Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সেভিয়ার হ্যাটট্রিক, না লিভারপুলের চতুর্থ?

প্রকাশের সময় : ১৮ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস ডেস্ক : দুর্দান্ত একটা অর্জন হাতছানি দিচ্ছে স্পেনের দল সেভিয়াকে। উয়েফা ইউরোপা লিগে টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের হাতছানি তাদের সামনে। ৪ বার শিরোপা জিতে ইতোমধ্যেই আসরের সবচেয়ে সফলতম দল তারাই। এবার সেটাকে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ উনাই ইমারির দলের সামনে। তবে শিরোপা সংখ্যায় তাদের ধরে ফেলার সুযোগ ইংলিশক্লাব লিভারপুলের সামনেও। তাহলে সেভিয়ার টানা ৩, নাকি ১৫ বছর পর লিভারপুল জিতবে তাদের চতুর্থ শিরোপা? আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা। আজ রাতেই ফাইনালে মুখোমুখি হবে দু’দল।
ঘরোয়া লিগে সেভিয়া ও লিভারপুল, কোন দলই নেই সুবিধাজনক অবস্থানে। দু’দলের অবস্থান যথাক্রমে সপ্তম ও অষ্টম। সুইজারল্যান্ডের বাসেলের স্টেডিয়াম জ্যাকোব পার্কের মাঠে আজ রাতে তাই শিরোপার পাশাপাশি আরো আরো একটা পুরষ্কার অপেক্ষা করছে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য। জয়ী দলের সুযোগ মিলবে সামনের মৌসুমে সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেয়ার। রেড কোচ ইয়ুর্গুন ক্লপ কি পারবেন সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের প্রিমিয়ার লিগ হতাশা ভুলিয়ে দিতে?
ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় অবশ্য দু’দলের সাক্ষাত এবারই প্রথম। তবে স্প্যানিশ দলের বিপক্ষে লিভারপুলের রেকর্ডটা একেবারে মন্দ না। ১৪টি জয়ের পাশাপাশি সমান ১০টি করে ড্র ও হারের রেকর্ড তাদের। জয়ের রেকর্ড আছে সেভিয়ারও, সমান ৩টি করে জয় ও হার, ড্র ২টি। তবে মাঠের প্রসঙ্গ আসলে হয়তো কিছুটা এগিয়ে থাকবে সেভিয়া। চলতি আসরের শেষ ষোলর ম্যাচে এই মাঠেই বাসেলের সাথে গোলশূণ্য ড্র করেছিল তারা। এটিই জ্যাকোব পার্কে সেভিয়ার একমাত্র ম্যাচ। লিভারপুল অবশ্য এদিক দিয়ে কিছুটা এগিয়ে (২টি) থাকলেও শেষ ম্যাচে হারের স্মৃতিটাই তাদের সামনে বেশি টাটকা। গেল মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রæপ পর্বে বাসেলের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল ফিলিপ কোতিনহো-অ্যাডম লালানারা।
আনফিল্ডের দলটির ইউরোপিয়ান শিরোপার অপেক্ষা অবশ্য অনেক দিনের। পাঁচ-পাঁচটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা লিভারপুলের নামের পাশে, সর্বশেষ খেতাবটি জেতে ১১ বছর আগে। এরপর আর কোন ইউরোপিয়ান শিরোপা নেই ইংল্যান্ডের ঐতিয্যবাহী এই দলের নামে। তিনটি ইউরোপা লিগের শেষটাও সেই ২০০১ সালে। গত ৮ বছার পর তো ইউরোপিয়ান কোন প্রতিযোগিতার ফাইনালেই উঠতে পারেনি তারা। ২০০৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে এসি মিলানের কাছে হারের এটিই তাদের একমাত্র ফাইনাল।
সেভিয়ার অবশ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগটা অধরাই রয়ে গেছে। তবে ইতোমধ্যেই ইউরোপা লিগ স্পেশালিস্ট নাম হয়ে গেছে তাদের। এবার শিরোপা জিতলে টানা তৃতীয় শিরোপা তো বটেই, তৃতীয় কোন দল হিসেব চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রæপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ইউরোপার শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়বে তারা। জয়ের তীব্র আকাঙ্খা ইতোমধ্যেই দলের সদস্যদের মনে বর্তে দিয়েছেন সেভিয়া অধিনায়ক কোকে, ‘আমাদের কিছু খেলোয়াড়দের জন্যে এটা হতে পারে শেষ কোন শিরোপা, তাই আমরা এটা হাতছাড়া করতে চাই না।’
লিভারপুল কোচ অবশ্য ফাইনালের চাপটা কৌশলে বর্তে দিতে চাইছেন সেভিয়ার দিকে। আগামী রবিবার কোপা দেল রে’র ফাইনালে সেভিয়ার প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা। এটাই ‘বড় পার্থক্য’ গড়ে দেবে বলে মনে করেন ক্লপ। এছাড়া সেভিয়া টানা দুই বার শিরোপা জিতলেও সেটা এই ম্যাচে কোন প্রভাব ফেলবে না বলেও মনে করেন জার্মান কোচ, ‘এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, তারা বেশ অভিজ্ঞ এবং লড়াইয়ের জন্য তারা প্রস্তুত। তার মানে এই না যে সেই অভিজ্ঞতা তাদের আলাদা সুবিধা দেবে।’ ক্লপের এই দলের কোন সদস্যরই কিন্তু ইউরোপিয়ান শিরোপা জয়ের স্বাদ নেই। দেখা যাক ক্লপ শিষ্যদের সেই স্বাদ দিতে পারেন কি-না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সেভিয়ার হ্যাটট্রিক
আরও পড়ুন