Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫ চৈত্র ১৪২৫, ১১ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

লেনদেনের পবিত্রতা ও হালাল ভক্ষণ-২

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ১৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

গত আলোচনায় উল্লিখিত কোরআন মাজীদের সে সমস্ত পরিষ্কার ও বিশদ নির্দেশ ছাড়াও মাপজোখে অবিশ্বস্তকারীদের কেয়ামতের কঠিন আজাব সম্পর্কে এমনভাবে ভীতি প্রদর্শন করেছে, যার অন্তরে আল্লাহর ভয়ের সামান্যতমও স্থান রয়েছে সে অবশ্যই কেঁপে উঠবে।
ভুলক্রমেও তার দ্বারা কখনো এ ধরনের খেয়ানত বা অবিশ্বস্ততা সংঘটিত হবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘বিরাট অকল্যাণ ও মন্দ পরিণতি রয়েছে মাপজোখে ভ্রষ্টাচারদের জন্য। (যাদের আচরণ হলো এই যে, যখন মানুষের কাছ থেকে তারা নিজের জন্য মেপে নেয়, তখন ভরপুর নেয়। পক্ষান্তরে অন্যদেরকে যখন তারা কোনো বস্তু-সামগ্রী মেপে দেয়, তখন কম করে দেয়। এরা কি এ বিষয়টি লক্ষ্য করে না যে, (মৃত্যুর পর হিসাব ও প্রতিদানের) মহাদিবসের জন্য তাদেরকে পুনজ্জীবিত করে তোলা হবে, যেদিন সমস্ত মানুষ মহা পরাক্রমশালী রাব্বুল আলামীনের দরবারে দন্ডায়মান হবে?’ (সূরা তাতফীফ : আয়াত ১-৬)।
যে লোক সত্যিকার মনে কোরআন মাজীদকে আল্লাহর কিতাব হিসাবে মান্য করবে, সে লোক এ আয়াতগুলো শোনার পর মাপজোখে অবিশ্বস্ততা কেমন করে করতে পারে? যারা নিজেদের ঈমানদার বলে দাবি করে তাদের মধ্যেও যদি কোথাও এ ধরনের লোক দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে, তাদের অন্তর প্রকৃত ঈমান থেকে বঞ্চিত।
হারামখোরীর একটি অতি অভিশপ্ত রূপ হলো, কারও ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পুরুষের পোশাক পরে অর্থাৎ, দীনি আলেম-ওলামা কিংবা ওলী-দরবেশের ভোল বা ছদ্মবেশ ধরে নানা রকম ধোঁকা-প্রতারণার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সরল প্রাণ বান্দাদের কাছ থেকে ভেট-নজরানা আদায় করা।
এ ধরনের লোকদের সাধারণ পন্থা হলো- আদায় ওয়াসিলের এর ধারাকে চিরকাল অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এবং ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য সংরক্ষণ করার উদ্দেশে তারা পুরোপুরি চেষ্টা করে, যাতে তাদের এ ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানবকুল সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা থেকে অজ্ঞ থাকে এবং আল্লাহ তায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দা এবং সত্য দ্বীনের সত্যিকার খাদেম ও দাওয়াতকর্মীদের কাছ থেকে দূরে সরে থাকে।
মহানবী (সা:)-এর আমলে এ ধরনের অধিকাংশ লোক ছিল ইহুদি। কিন্তু আমাদের এ যুগে দুর্ভাগ্যক্রমে স্বয়ং মুসলমানদের মধ্যে এ ধরনের পেশাধারী একটা দুর্বৃত্ত শ্রেণী বিদ্যমান রয়েছে। তাদের কাজকর্ম ও ব্যবসা এটাই। যাহোক, এ ধরনের লোক ইহুদি হোক বা খ্রিস্টানই হোক কি মুসলমান।
কোরআন মাজীদে তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, অনেক পাদ্রী ও যাজক আল্লাহর বান্দাদের সম্পদ অবৈদ পন্থায় ভোগ করে এবং (সেসব লোকের কোনো রকম ধর্মীয় ফায়দা পৌঁছানো কিংবা আল্লাহর পথ প্রদর্শনের পরিবর্তে উল্টা তাদেরকে) আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখে। (সূরা তাওবাহ : আয়াত ৩৪)।



 

Show all comments
  • ইমরান ১৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:২৩ এএম says : 0
    সুদ, উৎকোচ, জুয়া, ছক্কা, লটারী, ধোঁকা-প্রতারণার ব্যবসায় এবং এগুলো ছাড়াও উপার্জনের সমস্ত নাজায়েজ বা অবৈধ পন্থা তা পুরনোই হোক অথবা নবাবিষ্কৃত সবই নিষিদ্ধ ও হারাম
    Total Reply(0) Reply
  • Kamrul Hasan ১৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:২৫ এএম says : 0
    আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার সকল হালাল বস্তু আহারসহ তাঁর সকল বিধি-বিধানের প্রতি তাঁর আনুগত্য প্রদর্শনের পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী যাবতীয় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।
    Total Reply(0) Reply
  • Kawsir ১৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:২১ এএম says : 0
    উপরে বর্ণিত মানুষদের কাছ থেকে দূরে থাকা উচিত।
    Total Reply(0) Reply
  • আবু নোমান ১৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:২২ এএম says : 0
    মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আমাদের সবাইকে দ্বীনের পথে সঠিকভাবে চলার তৌফিক দান করেন। আমিন
    Total Reply(0) Reply
  • কাওসার আহমেদ ১৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:২৫ এএম says : 0
    আল্লাহ সকলকে হারাম থেকে রক্ষা করুন, হালাল দ্বারা জীবন যাপনের তাওফীক দান করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • বুলবুল আহমেদ ১৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:৩০ এএম says : 0
    জান্নাতে যেতে হলে জীবনের অন্তিম নিঃশ্বাসটি পর্যন্ত হালাল খেয়েই যাপন করতে হবে। বিরত থাকতে হবে সুদ, ঘুষ, চাঁদাবাজিসহ সকল প্রকারের অবৈধ উপায় থেকে। তাহলে ঈমানের সাথে মৃত্যু নসীব হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • তানবীর ১৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:৩১ এএম says : 0
    বহু আয়াত ও হাদিসে হালাল উপার্জনের তাগাদা এসেছে। আরো এসেছে নিষিদ্ধ উপায় থেকে বিরত থাকার সতর্কবাণীও; হালাল উপার্জন ব্যতীত ঈমানদারের জন্য রিজিক লাভের বিকল্প কোন দরজা ইসলাম খোলা রাখেনি এবং এর অনুমতিও নেই। রুজি-রোজগারে হালাল বস্তু ভক্ষণ না করলে কোন ইবাদতই কবুল হয় না। হারাম উপায়ে উপার্জিত বস্তু খেলে রিজিক থেকে বরকত উঠে যায়। হারাম সম্পদ গ্রহণে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তিনি বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করো না” (সুরা: নিসা, আয়াত: ২৯)।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ