Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

জাবির হলে সন্তান প্রসব করে ট্রাঙ্কে তালাবদ্ধ করলো ছাত্রী!

অতঃপর সন্তানের মৃত্যু

জাবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৭ মার্চ, ২০১৯, ৫:৫৮ পিএম

প্রেমের সম্পর্ক থেকে শারিরিক সম্পর্ক। অতঃপর অন্তঃসত্ত্বা। এরপর হলের কক্ষে সন্তান প্রসব করলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। সন্তান প্রসব করে লোক জানাজানির ভয়ে ট্রাঙ্কে তালাবদ্ধ করে রাখেন সন্তানটিকে। তারপর প্রসব বেদনা সহ্য করতে না পেরে মা হাসপাতালে গেলেও দীর্ঘক্ষণ অযতেœ অবহেলায় ছিল নবজাতকটি। পরে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে ট্রাঙ্ক থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় বাচ্চাটিকে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে। শনিবার রাত নয়টা ৪০ মিনিটে নবজাতকটি হাসপাতালে মার যায়। এই সংবাদ ক্যাম্পাসে জানাজানি হলে ক্যাম্পাস জুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তবে মা বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। এদিকে সন্তানের বাবা হিসেবে নিজেকে শিকার করে নিয়েছেন বিশ^বিদ্যালয়েরই ৪৩তম ব্যাচের ছাত্র রনি মোল্লা। ফেসবুকে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ওই সন্তানের বাবা আমি। বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষতভাবে ঘটেছে। এ নিয়ে কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না।’

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই হলের ৪২৬ নং কক্ষে এক কন্যা সন্তান প্রসব করেন এক ছাত্রী। তিনি ওই রুমেরই আবাসিক ছাত্রী। পরে হল প্রশাসনকে প্রসব বেদনার কথা জানিয়ে বাচ্চাকে ট্রাঙ্কে তালা দিয়ে মেডিকেলে যান। পরে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পেয়ে ওই রুমের একটি ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে মেডিকেলে নেয় প্রশাসন।

রাত দশটায় এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর মোবাইলে বলেন, ‘ নয়টা ৪০ মিনিটে নবজাতকটি মারা গেছে। আর মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক (ক্রিটিক্যাল)। তবে মেয়েটি বিবাহিত কিনা এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর নিশ্চিত করতে পারেননি।

তবে অন্তঃসত্তার বিষয়টি ওই মেয়ে লুকিয়ে রখেছিলো বলে হলের বান্ধবীদের সূত্রে জানা গেছে।



 

Show all comments
  • মোহাম্মদ আব্দুস সালাম ১৮ মার্চ, ২০১৯, ৯:১৫ এএম says : 0
    আশা করেছিলাম আজ কোন প্রকার মন্তব্য করবোনা। কিন্তু পারলামনা। সকল বিবেকবান মানুষের নিকট আমার প্রশ্ন দেশের সর্বোচ্চ পিঠগুলোতে কি শিখানো হচ্ছে। সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের ছাত্রছাত্রীরা কি করছে। ওরা ওখান থেকে লেখাপড়া শেষ যেখানে যাবে সেখানেইতো এরকম অবস্থা তৈরি করবে। তাহলে আমরা তাদের নিকট কি আশা করতে পারি। কোন পশুওকি এমন কাজ করে। অন্তঃত আমি কোন দিন দেখিনি বা শুনিনি। আমার খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি দেশের সর্বোচ্চ স্তরের পর্যায় থেকে এমনসব অপকর্ম সবচেয়ে বেশী হচ্ছে। তাহলে তোমার আর কুকুরের পার্থক্য কোথায় বলতে। তোমাদের নিকট আমরা কি আশা করতে পারি। তোমরা কি চাও তোমরা যা করছি তা আরও দশটা ছেলেমেয়েকে শেখাতে। এটাতো শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা। আমার মনে আরও অজানা এমন হাজারো ঘটনা ঘটছে যা আল্লাহ ছাড়া কেও জানেনা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপঙ্ককে বলতে চাই আপনাদের কোন দায়দায়িত্ব নেই। আপনারা তাহলে কি আদর্শে মানুষ করছেন। কারণ দেশটাতো এখনো ইউরোপ হয়ে যায়নি। কি আদর্শ শেখানো হচ্ছে সেখােন। আমরা ভর্তির সময় ভাল সৎ আদর্শবান একজন সন্তানকে আপনাদের নিকট রেখে আসলাম আর আপনারা তাদেরকে অসৎ চরিত্র সম্পন্ন মানুষ করে পাঠিয়ে দিলেন। ওরা কি জাতির বিবেক হবে কোদিন। ওদের নিকট কোন দিন ভাল কিছু আশা করা যাবে। যাবেনা। কারণ ওর কোন চরিত্র নেই। ওরা যেখানে যাকে পাবে সেখানেই তার উপর নির্যাতন চালাবে। এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। ওদেরকে আদর্শবান হিসেবে গড়ে তুলুন। বাবা, মা আপনাদের সন্তানগুলো কি করছে একটু খেয়াল রাখবেন। তানাহলে ওদের জন্য আপনাদের বিন্তি জবাব দিতে হবে। বিবেকের তারনায় কথাগুলো লিখলাম। কারণ আমরা কি কেও কখনো দুই নম্বর অথবা বাসি পচা জিনিস কখনো কি ক্রয় করি। করিনা। তাহলে আমাদের সন্তানবান পচা হয়ে যাচ্ছেনা।
    Total Reply(1) Reply
    • MUSLIM ১৮ মার্চ, ২০১৯, ৩:০২ পিএম says : 0
      MASHALLAH, ZAZAKALLAHU KHOYRAN ........................
  • Akram ২০ মার্চ, ২০১৯, ২:১১ পিএম says : 0
    দেশের সব চেয়ে বড় বিদ্যাপিট হয়েও কি হবে যে শিক্ষায় কোন আল্লাহভিতি থাকে না, যেখানে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীরা বাধা বিপ্ততি ছাড়াই নানান অপকর্মে লিপ্ত হয় সেখান থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় না। আজ দেশের বড় বিদ্যাপিঠে এই রকম লজ্জাজনক কাহিনী শুনে নিজের কাছেও নিজেকে ছোট লাগছে। সবাই এটাকে ঘ্রনার চোখে দেখছে। তবুও বলব পাপকে ঘ্রনা কর পাপীকে নয়। শিশুটার তো কোন দোষ ছিল না। আমরাও একদিন শিশু ছিলাম। একটা সন্তান খুনের দায়ে তাদেরকে কি শাস্তি পেতে হল? এটা দেখে পরবর্তী প্রজন্ম কি শিখতে পারল? একজন শিক্ষিত মানুষ উচ্চ বিদ্যাপিঠে যদি এটা করতে পারে তাহলে জারা শিক্ষা থেকে দূরে আছে তারা কি করবে তাদের কথা একবার ভাবুন। আমি খুব খুদ্র জ্ঞানের অধিকারী হয়েও সকল প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ তৈরি করুন যেটার মাধ্যমে দেশ জাতি ও পরবর্তী প্রজন্ম উন্নত চরিত্রের পাশাপাশাপাশি ৈনতিকতার মাধ্যমে একটি আদর্শবান জাতি গড়তে পারে।
    Total Reply(0) Reply
  • MOHAMMAD SHA ALAM ২৩ মার্চ, ২০১৯, ৯:২৪ পিএম says : 0
    আল্লামা আহমদ শফি র কথায় সত্য
    Total Reply(0) Reply
  • MOHAMMAD SHA ALAM ২৩ মার্চ, ২০১৯, ৯:২৬ পিএম says : 0
    আমি কখনে কলেজে পড়ুয়া মেয়ে কে বিবাহ করব না
    Total Reply(0) Reply
  • MAHMUD ২৩ মার্চ, ২০১৯, ৪:৩২ পিএম says : 0
    Already declare she is married. She will be educated, but I can think in future she will never real mother because a mother how to keep a new-born inside the close place.She si man, not wild. Wild also never done this type of job. Highly doubtful.
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ রাজীব ২৯ মার্চ, ২০১৯, ৭:৪১ এএম says : 0
    গভির ঘৃণায় আমার অন্তঃসত্ত্বা আবারো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। ধরনীটি কি এভাবেই উওর উওর ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। এভাবেই কি হররোজ আমাদেরকে নিয়মের নামে অনিয়ম দেখতে হবে। এভাবেই কি মানুষ তার সুমহান আর্দশ ও বিবেবকে অম্বুদ স্রোতে ভাসিয়ে দিবে। এক বাবা কি করে বোঝাবে তার মনকে যে তার নয়নের নন্দিনী এহেন ঘৃণিত কাজের। মা ও বাবা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের রক্ত পানি করা অর্থ দিয়ে যখন একরাশ স্বপ্ন নিয়ে ছেলেমেয়েদের কে বিশ্ববিদ্যালয় পাঠায় বিদ্যা শিখানোর সু মহান উদেশ্যকে সামনে রেখে ঐ ছেলেমেয়ে এই ধরনের নিন্দিত কাজ করলে তখন মা-বাবার বুঝতে বাকি থাকে না মান বাচাতে তাদেরকে নিরবে নিঃভৃত্যে আত্নহুতি দেওয়া ছাড়া অন্য উপায় নেই। আবারো প্রমান মিললো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ভুল পদ্ধতির
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নবজাতকের লাশ

২৭ জানুয়ারি, ২০১৯
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ