Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

আইয়ুব-মোনায়েম পেলেন বঙ্গবন্ধুকে পেলেন না

সম্পাদক শুভঙ্কর সাহাকে হাইকোর্টের প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর ছবি না ছাপানোয় ইতিহাস বিকৃতি’র ঘটনায় ওই গ্রন্থের সম্পাদক শুভঙ্কর সাহা হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ সময় আদালত বলেন, আইয়ুব খান, মোনায়েম খানকে বইতে হাইলাইট করলেন অথচ বঙ্গবন্ধুর একটা ছবিও পেলেন না? আদালতে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ঠিক করে দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিজ উল্লাহ ইমন ও শুভঙ্কর সাহার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যোবায়ের রহমান।
আদালত শুনানির শুরুতেই গ্রন্থের সম্পাদক শুভঙ্কর সাহার কাছে জানতে চান এ ঘটনা কিভাবে ঘটল? তখন শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বই প্রকাশে একটি টিম দায়িত্বে ছিলেন। বইয়ে বঙ্গবন্ধুর অবদান, ৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক রিলেটেড বঙ্গবন্ধুর কোনো ছবি না পাওয়ায় বইয়ে বঙ্গবন্ধুর কোনো ছবি দেয়া হয়নি। এই জন্য আমি আদালতের কাছে পুরো টিমের পক্ষে ক্ষমা চাচ্ছি। তখন আদালত বলেন, আইয়ুব খান, মোনায়েম খানের ছবি পেলেন অথচ বঙ্গবন্ধুর একটা ছবিও পেলেন না?
শুভঙ্কর সাহা বলেন, বইতে আইয়ুব খানকে স্বৈরাচার হিসেবেই অ্যাখ্যায়িত করা হয়েছে। তারপরও বঙ্গবন্ধুর ছবি না দেয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে আবারও নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। এসময় আদালতে রিটকারী আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন আদালতের কাছে বলেন, ক্ষমা চেয়ে ইতিহাস বিকৃতির দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।
আইনজীবী আজিজ উল্লাহ ইমন পরে সাংবাদিকদের বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণ নোটিশ দিয়ে প্রকাশিত বইয়ের সব কপি বাজার থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। আর নতুনভাবে প্রকাশিত বইয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। আইনজীবী এ বি এম আলতাফ বলেন, ইতিহাস বিকৃতির দায় স্বীকার করে শুভঙ্কর সাহা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চাইলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। ফলে পরবর্তী তারিখে তাকে আসতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি না ছাপিয়ে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি ছাপানোর ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহাকে তলব করেন। সেই সাথে ইতিহাস বিকৃতি ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ মন্তব্য করে আদালত বইটির সব পুরনো কপি বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশনা দেন।
উল্লেখ, ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকাকালে ২০১৩ সালে এই বইয়ের পান্ডুলিপি তৈরি ও প্রকাশনার সিদ্ধান্ত হয়। বই প্রকাশের জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি ও সম্পাদনা পরিষদ গঠন করা হয়। বইটি প্রকাশের আগে সম্পাদনা পরিষদে বেশ কয়েকবার রদবদল হয়। সর্বশেষ এ দায়িত্বে ছিলেন ব্যাংকের তখনকার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা। তার আগে দায়িত্ব পালন করেন আরেক নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মাহাফুজুর রহমান। দু’জনই এখন অবসরে। পান্ডুলিপি চূড়ান্ত করার পর ২০১৭ সালে ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’। বর্তমান গভর্নর ফজলে কবির ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ অনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।



 

Show all comments
  • Bashir Ahmed ১৩ মার্চ, ২০১৯, ২:২৯ এএম says : 0
    বিষয়টি খুবই দুঃখজনক
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ ব্যাংক


আরও
আরও পড়ুন