Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯, ০৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব

প্রকাশের সময় : ১৯ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম


জিজ্ঞাসার জবাব
১। মোহাম্মদ হাসানুল বারী ফেরদাউস, খেজুরবাগ (কুমিল্লাবাড়ী) কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।
জিজ্ঞাসা : শবেবরাতের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে চাই। আলোচনা করুন।
জবাব : ১. হযরত মা-আয়েশা (রা.) নবী করীম (সা.) হতে বর্ণনা করেন যে, একদা নবী করীম (সা.) (আমাকে) জিজ্ঞাসা করলেনÑ তুমি কি জান এ রজনীতে অর্থাৎ শাবানের পনেরতম রজনীতে কী হয়? তিনি (মা আয়েশা) বলেছেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ রজনীতে কি হয়? অতঃপর তিনি বললেনÑ এ রজনীতে যত আদম সন্তান এ বছর জন্মগ্রহণ করবে তাদের নাম লেখা হয় এবং এ বছর যত বনী আদম মৃত্যুবরণ করবে তাদেরও নাম লেখা হয়। আর এ রজনীতে বনী আদমের (সারা বছরের) কৃতকার্য উপরে উঠিয়ে নেয়া হয় এবং রজনীতেই তাদের (নির্ধারিত) রিজিক অবতীর্ণ করা হয়। -(মিশকাত শরিফ ১ম খ-, পৃ. নং-১১৫)
২. হযরত ওসমান ইবনে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেনÑ এক শাবান হতে অপর শাবান পর্যন্ত (ভূপৃষ্ঠে বসবাসকারীদের) জীবন নির্ধারণ করা হয়। এমনকি মানুষ বিবাহশাদি করে, তার সন্তান হয় অথচ তার নাম মৃতদের তালিকাভুক্ত হয়ে গেছে। (তারাবি-২৫/৬৫ কুরতবী-১৬/১২৬, ইবনে কাছীর-৪/১৩৭, শুআ’বুল ঈমান-৩/৩৮৬)
৩. মা-আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে খুঁজতে বের হলাম। অতঃপর (মদিনার বৃহৎ কবরস্থান) জান্নাতুল বাকীতে গিয়ে তাকে অবস্থানরত দেখতে পেলাম। তিনি বললেনÑ তুমি কি আশঙ্কা করছ যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার ওপর জুলুম করবে? (অর্থাৎ তোমার হক নষ্ট করবেন)? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ধারণা হলো, সম্ভবত আপনি অন্য কোনো স্ত্রীর কাছে গমন করেছেন। অতঃপর তিনি বললেনÑ নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহতায়ালা শাবানের মধ্যবর্তী রাতে (অর্থাৎ শবেবরাতে) দুনিয়ার নিকটতম আকাশে শুভাগমন করেন এবং (আরবের সর্বাধিক মেষপালের অধিকারী) কালব গোত্রের বকরিগুলোর পশমের চেয়ে অধিক সংখ্যক লোককে তিনি ক্ষমা করে দেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যারা জাহান্নামের তালিকাভুক্ত লোক এমন লোকদেরও মাফ করে দেন। (মিশকাত শরিফ-১/১১৪, বাইহাকী-৩/৩৭ সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহাহ্্ ৩/১৩৮)
৪. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন, আল্লাহতায়ালা শাবানের পনেরতম রাতে প্রথম আসমানে (দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে) অবতরণ করেন এবং এ রজনীতে সবাইকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, কেবলমাত্র মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত। (বাইহাকী-৩/৩৮০ বাগভী-৪/১২৬, মাযমাউয যাওয়াইদ ৮/৬৫)। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, হিংসুক এবং অন্যায়ভাবে হত্যাকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন। (মুসনাদে আহমাদ ২/১৭৬)
৫. হযরত ওসমান ইবনে আবুল আস (রা.) নবী করীম (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি ফরমায়েছেনÑ যখন শাবানের পঞ্চদশ রজনী আসে, তখন (আল্লাহর পক্ষ হতে) এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করতে থাকেনÑ আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোন প্রার্থনাকারী? আমি তাকে দান করব। তখন ব্যভিচারিণী ও মুশরিক ব্যতীত যে ব্যক্তি প্রার্থনা করে, সে তা প্রাপ্ত হয়। -(বাইহাকী-১২৫, ৩/৩৮৩)।
৬. হযরত আবু ছালাবা খুশানী (রা.) নবী করীম (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি ফরমায়েছেন, যখন শাবানের পঞ্চদশ রজনী আসে, তখন বিশ্বজগতের প্রতিপালক স্বীয় সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহের দৃষ্টি দিয়ে মুমিনদের ক্ষমা করে দেন, কাফেরদের সুযোগ দেন। আর হিংসুকদের বিষয় মুলতবি রাখেন, যতক্ষণ না তারা হিংসা পরিত্যাগ করে। Ñ(বাইহাকী ৩/৩৮১, মু’জামে কাবীর-২২/১৮৪)
উত্তর দিচ্ছেন : মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল মতিন



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব
আরও পড়ুন