Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

ক্রিকেটাররা নিরাপদ থাকায় ফুটবলারদের স্বস্তি

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ মার্চ, ২০১৯, ৯:০৩ পিএম | আপডেট : ৯:০৩ পিএম, ১৫ মার্চ, ২০১৯

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় তিন বাংলাদেশীসহ প্রায় অর্ধশত মুসল্লী নিহত এবং বহু মানুষ আহত হওয়ার খবরে উদ্বিগ্ন কাতারের দোহায় বিশেষ কন্ডিশনিং ক্যাম্পে থাকা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ফুটবলাররা। ওই সন্ত্রাসী হামলায় অল্পের জন্য আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন নিউজিল্যান্ড সফরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। ওই মসজিদেই জুমার নামাজ পড়ার কথা ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। কিন্তু নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ তৃতীয় ও শেষ টেস্টের ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলন কিছুটা সময় বিলম্বে শেষ হলে মসজিদের পথে দেরীতে পৌঁছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তার আগেই সন্ত্রাসীরা হামলা শুরু করে দেয়। ফলে মসজিদ পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি তামিম-মুশফিকদের। নিরাপদেই তারা টিম হোটেলে ফিরে যান। ক্রিকেটাররা নিরাপদে থাকায় দোহায় বিশেষ কন্ডিশনিং ক্যাম্পে থাকা ফুটবলাররা স্বস্তি প্রকাশ করেন। তথ্যটি শুক্রবার বিকেলে নিশ্চিত করেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে দোহায় থাকা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মিডিয়া অফিসার খালিদ মাহমুদ নওমী। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানান, ঘুম থেকে উঠেই বিভিন্ন টিভি চ্যনেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই হামলার খবর জানার পর থেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন কাতারে অবস্থানরত ফুটবলাররা। তারা বিভিন্নভাবে খবর নেয়ার চেষ্টা করেন ক্রিকেটারদের সর্বশেষ কী অবস্থা। খালিদ মাহমুদ নওমী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে আমাদের ক্রিকেটারদের আল্লাহ রক্ষা করেছেন, এ জন্য ফুটবলারদের মধ্যে স্বস্তি এসেছে। তবে তাদের মধ্যেও একটা ভয় সৃষ্টি হয়েছে। এমন অঘটন তো যে কোনো স্থানেই ঘটতে পারে।’

শুক্রবার রাতে প্রস্তুতি ম্যাচ থাকায় অনুশীলন ছিল না লাল-সবুজ ফুটবলারদের। সকালের নাস্তার পর তারা সব সময় ক্রাইস্টচার্চের খবর নেয়ার চেষ্টা করেছেন। চোখ রেখেছেন টিভি পর্দার বিভিন্ন চ্যানেলে। দলের সবাই হোটেলের পাশে একটা মসজিদে জুমার নামাজ পড়েছেন। ক্রিকেটাররা নিরাপদ থাকায় তারা জুমার নামাজের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং ক্রিকেট দল যেনো ভালোভাবে দেশে ফিরে আসতে পারেন এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।

বাফুফের মিডিয়া অফিসারের সঙ্গে কথা বলার সময় ফুটবলাররা দুপুরের খাবার শেষ করে বিশ্রামে ছিলেন। যে কারণে তাদের কারো সঙ্গেই কথা বলা সম্ভব হয়নি। নওমী বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটুক তা কেউ চাননা। যখন জানা গেছে, ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশিরাও নিহত হয়েছেন তখন ফুটবলাররা বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। আমাদের ক্রিকেটাররা মসজিদে প্রবেশের আগেই হামলা হয়েছে এবং টাইগাররা ভালো আছেন জানার পর কিছুটা স্বস্তি আসে ফুটবলারদের মাঝে।’ তিনি জানান, দোহায় ফুটবলাররা কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই আছেন।

এদিকে দেশে আল্লাহ’র শুকরিয়া আদায় করেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি, জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি, ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান চয়ন, আরচ্যার ইমদাদুল হক মিলন, স্বর্ণজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা ও দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। তারা বলেন,‘কি এক বিভিষীকাময় দিন গেছে নিউজিল্যান্ডে। কতটা উদ্বিগ্নতার মধ্যে কাটিয়েছেন সবাই। যারা ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ তাদের বেহেশত নসিব দান করুন। তবে আল্লাহ যেন নিজে বাঁচিয়ে দিয়েছেন আমাদের ক্রিকেটারদের। যদি তেমন কিছু ঘটতো, তাহলে আমরা শত জনমেও এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারতাম না। আল্লাহর কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া আমাদের ক্রিকেটাররা ভালো ও নিরাপদে আছেন।’

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন