত্রিশুলি নদীর অধিকাংশ মাছ মারা গেছে এবং রাসুয়া জেলার শত শত মানুষকে পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য এবং পণ্য স্টোরেজ ফ্যাসিলিটির জন্য তাদের জমি বিক্রি করে দিতে হয়েছে, যেগুলো নির্মিত হচ্ছে চীনের সরকারী উন্নয়ন সহায়তার অধীনে। চীন ও নেপালের মধ্য চলমান উন্নয়ন সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার কোন শেষ নেই। মার্কিন বেসরকারী সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল রিভার্স’ পরিবেশ ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে। তারা বলেছে যে, নেপালে চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছ থেকে ঋণ ও অর্থায়ন নেয়ার ব্যাপারে নেপালকে সতর্ক করে দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন যে, দুর্বল উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলার জন্যই চীন এই অর্থায়ন করছে, যাতে তারা সম্পদের উপর দখল নিতে পারে। রাসুওয়া জেলার মানুষের কাছে অবশ্য, চীন একটা অসামান্য সুযোগের নাম। ৩৭ বছর বয়সী পেমবা তাশি নাগথালি ডান্ডাতে একটি অতিথিশালা চালান। তিমুর থেকে কয়েক কিলোমিটার ভেতরে তামাং হেরিটেজ ট্রেইলের উপর এটার অবস্থান। চার সন্তানের শিক্ষার খরচ মেটানোর জন্য মাঝে মাঝে চীনে চলে যান তিনি নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে। দিনে ১৫০ ইউয়ান পান সেখানে তিনি। দেশে যা রোজগার করেন তিনি, তার প্রায় দ্বিগুণ আয় এটা। সূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চীন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ