Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫, ১৮ রজব ১৪৪০ হিজরী।

নভেম্বর থেকে জুন জাটকা ধরা নিষিদ্ধ

প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর বাণী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ইলিশ রক্ষায় আগামী নভেম্বর মাস থেকে জুন পর্যন্ত টানা ছয় মাস ১০ ইঞ্চি সাইজের নিচে জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে শুক্রবার মৎস্য ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। জাটকা রক্ষার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ শনিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯ পালন করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর আরও ১৩টি দেশে ইলিশ পাওয়া গেলেও আমাদের সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে ইলিশের বিরাট অবদান রয়েছে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক শতাংশ এবং দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১২ শতাংশ। তাই ইলিশ আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইলিশ আহরণে উপকূলীয় মৎস্যজীবী প্রায় পাঁচ লাখ লোক সরাসরি এবং পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রফতানিসহ বিভিন্ন কাজে পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন আরও ২৫ লাখ মানুষ। ইলিশকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই পণ্য) উল্লেখ করে আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ইলিশসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে প্রতিবছর নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। এ সময় মৎস্য সংরক্ষণ আইনের আওতায় নদী, মাছঘাট, মৎস্যআড়ত ও বাজারে অভিযান চালানো হয়। তখন জেলেরা যাতে ক্ষুধায় কষ্ট না পান, সেজন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান, জাটকা আহরণে বিরত অতিদরিদ্র জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পদ্মা, মেঘনা, আন্ধার মানিক ও তেঁতুলিয়াসহ অন্যান্য উপকূলীয় নদীতে জাটকার বিচরণ ক্ষেত্রে ইলিশের অভয়াশ্রম তৈরি, মা-ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ৯৯ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫ দশমিক ১৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মা-ইলিশ রক্ষা পাওয়ায় নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারছে। এতে মেঘনা থেকে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমায় জাটকা বিস্তৃতি লাভ করেছে। পদ্মা নদীর দুই পাড়ের ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং যমুনা নদীর তীরবর্তী জেলা সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। যা আগে কম ধরা পড়েছিল। জাটকা ও মা-ইলিশ রক্ষায় চলমান কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে সারা বছর ইলিশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। নদীতীরবতী ১৩টি জেলার ৫১ উপজেলায় মোট ৪৭,৪৮০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বিগত তিনবছর যাবৎ মা-ইলিশসংরক্ষণে জেলেদের ভিজিএফসহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং চলতি মৌসুমে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৯টি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে মোট ৭৯১৪ মে.টন চাল দেয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর বাণী
প্রেসিডেন্ট মো, আবদুল হামিদ বলেছেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে জাতীয়ভাবে জাটকা সংরক্ষণে সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়িত হওয়ায় সা¤প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার জাতীয় মাছ ইলিশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯’উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার পৃথক পথৃক বাণীতে তারা এ কথা বলেন। আজ শনিবার থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯ পালিত হতে যাচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতীয় মাছ ইলিশ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আবহমান কাল ধরে ইলিশ বাঙালির রসনা বিলাসে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে আছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ সার্বিক অর্থনীতিতেও একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশ মাছের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
আবদুল হামিদ বলেন, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণ বিশেষ করে মৎস্যজীবী ও জেলে স¤প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ সফল ও স্বার্থক হয়ে উঠবে এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী বানীতে বলেন, ইলিশ সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কোনো জাল ফেলবো না, জাটকা ইলিশ ধরবো না’ এ প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। আমরা জাটকা সংরক্ষণে সময়োপযোগী ও সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। এ সংক্রান্ত সব কার্যাদি বর্তমান সরকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় মাছ ইলিশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। শেখ হাসিনা বলেন, আসুন, জাটকা সংরক্ষণের এ প্রয়াস শুধু সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিষিদ্ধ সময়েও আহরণে বিরত থেকে ইলিশের উৎপাদন বাড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
তিনি বলের, ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। আমাদের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে ইলিশ মাছের স্বাদ, গন্ধ আর রূপ। এ মাছের জন্য বিশ্বজুড়ে রয়েছে আমাদের আলাদা খ্যাতি ও পরিচিতি। জাতীয় মাছ ইলিশ আজ বাংলাদেশ ইলিশ নামে একটি ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য যা আমাদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। শেখ হাসিনা বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে জাটকা আহরণ নিষিদ্ধসহ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধকালে সরকার জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদানসহ বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯’এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ