Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫ চৈত্র ১৪২৫, ১১ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা: নেটিজেনদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১০:০১ পিএম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে পবিত্র জুমার দিনে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী

হামলায় ৪৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
এই ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছেই যে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে
গিয়েছিলেন তাঁরা, সেই মসজিদেই সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে তাদের
পৌঁছতে মাত্র পাঁচ মিনিটের মতো দেরি হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান তারা। এই
ঘটনায় টাইগারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রশ্ন
তুলেছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষত ফেসবুকে এনিয়ে চলছে নানা
মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া।

দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহত লোকজনের মধ্যে তিন বাংলাদেশিও
রয়েছেন। তাঁদের পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হামলায় কমপক্ষে ২০ জন
গুরুতর আহত হয়েছেন। ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত
মুসলমানদের ওপর প্রাণঘাতি এই হামলা চালিয়েছে ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামে
অস্ট্রেলিয়ার এক ইসলাম বিদ্বেষী সন্ত্রাসী। হামলার আগে টুইটারে ৭৩ পাতার
ইশতেহার আপলোড করে সে। এছাড়া বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে একটি গাড়ি থেকে।
হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে নিউজিল্যান্ড
পুলিশ।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দুই বছর আগে থেকে পরিকল্পনা করে আসা ওই হামলাকারীকে
‘সন্ত্রাসী’ বা ‘জঙ্গি’ না বলে বন্দুকধারী বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। যা
নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। মনিকা
আহমেদ লিখেছেন, ‘‘আজ যদি এটা পাকিস্তান বাংলাদেশ সৌদি দুবাই কাতার কুয়েত
বা যে কোনো মুসলিম দেশে হতো তা হলেই দেওয়া হয়ে যেতো মুসলিম জংগী রা এই
হামলা চালিয়েছে? আসলেই মূর্খদের কোনো জাতপাত নাই? যারা প্রকৃত মুসলিম
চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি তাদের মত ভালো মানুষ দুনিয়ায় একটাও নাই?? আমার
জীবনে দেখা যত ভাল মানুষ সব মুসলিম।’’

সরদার রাসেল মন্তব্য করেছেন, ‘‘মুসলিম যদি স্বাধীনতাকামীও হয় সে জঙ্গি।
আর নন মুসলিমরা জঙ্গি হলেও সে মাথা বিকৃত। কালকে নিউজ হবে হামলাকারীর
মাথায় সমস্যা ছিলো।’’

‘‘এটা নিছক কোনও হত্যাকাণ্ড নয়; এটা পরিকল্পিত একটা গণহত্যা!’’ এমন
মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাশেদ আহমেদ শাওন।
সাংবাদিক আসিফ ইকবাল লিখেছেন, ‘‘নিউজিল্যান্ডের মসজিদে যারা হামলা করে
মুসলমানদের হত্যা করেছে। এরা বর্বর সন্ত্রাসী ও ইসলাম এবং মুসলমানদের
শত্রু।’’

হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন
বলেন, হামলাকারী কট্টর ডানপন্থী। সে একজন উগ্র মনোভাবের অধিকারী ডানপন্থী
উন্মত্ত জঙ্গি। তবে তাঁর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

হিরোন আহমেদ মন্তব্য করেছেন, ‘‘মুসলিমদের জঙ্গিবাদী বলছে এতদিন, কিন্তু
নিউজিল্যান্ডে মুসলিমদের উপর হামলা করে প্রমাণ করলো মুসলিম জাতি পৃথিবীর
মধ্যে সবচেয়ে শান্তিকামী ধর্ম। আর খ্রিষ্ঠান ও ইহুদিরা হলো সবচেয়ে বড়
জঙ্গিবাহিনী এদের বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়াও শান্তিকামি জনগণ।’’

আঞ্জালিন মনি লিখেছেন, ‘‘মুসলমানদের দ্বারা কোথাও কোন অঘটন ঘটলেই সারা
বিশ্ব মুখে ফেনা তুলে ফেলে মুসলিম টেরোরিস্ট বা ইসলামিক টেরোরিস্ট বলে।
আজ নিউজিল্যান্ডের ঘটনার পরে তারা কেন খ্রিস্টান টেরোরিস্ট বলছেন না?’’

সিনিয়র সাংবাদিক আবু সালেহ আকন তার ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন,
‘‘নিউজিল্যান্ডে যে এত্তোবড় নৃশংস ঘটনা ঘটলো, কই তার উপর কি আপনারা অবরোধ
দিবেন? তাতো দিবেন না! নিউজিল্যান্ড জঙ্গির লালন করে, জঙ্গি উৎপাদন করে-
একথা বলবেন? না তা কিন্তু বলবেন না। এইটা আজ কেউ কোন মুসলিম দেশে ঘটাইতো-
এতোক্ষণে চিল্লাইয়া মুখ দিয়া রক্ত বাইর কইরা ফালাইতেন! ড্রোন পাঠাইয়া
দিতেন! মনে রাখবেন, ইসলাম কাউকে খুন করতে উৎসাহিত করে না। ইসলামে
সন্ত্রাস, উগ্রবাদ আর জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই।যারা খুনী তারা মুসলমান
হতে পারে না। ইসলাম অপরাধ ও অপরাধীদের সমর্থন করে না। খুনী-সন্ত্রাসী যে
দলেরই হোক, যে গোষ্ঠীর কিংবা ধর্মেরই হোক; তাকে অপরাধীই বলতে হবে।
আশাকরি, বিশ্ব মিডিয়াও বিষয়টিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করবে।’’

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, হামলাকারী
নিরাপত্তা নজরদারির তালিকায় ছিল না। ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে
সন্ত্রাসী হামলার পর পর একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়।
এতে দেখা গেছে, ভিডিও গেমের মতো একজন বন্দুকধারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে
গুলি করছে। হামলার ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকধারী হামলার আগে
পুরো ঘটনাটি ভিডিও করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হয়তো তাঁর মাথায় ভিডিও
ক্যামেরা বসানো ছিল। একটি ওয়েবসাইট জানায়, হামলাকারী হামলাটি সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে
মসজিদের দিকে যাচ্ছেন। মসজিদের প্রবেশ কক্ষ থেকেই মুসল্লিদের ওপর
নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে শুরু করেন। মসজিদের ভেতর ছুটোছুটিরত
মুসল্লিদের প্রতি টানা গুলি করতে থাকেন। এরপর মসজিদের এক কক্ষ থেকে অন্য
কক্ষে ঘুরে ঘুরে গুলি করতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে যাঁরা মসজিদের মেঝেতে
পড়েছিলেন, তাঁদের দিকে ফিরে ফিরে গুলি করছিলেন তিনি।

ফেসবুক ব্যবহারকারী মো আতিকুর রহমান লিখেছেন, ‘‘কোন মুসলিম কর্তৃক এরকম
ভয়ানক হামলার উদাহরণ নাই; অথচ সেই মুসলিমদের নামের আগে সন্ত্রাসী জুড়ে
দেয়া হয়। আর এই খৃষ্টান ও ইয়াহুদী সন্ত্রাসীদের এরকম হামলার শত উদাহরণ
আছে অথচ তাদের আখ্যা দেয়া হয় মানসিক রোগী হিসেবে| এই সন্ত্রাসের শাস্তি
হওয়া উচিত..!’’

শোভন বলেন, ‘‘নিউজিল্যান্ডে নৃশংসভাবে এতগুলো মানুষ হত্যাকারীকেও হয়ত
পশ্চিমা বিশ্ব জঙ্গি হিসেবে আখ্যা দিবেনা।
তিনি ''বন্দুকধারি''। নতুবা সর্বোচ্চ হলে ''আততায়ী'' হিসেবে আখ্যায়িত
হবেন। যেহেতু হামলাকারি খ্রিস্টান, তাই গবেষণা শেষে তাকে ''মানসিক
ভারসম্যহীন'' হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। বড় আফসোস হল- আমাদের দেশীয়
গণমাধ্যমও বিদেশী গণমাধ্যমের সাথে তাল মিলিয়ে অনেকেই হামলাকারিকে
''জঙ্গি'' বলবো না।’’

নুরে মসজিদে যখন হামলা হয় বাংলাদেশ দলের বাস তখন মসজিদের সামনে।
ক্রিকেটাররা বাস থেকে নেমে মসজিদে ঢুকবেন, এমন সময় রক্তাক্ত শরীরের একজন
মহিলা ভেতর থেকে টলোমলো পায়ে বেরিয়ে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান। ক্রিকেটাররা
তখনো বুঝতে পারেননি ঘটনা কী। তাঁরা হয়তো মসজিদে ঢুকেই যেতেন, যদি না
বাসের পাশের একটা গাড়ি থেকে এক ভদ্রমহিলা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বলতেন,
‘ভেতরে গোলাগুলি হয়েছে। আমার গাড়িতেও গুলি লেগেছে। তোমরা ভেতরে ঢোকো না।’
বাস এখান এখান থেকেই ফিরে আসায় প্রাণে বেঁচে যান তারা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায়
নিউজিল্যান্ড ও আইসিসির কঠোর সমালোচনা করেছেন টাইগার ভক্তরা। ফেসবুকে
সৌরভ লিখেছেন, ‘‘এখন আইসিসি নিউজিল্যান্ডের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেয়,
তা দেখার অপেক্ষায় আছি। পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটার গাড়ি বহরে
সামান্য হামলার কারনে গত ৯/১০ পাকিস্তানে সব আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট
অনিরাপদ বা নিষিদ্ধ আছে।’’

ফুয়াদ মুজাহিদ লিখেছেন, ‘‘এই ঘটনাটা বাংলাদেশে ঘটলে এত্তক্ষণে সব তোলপাড়
করে দিতো নিউজিল্যান্ড...! এখন বাংলাদেশ টিমের উচিত বাকি ম্যাচ টা বয়কট
করে দেশে ফিরে আসা...! তাহলে হয়তো ওরা বুঝবে সব দেশেই কম বেশি এইসব হামলা
হয়...!’’

মেহেদী হাসান জয় মন্তব্য করেছেন, ‘‘যত দোষ সব মুসলমানদের। ইহুদি,
খ্রিস্টান, হিন্দু এরা হামলা করলে এরা সাধু। আর কোনো মুসলমান হামলা করলে
জংগী হয়ে যায়। এইসব পলিটিক্স সবাই বুঝে।’’


‘‘এখন কি নিউজিল্যান্ডে ক্রিকেট নিষিদ্ধ হবে? অস্ট্রেলিয়া কি
নিউজিল্যান্ডে খেলতে যাবে? উত্তর হ্যাঁ যাবে কেন এটা মুসলিম দেশ না। এদের
শত্রুতা হলো মুসলিমদের সাথে। সন্ত্রাসীর সাথে না কারণ এহুদি খৃষ্টান তারা
নিজেরাই সন্ত্রাসী। আর মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী বলে যাতে পৃথিবীর মানুষ
যানতে না পারে তারা নিজেরাই সন্ত্রাসী’’ মন্তব্য করেছেন মহিবুল ইসলাম
ফরাজি।

মোস্তাফিজ চৌধুরী গণমাধ্যমের প্রতি আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘‘সন্ত্রাসী
জঙ্গি হামলা বলতে লজ্জা লাগে? হামলকারী মুসলিম হলে কিংবা হামলা টা মুসলিম
দেশে হলে বিশ্ব মিডিয়ার প্রপাগান্ডার একটুও কমতি থাকত না। তাই হেড লাইনটা
হওয়া উচিত ছিল "ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে খ্রিস্টান জঙ্গীদের হামলা"।’’

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনেকে নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেছেন। তাদের মধ্যে
একজন নজরুল মজুমদার লিখেছেন, ‘‘নিউজিল্যান্ডে ২ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক
ক্রিকেট খেলা নিষিদ্ধ করা দরকার। আর বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের এখনি চলে
আাসা উচিত, নিরাপত্তার খাতিরে আপস করা উচিত না।’’

টাইগারদের নিরাপত্তা নিয়ে আহমাদ নাইম বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশে বিদেশি
ক্রিকেটারদের যে নিরাপত্তা দেয়া হয়, নিউজিল্যান্ডে এর ১% ও দেয়া হয় না...
রীতিমত বৃষ্টিতে ভিজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের
ভ্রমণ করতে হয়েছে।’’
‘‘আমাদের দেশে অন্য কোনো দেশের টিম আসলে ব্যাপক নিরাপত্তা দেয়। তবে
আমাদের টিম অন্য দেশে খেলতে গেলে এত অনিরাপদ থাকবে কেন?’’, লিখেছেন আবু
রাইহান।
তবে এই হামলাকেও ভিন্ন দৃষ্টিতে দেেখেছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট মেহেদী
হাসান পলাশ। নিজের ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‍''৯/১১ এর হামলার জবাবকে
সিনিয়র বুশ ক্রুসেড আখ্যা দিয়েছিলেন। হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিলো, ইসলাম
ভীতি ছড়িয়ে দিয়ে পাশ্চাত্যে ইসলামের বিপুল প্রসারকে থামিয়ে দেয়া। কিন্তু
৯/১১-তে হামলার পর দেখা গেলো পাশ্চাত্যে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ
ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলাম সম্পর্কে জানতে গিয়েই হাজার হাজার
ইউরোপীয় ইসলামের মর্মবাণী অনুধাবন করতে পেরেছে। ইসলাম সম্পর্কে জানতে
গিয়ে এ ধর্ম সম্পর্কে পাশ্চত্যের ছড়ানো ফোবিয়ার পর্দা সরিয়ে অসংখ্য মানুষ
ইসলামের সৌন্দর্যকে দেখতে পেয়েছেন। ফলে ৯/১১ এর পর পাশ্চাত্যে ইসলাম
গ্রহণের ধারা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারীর
উদ্দেশ্যও একই। কিন্তু তিনি জানেননা, আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহা
পরিকল্পনাকারী!! এভাবে ইসলামের অগ্রযাত্রা তিনি থামিয়ে দিতে পারবেন না।''

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা শোক প্রকাশ করেছেন ও নিন্দা
জানিয়েছেন।ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের
প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্দেনের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি শোক
প্রকাশ করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীও। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট
ভ্লাদিমির পুতিন মসজিদে হামলার ঘটনা বেদনাদায়ক ও নৃশংস বলে উল্লেখ
করেছেন।

এদিকে মুসলমানরা গণহত্যার শিকার হচ্ছেন জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব
তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা অলসভাবে দেখছে বিশ্ব।
এই মুসলমানদের যে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করা হত, ক্রাইস্টচার্চের আল নুর
মসজিদের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সীমান্ত ছাড়িয়ে তা গণহত্যায় রূপ নিয়েছে।
ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ বৃদ্ধির সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে এ ঘটনাকে দাঁড়
করিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের এ নেতা।

এর আগে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের
প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কখনো ধর্ম হতে পারে না।
নিহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জানিয়েছেন। বিশ্বের
সবচেয়ে বড় মুসলমান-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া এই ঘটনার নিন্দা
জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটিনো মারসুদি এক বিবৃতিতে বলেন,
‘সরকার ও ইন্দোনেশিয়ার জনগণ হামলার শিকার ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর
সমবেদনা প্রকাশ করছে।’

মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোটের বৃহত্তম দলটির নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম এক
বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি এই নৃশংসতায় গভীরভাবে দুঃখিত, এই ধরণের বিদ্বেষ
মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায় এবং নাগরিকদের জীবন নেয়।’ তিনি বলেন,
‘আমরা হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভ‚তি ও সমবেদনা
জানাচ্ছি।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নিউজিল্যান্ড

১৯ মার্চ, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন