Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

কাশ্মীরে সীমান্ত সংঘর্ষে ভারতীয় সেনা নিহত

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

সীমান্তরেখায় ফের উত্তপ্ত কাশ্মীর। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাজৌরির সুন্দেরবানি সেক্টরের সীমান্তে পাক-ভারত সেনাদের মধ্যে প্রচন্ড গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সোমবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এক ভারতীয় জওয়ান নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও কমপক্ষে তিন সেনা সদস্য। গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া এ হামলার উত্তেজনা এখনও বিরাজ করছে। এদিকে, গতকালই ব্যালিস্টিক মিসাইল সম্বলিত ও পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিন আইএনএস আরিহান্টকে সমুদ্রে মোতায়েন করেছে ভারতীয় নৌ-বাহিনী। খবর এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দিন সকালে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানি সেনার আচমকা গুলি করতে শুরু করে। পরে ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিরোধ করা হয়। আর এতেই এক ভারতীয় সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়। নিহত ভারতীয় জওয়ানের নাম করমজিত সিং। তাছাড়া আহত বাকি জওয়ানদের উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভারতের প্রতিরক্ষা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবেন্দর আনন্দ জানান, সোমবার সকাল ৫.৩০টা নাগাদ সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান। ছোট আগ্নেয়াস্ত্র এবং শেলিং মর্টার দিয়ে ফায়ারিং শুরু করে তারা। ভারতীয় বাহিনী পাল্টা জবাব দিলে সকাল ৭.১৫ নাগাদ শেষ হয় গোলাগুলি। রোববার সন্ধাতেও সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলি চালানো হয়। সোমবার সকালে পাকিস্তানের গোলাগুলির উত্তর দেয় ভারতও। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আরও বলেছেন, ‘এ সময় আমাদের চার সেনা গুলিবিদ্ধ হন। যাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন। যদিও এখনও সেখানে এই উত্তেজনা বিরাজ করছে।’ তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে, ভারতীয় নৌ বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যালিস্টিক মিসাইল বিশিষ্ট সাবমেরিন আইএনএস আরিহান্ট এবং তার কেরিয়ারকে নির্দিষ্ট দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার পর ভারতের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইএনএস আরিহান্ট এবং আইএনএস চক্র এমনিতে বিশাখাপত্তনমে থাকে। সেগুলিকে আরব সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিনা তা নৌ বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়নি।
সূত্র জানায়, পাকিস্তানে আঘাত হানতে সাবমেরিনটিকে আরব সাগরেই অবস্থান করতে হবে। এই সাবমেরিনে থাকা মিসাইল ৭৫০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে। তবে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পাল্লার মিসাইলও কাজে লাগাতে পারে নৌ বাহিনী।
উল্লেখ্য, কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার পর থেকেই ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর পরে মিগ-২১ বনাম এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের ডগফাইটের পর সরাসরি ভারত-পাক যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন পাকিস্তানে আটককৃত অভিনন্দন বর্তমানের চোখ এবং হাত বাঁধা ছবি দেখার পরই যুদ্ধের হুঙ্কার ছেড়েছিল ভারত। তারা ছ’টি মিসাইল পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আঘাত করার জন্য তাক করে রেখেছিল্ল। পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইসলামাবাদও। নয়াদিল্লি, ইসলামাবাদ এবং ওয়াশিংটনের একাধিক সূত্র অনুযায়ী সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি, ওই সময় দু’দেশের সম্পর্ক এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, মার্কিন ক‚টনৈতিক হস্তক্ষেপ না হলে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধই লেগে যেত। সূত্র: এনডিটিভি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত

১৯ এপ্রিল, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন