Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছে আরসিবিসি

রিজার্ভ চুরি অতঃপর মানহানি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইবার চুরির ঘটনায় নাম জড়িয়ে ‘মানহানির’ অভিযোগে এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন-আরসিবিসি। তিন বছর আগে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের আশায় গত ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কৌঁসুলি আজমালুল হোসেন কিউসি চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, মামলা করলেও এবার তারা বিবাদীদের সঙ্গে সমঝোতা করে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চালাবেন। তার এক সপ্তাহের মাথায় মঙ্গলবার আরসিবিসির পাল্টা এই মামলা করার খবর দিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ফিলিপিন্সের এই ব্যাংক বলছে, তাদের কোম্পানির সুনাম ও ভাবমূর্তির ওপর বার বার ‘অশুভ আক্রমণ’ চালিয়ে যাচ্ছে। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি পেসো (১৯ লাখ ডলার) দাবি করা হয়েছে মামলায়।
রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের এই মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংককে অভিযুক্ত করা হয়েছে, অর্থ হ্যাকিং এর বিষয়ে ব্যাংকটি বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের। আরসিবিসি জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্বেষপূর্ণ এমন কান্ডে তাদের মানহানি ও কোম্পানির ক্ষতিসাধন হয়েছে। তাই তারা অন্তত ১.৯ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে। তবে মামলা দায়েরের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে নেয় হ্যাকাররা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই অর্থ চুরি করা হয়। চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় দুই কোটি ডলার এবং বাকি আট কোটি ১০ লাখ ডলার প্রথমে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অবস্থিত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) একটি শাখায় পাঠানো হয়। পরে এই অর্থ আরসিবিসি থেকে চলে যায় ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে, আরসিবিসি-এর সাবেক ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোকে। গত ১০ জানুয়ারি তাকে বিভিন্ন অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, জরিমানা করা হয়, ১০ কোটি ৯ লাখ ডলার। রায়ে আদালত জানান, হ্যাকিং এর অর্থ লেনদেনে মায়া দেগুইতোর সম্পৃক্ততরা প্রমাণ মিলেছে। তিনি অবৈধ ব্যাংক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়ের করা মামলায়, আরসিবিসির কাছে চুরি হওয়া অর্থের পাশাপাশি মামলা পরিচালনা ও এ সংক্রান্ত আইনি খরচসহ ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। সেই মামলায় আরও আসামি করা হয়, সম্পৃক্ত মানি এক্সচেঞ্জ, ক্যাসিনোসহ যেসব স্থানে টাকা গেছে, সেসব প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আরসিবিসি মামলা করেছে বলে বিদেশি বার্তা সংস্থার মাধ্যমে জেনেছি। এটি যেহেতু আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা তাই এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল এখন ফিলিপাইনে। তারা দেশে এলে এ বিষয়ে বলতে পারবেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্যাংক


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ