Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

চৌদ্দগ্রামে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৭ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তেঁতুলের প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ধর্ষকের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে গতকাল শনিবার এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ধর্ষক বাপ্পিসহ পাঁচজনকে আটক করেছে। নিহত শিশু শিক্ষার্থী গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গজারিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের কন্যা স্কুল ছাত্রী তাওহীদা ইসলাম ইলমা(৯) কে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ পাশের মরা ডাকাতিয়া নদীতে পুতে রাখে। পুলিশ গতকাল শনিবার সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের মা হাছিনা বেগম, পাশ^বর্তী বাড়ির আবুল খায়ের, ওই গ্রামের নুর মোহাম্মদ, আবদুল মতিনসহ এলাকাবাসী জানান, স্কুল ছাত্রী ইলমাকে গত শুক্রবার বিকেলে পাশ^বর্তী বাড়ির জাকির হোসেনের বখাটে মাঈন উদ্দিন বাপ্পি(২০) ও একই বাড়ির আবুল কালামের ছেলে মিজানুর রহমান(১৯) তেঁতুলের প্রলোভন দেখিয়ে বাপ্পিদের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে প্রথমে লাশ বাপ্পির ঘরের সিলিংয়ের উপর লুকিয়ে রাখে। পরে রাতে বাড়ির পাশর্^স্থ মরা ডাকাতিয়া নদীতে লাশটি উলঙ্গ অবস্থায় কাঁথা মুড়িয়ে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখে।
এদিকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত স্কুল ছাত্রী ইলমাকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং ও পাশের ডাকাতিয়া নদীতে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে শনিবার সকালে এলাকাবাসী সন্দেহভাজন হিসেবে বাপ্পিকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডাকাতিয়া নদীর পানির নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করে। উলঙ্গ লাশটির সাথে মোড়ানো কাঁথা ও মশারি ধর্ষক বাপ্পির বলে জানা যায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ধর্ষক বাপ্পির দুইটি ঘর, একটি খড়ের গাদা ও তার সহযোগী মিজানের দুইটি ঘর ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্কুল ছাত্রী ইলমার মা হাছিনা বেগম আরও জানান, ধর্ষক বাপ্পির বাড়িতে একটি তেঁতুল গাছ রয়েছে। ইলমা স্কুল থেকে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় ধর্ষক বাপ্পি তাকে তেতুলের প্রলোভন দেখাতো। ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুরে বাপ্পি স্কুল ছাত্রী ইলমাকে তেঁতুলের কথা বলেই তার ঘরে নিয়ে যায়।
গতকাল শনিবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল আসামি বাপ্পিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে। উত্তেজিত জনতা বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ