Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সিলেটের ১২ উপজেলায় এগিয়ে নৌকা

সিলেট ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৮ মার্চ, ২০১৯, ৮:৫০ পিএম

সিলেটের ১২টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে নির্বাচন। ভোটার উপস্থিতি একেবারেই ছিল না। রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ভোটারদের উপস্থিতি একেবারেই ছিল না বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটগ্রহণের পর সোমবার রাত সোয়া ৮ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১২টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলার ফলাফল আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। এগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। শুধুমাত্র ফেঞ্চুগঞ্চ উপজেলাতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে পড়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। এই উপজেলাতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। অবশিষ্ট ৭টি উপজেলার ভোটের হিসেব-নিকেশে নৌকার প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাত সোয়া ৮ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাচনে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের আশফাক আহমদ।
৪১টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। চেয়ারম্যান পদে এ পর্যন্ত পাওয়া ৪১টি কেন্দ্রের ফলাফলে আশফাক আহমদ পেয়েছেন ২৫৫৯৭ ভোট। শুরুর দিকে ভোটের ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও এখন ভোটের ব্যবধানে অনেকটা পিছিয়ে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম ডালিম।
আশফাক আহমদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাজহারুল ইসলাম ডালিম (আনারস প্রতীক) পেয়েছেন ৮৬০৭ ভোট। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূরে আলম সিরাজী (মোটরসাইকেল প্রতীক) পেয়েছেন ২৬১৫ ভোট।
সিলেট সদর উপজেলার মোট ভোট কেন্দ্র ৯১টি। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৩৫।

কুশিয়ারা নদীর লাগোয়া উপজেলা বালাগঞ্জে পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান মফুর বিজয়ী হয়েছেন। তার কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদাল মিয়া বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। বালাগঞ্জে ৩৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সবকটির বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুসারে, ৩৪ কেন্দ্রে মোস্তাকুর রহমান মফুর নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৩৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৮৮ ভোট। মফুর ১৭ হাজার ২৯৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

কানাইঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ের পথে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মোমিন চৌধুরী। মোট ৮১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১০৩৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে মস্তাক আহমদ পলাশ পেয়েছেন ৭২০৩ ভোট। এই উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ২৮।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৫টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ফলাফলে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম নুনু মিয়া এগিয়ে আছেন। তিনি পেয়েছেন ৬৫৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী সুহেল আহমদ চৌধুরী কাপ-পিরিছ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫৬৭ ভোট। এছাড়া আনারস প্রতীকে মিছবাহ উদ্দিন ১৮৯৬ ভোট এবং মিনার প্রতীকে রুহুল আমিন ৬৯ ভোট পেয়েছেন। বিশ্বনাথ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে ৭৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এ উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৫৯।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। এ উপজেলার ৩৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৮ টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে জানা যায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নুরুল ইসলাম। ১৮টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭০০০টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওহিদুজ্জামান চৌধুরী ছুফি পেয়েছেন ২৫০০টি ভোট। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাহ মুজিবুর রহমান জকন নৌকা মার্কায় পেয়েছেন ১৩৮৫টি ভোট।

অন্যদিকে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলাগুলোতেও এগিয়ে আছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। তবে এসব উপজেলার ভোটগণনা এখনও শেষ হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উপজেলা পরিষদ নির্বাচন


আরও
আরও পড়ুন