Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫ চৈত্র ১৪২৫, ১১ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

নকশাবন্দিয়া তরিকার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন খাজা বাকিবিল্লাহ

কে. এস. সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ১৬ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

২৫ জামাদিউস সানি ১০১২ হিজরী। এই দিনে দিল্লিতে ইন্তেকাল করেন হজরত খাজা মোহাম্মদ বাকিবিল্লাহ দেহলভী (রহ.)। বিখ্যাত সূফী তরিকা চতুষ্টয়ের অন্ততম ‘নকশাবন্দিয়া’ তরিকা ভারতবর্ষে তিনিই ব্যাপকভাবে প্রচার করেন। তিনি ছিলেন হজরত মোজাদ্দেদ আলফেসানি (রহ.) এর পীর-মোর্শেদ। বাকিবিল্লাহ নামে সুপ্রসিদ্ধ হজরত খাজা মোহাম্মদের পিতা কাজী আব্দুস সালাম (রহ.) ছিলেন একজন কামেল বুজর্গ-সাধক। তার মাতাও ছিলেন এক তাপসী রমণী। পিতা সে যুগের এক বিখ্যাত সম্ভ্রান্ত বংশের সুপ্রসিদ্ধ সাধক আলেম এবং অসাধারণ মান-মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। হজরত খাজা মোহাম্মদ বাকিবিল্লাহ ৯৭২ (মতান্তরে ৯৭০) হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়ে থাকে, জন্মের সাথে তিনি নিয়ে আসেন হাজারো বরকত-সৌভাগ্য। তার সম্পর্কে তার পিতা বলেছিলেন, ‘আমার এই সন্তান জন্মগত ওলী। তার জন্ম আমার ও আমার সমগ্র পরিবারের জন্য সৌভাগ্যের কারণ হয়েছে।’ শৈশবে তাঁর মধ্যে বুজর্গীর লক্ষণ প্রকাশ পায়।
পাঁচ বছর বয়সে হজরত খাজা বাকিবিল্লাহ পিতার তত্ত্বাবধানে জাহেরি ইলম লাভে আত্মনিয়োগ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর অতিরিক্ত তালিম-তারবিয়াতের জন্য তাকে সে যুগের বিখ্যাত আলেম মওলানা সাদেক হালওয়ীর নিকট প্রেরণ করা হয় এবং তার নিকট তিনি শিক্ষা লাভ করতে থাকেন। জাহেরি ও বাতেনি বিদ্যার অধিকারী মওলানা সাদেকের কাছে তিনি উভয় শাস্ত্রে জ্ঞান লাভ করনে। হজরত খাজা মোহাম্মদ বাকিবিল্লাহ তার ওস্তাদের প্রতি খুবই ভক্তি প্রদর্শন করতেন এবং সর্বদা তার সান্নিদ্ধে থাকতেন। একবার মওলানা সাদেকের এশিয়া মাইনরে গমনের প্রয়োজন দেখা দেয়। হজরত খাজাও তার সফর সঙ্গী হয়ে সেখানে গমন করেন। এশিয়া মাইনরের এ সফর তার জন্য খুবই উপকারী হয়। একদিকে তিনি সেখানে অবস্থানকালে স্বীয় ওস্তাদের কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করতে থাকেন, অপর দিকে সেখানে অবস্থানরত অন্যান্য বিখ্যাত আলেমের মধ্যে গণ্য হতে থাকেন এবং চতুর্দিকে তাঁর সুনাম, খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। জাহেরি ইলম শেষ করার পূর্বে তাঁর মধ্যে তাছাওফের প্রভাব বিস্তার লাভ করতে থাকে।
সে যুগে এশিয়া মাইনর ছিল সাধক-বুজর্গ ও ফকির-দরবেশদের প্রধান কেন্দ্র। খাজা সাহেব সেখানে অনেক পীর মাশায়েখের সাক্ষাৎ লাভ করেন। তাঁর অন্তর আল্লাহর নৈকট্য ও মারফত হাসেলের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ে। তিনি নীরবে ‘সুলুকে’র পথ অতিক্রম করতে থাকেন। যেহেতু সে সময় হিন্দুস্থানে আওলিয়া-মাশায়েখের আধিক্যের কারণে সারা দুনিয়ায় তার খ্যতি ছড়িয়ে পড়েছিল, তাই তিনি এশিয়া মাইনর হতে হিন্দুস্থানে চলে আসেন। সেখানে তাঁর বন্ধু-বান্ধবগণ যারা সরকারের উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেন যে, তিনি যেন কোনো রাজকীয় পদ গ্রহণ করেন। কিন্তু তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন এবং আধ্যাত্মিক নেতাদের সন্ধান অব্যাহত রাখেন ও রচনাবলী পাঠ করার প্রতি মনোনিবেশ করেন। এভাবে তার জীবনের মোড় পরিবর্তন হতে থাকে।
এ সময়কার একটি ঘটনা যা খাজা সাহেব খোদ বর্ণনা করছেন এভাবে, ‘আমি একদিন তাছাওফের বিভিন্ন কিতাব অধ্যয়ন করছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক তাজাল্লী (জ্যোতি) দেখতে পাই। এমতাবস্থায় আমি অজ্ঞান হয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। শেষ পর্যন্ত হজরত জাকারিয়া মুলতানী (রহ.) এর রূহানী তাওয়াজ্জু এবং আল্লাহর হুকুমে আমার মনোবল ও জ্ঞান-অনুভূতি ফিরে আসে। এরপর মারফতজ্ঞানীদের সন্ধানে আরও তৎপর হয়ে উঠি।’
এখানে স্মর্তব্য যে, নকশাবন্দিয়া তরিকার প্রবর্তকের নাম খাজা বাহা উদ্দীন নকশাবন্দি (৭৯১) এর মাজার বোখারার নিকট অবস্থিত। খাজা বাকিবিল্লাহ তারই তরিকার প্রচারক-অনুসারী ছিলেন। বাহাউদ্দীন জাকারিয়া মুলতানী ছিলেন ভিন্ন সাধক (১১৮২-১২৬২) বাহাউদ্দীন হক নামে খ্যাত। তিনি ছিলেন শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দীর খলিফা। উক্ত ঘটনার পর তরিকত সাধকদের সন্ধানে আগ্রহ আরও বেড়ে যায় এবং তিনি হিন্দুস্থানের জঙ্গল, মরু-বিয়াবান ও পর্বতমালায় সাধক বুজর্গদের সন্ধানে ঘুরতে থাকেন। এক সময় সফরকালে লাহোরে উপনীত হন। সেখানে একজন ‘মাজযুব’কে দেখতে পান। এ মাজযুব প্রথমে তাকে হয়রান করে, কখনও পাথর নিক্ষেপ করে এবং কখনও গালাগাল করে। কিন্তু খাজা সাহেব কিছুতেই তার সঙ্গ ত্যাগ করলেন না। অবশেষে এই মাজযুব এক দরবেশের রূপ ধারণ করে এবং তাকে রূহানী ফায়েজ দান করেন। অতঃপর তিনি তরিকার বিভিন্ন সাধকের নিকট গমন করেন এবং তাদের কাছ থেকেও ফায়েজ লাভ করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হচ্ছেন: খাজা উবায়দুল্লাহ আহরার (রহ.), আমির আব্দুল্লাহ বালখী (রহ.), শায়খ সমরকান্দি (রহ.) এবং বাবা মেওয়ালী (রহ.), যিনি ছিলেন নকশাবন্দিয়া সিলসিলার বিশিষ্ট সাধক।
খাজা বাকিবিল্লাহর মাতা তাঁর জীবনের ছন্নছাড়া ও করুণ অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন এবং রাতে এইভাবে দোয়া করতেন: ‘হে আল্লাহ! আমার ছেলের ইচ্ছা পূরণ করে দাও, নতুবা আমার প্রাণ হরণ করে নাও। কেননা আমার পক্ষে আমার ছেলের ব্যর্থতা ও কষ্ট দেখা সাধ্যাতীত।’ হজরত খাজা বলতেন: ‘মায়ের এসব দোয়ার বদৌলতে আমার সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’ বলা হয়ে থাকে, হজরত খাজা ছিলেন ‘ওয়াইসি’ তরিকাপন্থী। অর্থাৎ তাঁর বাতেনি তালিম, তারবিয়াত হজরত রসূলুল্লাহ (সা.) এবং হুজুর খাজা বাহাউল হক ওয়াদ্দীন (রহ.) এর রূহানী তাওয়াজ্জুহ দ্বারা হয়েছিল। কিন্তু বাহ্যত তিনি এশিয়া মাইনরে, হিন্দুস্থান এবং সমরকন্দের বিভিন্ন মাশায়েখ উলামার কাছ থেকে ফায়েজ লাভ করেছিলেন।
উল্লেখিত সাধকবৃন্দের রূহানী ফায়েজ হাসেল করার পর হজরত খাজা পুনরায় সমরকন্দ ও এশিয়া মাইনরের দিকে যাত্রা করেন। একদিন মোরাকাবা (ধ্যান) অবস্থায় দেখতে পান যে, হজরত খাজা ‘মিকনেগি’ তার সামনে দাঁড়িয়ে। তিনি বলছিলেন ‘হে যুবক! আমি তোমার প্রতিক্ষায় আছি, আমার নিকট দ্রুত এসে যাও।’ এ গায়বি ইশারার পর হজরত খাজা উল্লেখিত সাধকের খেদমতে উপস্থিত হন এবং তার মুরীদ হন ও ‘খেরকা’ (দরবেশদের বিশেষ পোশাক) লাভ করেন। পীর-মুর্শিদের খেদমতে বেশ কিছু দিন অবস্থান করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে নির্দেশ হয়, ‘তুমি হিন্দুস্থান চলে যাও, তোমার বদওলতে সেখানে আলিয়া নকশাবন্দিয়া সিলসিলা অনেক বিস্তার লাভ করবে এবং সেখানকার অধিবাসীরা বিশেষ উপকৃত হবে এবং তাদের জাহের-বাতেন (ভেতর-বাহির), শরিয়ত ও তরিকত দ্বারা সুসজ্জিত করবে।’ অতঃপর তিনি খাজা মিকনেগির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হিন্দুস্থানে যাত্রা করেন।
হিন্দুস্থানে প্রত্যাবর্তণ করার পর খাজা সাহেব এক বছর লাহোরে অবস্থান করেন। এরপর দিল্লিতে গমন করেন। সেখানে অবস্থানকাল পর্যন্তও নকশাবন্দিয়া সিলসিলার তেমন প্রচার-প্রসার ঘটেনি এবং তারই তৎপরতার ফলে তার ব্যাপক প্রচলন লক্ষ করা যায়। দুই-তিন বছরের মধ্যে তিনি হাজার হাজার মানুষের কল্যাণ সাধন করেন। অতঃপর তার প্রধান খলিফা হজরত মোজাদ্দেদ আলফেসানির নিকট তার ভক্ত অনুসারী ও মুরিদগণকে সমর্পণ করেন, নিজে বায়াত গ্রহণ হতে বিরত থাকেন এবং বাকি জীবন গোশানশিনিতে কাটান।
হজরত খাজা বাকিবিল্লাহর দৈনন্দিন কর্মসূচি ও তার অভ্যাস সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ছিলেন স্বল্পাহারী, কম ঘুমাতেন এবং কম কথা বলতেন। এশার নামাজের পর তিনি তাহাজ্জুদের সময় কোরআন তেলাওয়াত করতেন। অতঃপর সূরা ইয়াসীন পড়তেন বহুবার। এরপর তিনি জিকির-আজকারে মশগুল থাকতেন। ভোরের সূচনা হলে পুনরায় ওযু করে দুই রাকাত তাহয়িতুল ওযু নামাজ পড়তেন এবং ফজরের সুন্নত ও ফরজের মাঝখানে অনেকবার সূরা ইয়াসীন পড়তেন। জামাতে ফজরের নামাজ পড়তেন। ফজরের নামাজের পর এশরাক পর্যন্ত ওয়াজিফা পাঠ করতেন। এরপর নফল নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং সকাল দশটা-এগারটা পর্যন্ত তাতে ব্যস্ত থাকতেন। এরপর মানুষের সেবা করতেন এবং অভাব অভিযোগ শুনতেন এবং তার সমাধান দিতেন। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর জোহরের নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর আসরের নামাজ পর্যন্ত নফল পড়তেন। আসরের নামাজের পূর্বে কিছুক্ষণ উপস্থিত লোকদের উদ্দেশ্যে উপদেশমূলক কিছু বলতেন। এরপর মাগরিব পর্যন্ত দুরুদ শরীফ পাঠ করতেন এবং মাগরেবের পর এশা পর্যন্ত আল্লাহর অনুসন্ধানীদের তালিম তারবিয়াত দিতেন।
হজরত খাজার দান ও বদান্যতার অবস্থা ছিল এই যে, একজন রাজকীয় আমির ছিলেন তার ভক্ত আনসারী। তিনি খাজা সাহেবের খেদমতে মোটা অংকের টাকা প্রেরণ করেন এবং নিবেদন করেন যে, সমুদয় অর্থ উপযুক্ত প্রাপকদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে। খাজা সাহেব তার খাদেমদের নির্দেশ দেন যে, তার নিজের (খাজা সাহেবের) নগদ অর্থও একই সঙ্গে বিলি বণ্টন করে দিতে হবে।
আরও একটি ঘটনা। হজরত খাজা সাহেব যখন হজ্জের ইচ্ছা পোষণ করেন এবং এখবর উজির আবদুর রহীম খান খানান অবহিত হন, তখন তিনি কয়েক লাখ টাকা তার রাহা খরচের জন্য প্রেরণ করেন এবং বিনয়ের সাথে আরজ করেন যে, ‘এ নগণ্য অর্থ গ্রহণ করে কৃতার্থ করবেন।’ যখন এ অর্থ হজরত খাজার নিকট পৌঁছে তখন তিনি এই বলে তা ফেরত দেন: ‘আমাদের ফকিরদের জন্য কিছুতেই উচিত নয় যে, আমরা আল্লাহর মাখলুকদের কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় করে হজ্জে গমন করা। এটা তো জনগণেরই হক (অধিকার)।’
হজরত খাজার রূহানী শক্তি সম্পর্কে হজরত মোজাদ্দেদ আলফেসানি (রহ.) বলতেন, ‘শিক্ষার সূচনাতেই কলব জারি হওয়া এবং ‘জযবা’ অর্জন হওয়া, হজরত খাজার বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত।’
হজরত খাজার জীবনে বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। ইন্তেকালের পূর্বে তিনি একদিন বলেন: ‘আমাকে স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে, তোমাকে যে উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, তা পূর্ণ হয়েছে, এখন আখেরাতের সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। হিজরী ১০১২ সালের জামাদিউস সানি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একই মাসের ২৫ তারিখ শনিবার (মোতাবেক ১৬০৩ খ্রি.) আসর ও মাগরেবের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মাজার দিল্লির কুতুব রোডের নিকট অবস্থিত, সাথে একটি মসজিদও রয়েছে।
হজরত খাজা বাকিবিল্লাহর দুই পুত্র ছিলেন- খাজা উবায়দুল্লাহ ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। দু’জনই জাহেরি ও বাতেনি ইলমের অধিকারী ছিলেন এবং তাদের মহান পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলতেন। হজরত খাজার খলিফাদের তালিকা দীর্ঘ, তবে তাদের মধ্যে হজরত শায়খ আহমদ সিরহিন্দি মোজাদ্দেদ আলফেসানি (রহ.) যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, তা আর কারো ছিল না। হজরত মোজাদ্দেদ সাহেবই খাজা সাহেবের প্রধান খলিফা হিসেবে ভারতবর্ষে নকশাবন্দিয়া তরিকা ব্যাপকভাবে প্রচার করেন। হজরত বাহাউদ্দীন ফারুকী (৭৯১/১৩৮৯) কর্তৃক প্রবর্তিত নকশাবন্দিয়া তরিকা চীন, তুর্কিস্তান, ভারত, তুরস্কে প্রচলিত। বাংলাদেশেও এ তরিকার অনুসারীদের সংখ্যা বিপুল। এ দেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারে তাদের বিরাট ভ‚মিকা রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন