Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯, ০২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে

কামরুল হাসান দর্পণ | প্রকাশের সময় : ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১২:০০ পিএম

অনেকে বলেন, অর্থনৈতিকভাবে ভেতরে ভেতরে বাংলাদেশ বদলে গেছে। বাস্তবিকই বদলে গেছে এবং ক্রমশ বদলাচ্ছে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক অন্তত তাই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও ধীর গতিতে অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যকার জীবনমানের উন্নয়নের তাকিদ এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আজকের সমৃদ্ধশালী মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের অবস্থানে বা তাদেরকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব। দুর্ভাগ্যের বিষয়, বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষ স্থিতিশীল একটি রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। তারপরও তারা তা অতিক্রম করেই নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে। তাদের এই প্রচেষ্টাতেই বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার ‘ইমার্জিং টাইগার’ খেতাব পেয়েছে। প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী দেশ বাংলাদেশকে নিয়ে এখন যথেষ্ট মাথা ঘামাচ্ছে। সউদী আরব বিপুল বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটি বাংলাদেশে তার একটি অর্থনৈতিক হাব গড়ে তুলতে চাচ্ছে। বাংলাদেশ যেভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গলিপথ থেকে মহাসড়কে উঠে চলতে শুরু করেছে, তাতে সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। বলা বাহুল্য, এই কৃতিত্বের দাবীদার সাধারণ মানুষ এবং তাদের কর্মোদ্দীপনা ও কর্মস্পৃহা। প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে ‘সেল্ফ ডেভেলপমেন্ট’ বা নিজেকে উন্নত করার প্রবল ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। প্রশ্ন আসতে পারে, রাজনৈতিক দল, যারা পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের ভূমিকা কতটুকু? এ প্রশ্ন যদি ঘুরিয়ে করা হয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষমতাসীন দলগুলোর কাছ থেকে যে প্রত্যাশিত মনোযোগ বা ভূমিকা প্রয়োজন ছিল, তারা কি যথাযথভাবে করতে পেরেছে বা পারছে? একজন সেল্ফ ডেভেলপমেন্টকারী ব্যক্তির কাছ থেকে এর ইতিবাচক উত্তর পাওয়া দুষ্কর। কারণ, যুগের পর যুগ দেশের অস্থিতিশীলতার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর মুখ্য ভূমিকাই জনসাধারণ দেখে আসছে। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রের নবযাত্রা থেকে যদি সুস্থির রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকত, তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চার এশিয়ান টাইগার হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, হংকং ও সিঙ্গাপুরের পর বাংলাদেশ পঞ্চম টাইগারে পরিণত হতে পারত। তারপরও বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে তার অর্থনীতির ভেতরের শক্তি তথা সাধারণ মানুষের উন্নতির সহজাত তাড়নার কারণে।
দুই.
একটা সময় প্রাকৃতিক দুযোর্গ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হিসেবে গণ্য হতো। এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অনেকটাই অর্জন করেছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার লড়াইয়ে যে দুর্যোগ শুরু হয়, তা অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা পড়ে। বিগত বছরগুলোতে এ প্রবণতা ব্যাপক হারে বিদ্যমান ছিল। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সাধারণ মানুষের উন্নয়নকামী উদ্দীপনা স্তিমিত করে দেয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়েও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে ভয়াবহ দুর্যোগ হয়ে দেখা দেয়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও গত এক দশকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র দ্বিগুণ হয়েছে। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সারা দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট (অর্থনৈতিক ইউনিট বলতে প্রতিটি পরিবার ও ব্যবসাভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্মকাণ্ডকে বোঝায়) বেড়েছে শতকরা ১১৮ ভাগ। এক যুগ আগে যেখানে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল ৩৭ লাখের বেশি, সেখানে এখন তা দ্বিগুণের বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ লাখ। শিল্প ও সেবাখাত বিকশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চ আয়ের প্রত্যেক মানুষের অবদান রয়েছে। অর্থাৎ একজন রিকসা চালক থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্প ব্যবসায়ী জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় নিম্নআয়ের মানুষ ও ব্যবসায়ীরাই বেশি ক্ষতির শিকার হন। বলার অপেক্ষা রাখে না, রাজনৈতিক দলগুলো যে জনগণের কথা বলে রাজনীতি করে, তা জনগণের জন্য বুমেরাং হয়ে যায়। জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের কথা বলে প্রকারন্তরে নিজেদের ক্ষমতার উন্নয়নকেই প্রাধান্য দেয়। ক্ষমতাসীন দলের ভূমিকা যা থাকে, তা প্রত্যাশা পূরণে যথেষ্ট না হলেও, তারা সাধারণ মানুষের কর্মদ্যোমী প্রচেষ্টার উন্নয়নকে নিজেদের শতভাগ উন্নয়ন বলে দাবী করে। সরকারের যে ভূমিকা থাকে না তা নয়, তবে সাধারণ মানুষের চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। এ কথা অনস্বীকার্য, এখন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা অনিশ্চয়তাও নেই। এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনৈতিক যে অগ্রযাত্রা তা দ্রæততায়িত হবে। মধ্যম আয়ের দেশ হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। জিডিপি ডাবল ডিজিট বা ১০ শতাংশে পৌঁছতে বেগ পেতে হবে না। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের জিডিপি ৭ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তা কখনো তার নিচে চলে গেছে। বর্তমান সরকার এ পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত সপ্তাহে বলেছেন, আমরা চলতি অর্থ বছরে ৮.১১ থেকে ৮.২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেছেন, আমরা স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিক্ষাসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছি। ১০ বছর পূর্বের বাংলাদেশ আর বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যে অনেক তফাত রয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ চিত্র আশাব্যঞ্জক। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে এ অগ্রগতি আরও বেগবান হবে। সাধারণ মানুষও চায় না আর কোনো রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক। তারা বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার রেসে শামিল হতে চায়। নিজেদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়ে ভাল থাকতে চায়। সরকারসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সাধারণ মানুষের এই আকাক্সক্ষা উপলব্ধি করতে হবে। ক্ষমতায় যারাই আসুক বা থাকুক, তাদেরকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
তিন.
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান শক্তি সাধারণ মানুষ, যারা কোন রাজনৈতিক শক্তির মুখাপেক্ষী নয়। নিজেদের উন্নয়নে নিজেরাই ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই প্রচেষ্টার ফলেই দেশের সার্বিক অর্থনীতির চাকা সচল ও গতিপ্রাপ্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার রোডম্যাপে পা রেখেছে। এর মূল কারণ সাধারণ মানুষ সীমাবদ্ধতা সত্তে¡ও নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব সত্তে¡ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, জিডিপিতে ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রাথমিক বিনিয়োগ সরকারি পর্যায় থেকে হতে হবে। মাথাপিছু আয়ের গতি বৃদ্ধি করতে হবে। তার মনে করছেন, বিগত এক দশকে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় উন্নতি করেছে। বাংলাদেশ যে এগিয়ে চলেছে, তার আরেকটি মাপকাঠি হচ্ছে, অর্থনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণ সূচক লাইন থেকে এগিয়ে থাকা। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণ সূচক স্কোর ৩৮-এর নিচে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর প্রায় সমান সমান। অর্থাৎ অর্থনীতির মূল ক্ষেত্রগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগুতে পারলে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণ হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। এক্ষেত্রে সরকারকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ, বিনিয়োগে উদ্দীপনামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এর কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এ অঞ্চলগুলো পুরোপুরি কার্যকর হলে দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে। আনকটাড-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগামী বছরের মধ্যে ১৩ কোটি মানুষ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি মাথায় রেখে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সরকারকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে। তা নাহলে মাইগ্রেশন বা মানুষের দেশ ত্যাগ থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।
উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশকে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ইজ পুওর কান্ট্রি বাট রিচ ইন পপুলেশন’। এ কথার স¤প্রসারিত অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশ গরিব হতে পারে, কিন্তু এ দেশের রয়েছে অর্থনীতিকে বদলে দেয়ার মতো বিপুল জনগোষ্ঠী। যে জনসংখ্যাকে এক সময় বোঝা মনে করা হতো, এখন তা সম্পদে পরিণত হয়েছে। এই জনসংখ্যা গ্রামীণ অর্থনীতির চেহারা বদলে দিচ্ছে। প্রায় প্রত্যেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে উন্নতির চেষ্টা চালাচ্ছে। যারা বেকাল তারাও কিছু না কিছু করার চেষ্টা করছে। তাদের এ চেষ্টাকে বাস্তব রূপ দিতে সরকারকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাথাপিছু আয় যে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের অবদান। আন্তর্জাতিকভাবে ধরা হয়, যে দেশের মাথাপিছু আয় এক হাজার ডলার, সে দেশ গণতন্ত্র অগ্রযাত্রার মধ্যে রয়েছে। আর যে দেশে মাথাপিছু আয় পাঁচ হাজার ডলার, সে দেশে পূর্ণভাবে গণতন্ত্র বজায় রয়েছে। অর্থাৎ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সাথে মানুষের জীবনমানের উন্নতির বিষয়টি জড়িত। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি যত বেশি হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, দেশে বিশৃঙ্খলাও তত কমবে। স্বাভাবিকভাবে আয় বৃদ্ধির সাথে মানুষের সচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, তাদের ভেতর দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ধীর গতিতে হলেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণেই ১৯৯১ সাল থেকে গণতন্ত্রের যে যাত্রা শুরু হয়, তারই ধারাবাহিকতায় মাথাপিছু আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুঃখের বিষয়, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির কারণে গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রার পথটি বাধাগ্রস্থ হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে দেশের উন্নতির ধারাবাহিকতার দিকে লক্ষ্য রেখে সমঝোতার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য উপায় রাজনৈতিক দলগুলো বের করতে পারেনি। যে দল ক্ষমতাসীন হয়েছে, তারা ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জন্য নিজেদের ইচ্ছামত বিভিন্নভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। এ ধারা এখনও অব্যাহত আছে। অন্যদিকে বিরোধী দলও তার প্রতিবাদে আন্দোলন সংগ্রাম করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার কর্মসূচী দেয়। আর ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে এমন সাপে-নেউলে সম্পর্ক যে, সমঝোতাপূর্ণ সম্পর্ক দূরে থাক, কারও মধ্যে একে অপরকে সহ্য করার মানসিকতাটুকুও নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর এই বৈরী মনোভাবের মধ্যেই সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র জীবনমান উন্নয়নের তাকিদে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। তাদের এই কর্মপ্রচেষ্টা যদি বাধাগ্রস্থ এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথটি কণ্টকাকীর্ণ না হতো, তবে বাংলাদেশ এতদিনে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতো। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ উপলব্ধি কবে আসবে বা আদৌ আসবে কিনা, তাই এখন দেখার বিষয়। বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংস পরিস্থিতির কারণে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা এখনো পড়ে পড়ে রয়েছে। উপরন্তু প্রভাবশালীরা ঋণ নিয়ে তা শোধ না করে ঋণখেলাপী হয়েছে। এর অর্থ জনগণের অর্থ মেরে দেয়া। উন্নয়নকামী দেশ হিসেবে এ ধরনের পরিস্থিতি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
চার.
উৎপাদনসক্ষমতা ও দক্ষতা, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ, পর্যাপ্ত অবকাঠামো, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ একটি দেশের উন্নতির অন্যতম শর্ত। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা যে গতিতে চলছে, তাকে আরও বেগবান করতে এসব শর্ত বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন, রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থনীতিভিত্তিক কর্মসূচী এবং পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অস্বাভাবিক না হলেও তা সহনীয় পর্যায়ে রাখা বাঞ্চনীয়। তবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নতির যে অগ্রযাত্রায় রয়েছে, রাজনৈতিক অধিকারের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তা বাধাগ্রস্থ করা কোনভাবে কাম্য হতে পারে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে, সাধারণ মানুষ স্বউদ্যোগে অর্থনৈতিক উন্নয়নে যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তা বাধাগ্রস্ত বা স্থবির করে পেছনে ঠেলে দেয়ার অধিকার তাদের নেই। বরং সাধারণ মানুষের এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সাথী হয়ে কিভাবে আরও বেগবান করা যায়, তাই তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আশার কথা, সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রাযাত্রার গতি বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। সউদী আরবের মতো উন্নত দেশকে আমাদের দেশে বিনিয়োগের যথার্থতা তুলে ধরে আগ্রহী করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এভাবে অন্যান্য উন্নত দেশগুলোকে যদি বুঝিয়ে বিনিয়োগে উৎসাহী করা যায়, তবে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে এশিয়ান টাইগারে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না।
darpan.journalist@gmail.com



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থনৈতিক


আরও
আরও পড়ুন