Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

অনশনকারীদের নিয়ে ঢাবিতে ভুখা মিছিল

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ৩

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে পরের দিন সন্ধ্যা থেকেই আমরণ অনশন করছেন ৬ শিক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার সকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় অনশনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম। তিনি ডাকসুতে সমাজসেবা সম্পাদক পদে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেছেন। শুক্রবার বিকাল ৪টায় অনশনকারীদের নিয়ে ভুখা মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে আরও ২জন। এরা হলেন, সোয়েব অনন্ত ও আল মাহমুদ তাহা। এনিয়ে অনশন করে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে।
বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে অনশনকারীদের নিয়ে ভুখা মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর, মল চত্বর, শ্যাডো,অপরাজেয় বাংলা, কলা ভবন, ডাকসু ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে হয়ে ঘুরে আবার রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। এতে বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ডাকসুতে পুনঃনির্বাচনসহ ৩দফা দাবিতে নির্বাচনের পরে দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আমরণ অনশনে বসে ৪ শিক্ষার্থী। পরে এতে আরও ২জন যোগ দেয়। অনশনকারীরা হলেন- জগন্নাথ হল সংসদের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্ধীতাকারী অনিন্দ্য মন্ডল, শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধীতাকারী শোয়েব মাহমুদ, মুহসীন হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধীতাকারী মো. মাঈন উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সংসদের ছাত্র পরিবহন পদে প্রতিদ্বন্ধীতাকারী তাওহীদ তানজীম। এছাড়া রাফিয়া তামান্না ও আল মামুন তাহাসহ কয়েকজন পরে যোগ দেন।
এরআগে রোকেয়া হলের সামনে অনশনরত ছাত্রীদের গত বৃহস্পতিবার রাতে দেখতে যান বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। পরে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা প্রশাসরকে আল্টিমেটাম দিয়ে অনশন স্থগিত রাখলেও একদিন আগে থেকে অনশন শুরু করা রাজু ভাষ্কর্যের সামনের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশাসনের কোন পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। অনশনরত শিক্ষার্থী আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা এসে ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সাথে দেখা করে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কেউ আসেনি। কালকে দুজন শিক্ষক এসেছিলেন, তারা আমাদের বলেছেন, তোমরা তো জানোই ভিসি কেমন। তোমরা যদি অনশন চালিয়ে যাও তাহলে ক্ষতি তোমাদেরই হবে। ভিসি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন। অনশনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনশন করে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি, মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছি না। তবে আমরা আমাদের দাবি থেকে সরে আসছি না। যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন এ প্রহসনের নির্বাচন বাতিল না করছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আমরণ অনশন চলবে।
এদিকে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ৫টি প্যানেলের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে দেয়া ৩ দিনের আল্টিমেটাম আজ শনিবার শেষ হচ্ছে। আল্টিমেটাম শেষে কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দেয়া হলেও নতুন কর্মসূচি নিয়ে এখনও কিছু বলেননি তারা। গত ১১ মার্চ সোমবার দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভোট শুরু হওয়ার আগেই কেন্দ্র থেকে সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কৃত্তিমভাবে লাইন বড় করে ভোটারদের বাধা দেয়া থেকে শুরু করে প্রার্থীদের মারধর করার অভিযোগ উঠে। নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই ভোট বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সংগঠনগুলো। এরপর থেকেই পুনঃনির্বাচনের দাবিতে লাগাতার বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ