Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

ডাকসু নির্বাচনও কলঙ্কিত করা হলো : বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতের ভোটের সংস্কৃতি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বের হতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের যাবতীয় আয়োজন ছাত্রলীগকে অবৈধপন্থায় বিজয়ী করার অনুকূলে। ভোটের আগের রাতেও ব্যালট বাক্স ভরানো হয়েছে, যার প্রমাণ পাওয়া গেছে কুয়েত মত্রী হলে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীসহ বিরোধী ছাত্র সংগঠনের সমর্থকরা যাতে ভোট দিতে না পারে সেজন্য পুলিশ অবিশ্বাস্য রকমের তৎপরতা শুরু করেছে। সব হলে হলেই ছাত্রলীগের আতঙ্কজনকহারে মহড়া চলছে। এ নির্বাচনের পরিণতি নিয়ে জনমনে সংশয় গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। গতকাল (সোমবার) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের ভাষা, স্বাধীকার,স্বাধীনতা, গণতন্ত্রসহ সকল অধিকার আন্দোলনে ডাকসুর ভূমিকা ছিল অগ্রগামী। দেশে বিদ্যমান নাৎসিবাদী পরিকাঠামোর মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ বছর এ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যরাতের ভোটের স্মৃতি ডাকসু নির্বাচনেও সাধারণ ছাত্রদেরকে তাড়িত করছে। এ নির্বাচনে সাধারণ ছাত্রদের ন্যায্য অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নাৎসিবাদী গণতন্ত্রের নানারুপ এ ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিফিলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ভোট কেন্দ্র করা হয়েছে ১৮টি হলে। সব সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র দাবি করেছিলেন, দাবি করেছিলেন ভোটের সময় বাড়ানোর, স্টিলের ব্যালট বাক্সের বদলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দাবি করেছিলেন, রাতের ভোটের আতঙ্কে রাতে যেন ব্যালট বাক্স না নেওয়া হয় সে দাবিও প্রার্থীরা করেছিলেন- কিন্তু এসব দাবি নাকচ করা হয়েছে। ১৮টি কেন্দ্রের জন্য টেলিভিশন মাধ্যমের ৪টি ইউনিট ও প্রিন্ট মিডিয়ার ২ জনকে ঢুকতে দেয়া হবে। অর্থাৎ সংবাদ সংগ্রহে কড়াকড়ি বিধি নিষেধ, তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। ডিজিটাল বাংলাদেশের উল্লাসে অস্থির ক্ষমতাসীনদের রাজত্বে এখন কি দশা হলো যে মোবাইল ফোনসহ সব ধরণের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাতে নির্বাচনের দিন সব ধরণের অনিয়মের প্রমাণ না রাখা।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫ জন। যা ডাকসুর ইতিহাসে নজিরবিহীন। ছাত্রলীগের ভয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এ রকম বেশ কিছু প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিরোধী মতের শিক্ষকদের ডাকসু নির্বাচনের কোন দায়িত্বে রাখা হয়নি। গত কয়েক দিনের সাধারণ ছাত্রদের জোর করে ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে সাধারণ ছাত্রদের হুমকি দিয়ে হলগুলো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ছাত্রলীগ। মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ডাকসু নির্বাচন সরকারেরই নীতি ও নীলনকশা অনুযায়ী হয়েছে।
খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে মস্করা করতেই মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা প্রতিযোগিতায় নেমেছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রীর প্রতি সরকার প্রধানের বিদ্বেষপোষণের কারণেই সরকার তাঁকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে না। বার বার পরিবারের ও দলের পক্ষ থেকে কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও তাদের নির্দয় মনোবৃত্তির কোন পরিবর্তন হয়নি। তারা জোর করে তাঁকে বিএসএমএমইউতে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) পাঠাতে চায়। সেখানে কয়েকমাস আগে বেগম জিয়াকে ভর্তি করার পর তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর রোগ নির্ণয়ের জন্য তেমন কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। যাও দু একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল তাও আবার জুনিয়র ও অদক্ষ টেকনিশিয়ার দ্বারা করানো হয়েছে। তাঁকে চিকিৎসা দিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ পর্যন্ত মানা হয়নি।
তিনি বলেন, যে পিজি হাসপাতালে অন্য হাসপাতাল থেকে ক্লিনিক্যাল যন্ত্রপাতি ধার করে আনতে হয়, সেখানে কিভাবে সুচিকিৎসা সম্ভব। আওয়ামী নেতাদের চিকিৎসা সেখানে সম্ভব হয়নি। বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনার পরও আওয়ামী নেতাদের বিদেশে পাঠাতে হয় চিকিৎসার জন্য। সেটিও আবার রাষ্ট্রীয় খরচে। অথচ বেগম জিয়ার নিজ দেশে নিজ খরচে, বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সুযোগ নেই। শুধুমাত্র বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মিডনাইট ভোটের সরকার প্রধানের প্রতিহিংসার তুষের আগুন ধিকিধিকি জ্বলার কারণেই বেগম জিয়া কারান্তরালে এবং তাঁকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
রিজভী অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ