Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

ভোটকেন্দ্রে অপেক্ষা

কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪১ জন ভোটও পড়েছে ৪১টি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ মার্চ, ২০১৯, ১২:৪৯ এএম

বেশ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭ জেলার ১১৬ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। শব্দদূষণমুক্ত সারাশব্দহীন ‘কবরের নিস্তব্ধ’ পরিবেশে প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ অফিসার ও আইন শৃংখলা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু কয়েকটি উপজেলায় রাতে ব্যালট ভর্তি, কারচুপি, জালভোট দিতে গিয়ে আটক, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটাতে গিয়ে প্রার্থী আটকের ঘটনা ঘটে। আবার কারচুপির অভিযোগে কয়েকজন প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তবে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কংলাক থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এক. চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় কাঞ্চননগর রুস্তমিয়া মুনিরুল ইসলাম দাখিল মাদরাসা ও শাহনগর উচ্চবিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৫৩৬০। দুই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আলমগীর কবির ও প্রিজাইডিং অফিসার মো. ইব্রাহিম সহকর্মীদের নিয়ে ভোটারের অপেক্ষায় বসে থাকেন ঘন্টার পর ঘন্টা। কিন্তু কোনো ভোটারের দেখা পাননি। ৫ ঘন্টা অপেক্ষা করেও একজন ভোটারের দেখা পাননি দুই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার। কাঞ্চননগর রুস্তমিয়া মুনিরুল ইসলাম দাখিল মাদরাসার প্রিসাইডিং অফিসার আলমগীর কবির বলেন, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনো ভোটার কেন্দ্রে আসেনি। ফটিকছড়ি উপজেলার শাহনগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার মো. ইব্রাহিম বলেন, পাঁচ ঘন্টায় বসে আছি কেউ ভোট দিতে এলো না।
দুই. উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার পৌর শহরের কাশিনাথ আলাউদ্দিন হাই স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটারের জন্য তীর্থের কাকের মতো ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। কয়েকটি বুথে দু’একটি ভোট পড়লেও বিকেল ৩টা পর্যন্ত দু’টি বুথে (৩নং ও ৯নং বুথ) একটি ভোটও পড়েনি। সহকারী প্রিজাইডিংয়ের অফিসার শোকেষ চৌধুরী, শর্মিলা সিংহা, মো: এনামুল কবির, নিলাদ্রী শেখর দাস সাংবাদিকদের জানান, কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯৯৭ জন। বুথ রয়েছে ৯টি। বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২০ থেকে ২৫টি। বাধ্য হয়েই ভোটগ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে গল্প-গুজব করেই সময় পার করেন। দিন শেষে দেখা যায় কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ২ হাজার ৯শত ৯৭ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৪১টি। ওই কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিং অফিসার, আনসার, পুলিশ মিলে দায়িত্ব পালন করেন ৪১ জন ছিলেন। আবার প্রার্থীর এজেন্টের দ্বায়িত্ব পালন করেন ২১ জন।
প্রায় অভিন্ন চিত্র দেখা গেছে সারাদেশে দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে হাজার হাজার ভোটকেন্দ্রে। ভোটার না থাকায় কোথাও দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তারা ঘুমিয়ে, কোথাও গল্পগুজব করে সময় পাড় করেন। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অস্ত্র পাশে রেখে ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্যও দেখা যায়। কোথাও দেখা যায় ভোটকেন্দ্রে চিত্রের দুপুরে কুকুর ঘুমিয়ে রয়েছে, কোথাও কেন্দ্রের মাঠে দোলনায় কর্মকর্তারা দোল খাচ্ছেন। ইনকিলাব প্রতিনিধিরা জানান, কোথাও কোথাও জালভোট দেয়া হয়েছে, আবার আগের রাতে ভোটের বাক্স ব্যালট ভর্তি করে রাখা হয়েছে। সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা দেখা গেছে খুব কম সংখ্যক কেন্দ্রে।
নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য মতে, দ্বিতীয় ধাপে ১১৬ উপজেলায় ৩৮৬ জন চেয়ারম্যান, ৫৫৩ জন ভাইস চেয়ারম্যান এবং ৪০৭ জন নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। তাদের মধ্যে ৪৮ জন প্রার্থী আগেই বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২৩, ভাইস চেয়ারম্যান ১৩ এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২ জন। দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে ভোটার ছিল ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৬। ভোটকেন্দ্র ছিল ৭ হাজার ৩৯টি।
ইসির তথ্য হলো, সারাদেশে ৫ ধাপে ৪৮০ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে ১৭টি জেলার ১২৯টি উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। পরে আদালতের আদেশে একটি উপজেলা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া গোপালগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে হওয়ার কথা থাকলেও তা তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার নির্বাচনও দ্বিতীয় ধাপে না হয়ে চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। ভোট ছাড়াই বিনা প্রতিদ্ব›দ্বতায় ৬টি উপজেলা পরিষদে তিন পদেই প্রার্থী নির্বাচিত হন।
চট্টগ্রাম : উত্তর চট্টগ্রামের পাঁচটি উপজেলায় হাতেগোনা ভোটারের উপস্থিতিতে নিরুত্তাপ ভোট হয়েছে। সব আয়োজন ছিল, ছিল না শুধু ভোটার। কয়েকটি কেন্দ্রে বিকেল পর্যন্ত কোন ভোটার আসেনি। দিনভর ভোটকেন্দ্র ছিল খাঁ খাঁ। অলস সময় কাটিয়েছেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। পাঁচ উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র ফটিকছড়িতে চেয়ারম্যানসহ প্রত্যেকটি পদে নির্বাচন হয়।
তবে সেখানেও ভোটারের উপস্থিতি ছিল সামান্য। বাকি চারটি উপজেলা হচ্ছে সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, স›দ্বীপ ও রাঙ্গুনিয়া। এসব উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়নি। ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হলেও ভোটারদের কোন আগ্রহ দেখা যায়নি। পাঁচ উপজেলায় ১৩ লাখ ৬২ হাজার ১২২ জন ভোটারের জন্য ৪৯৫টি ভোটকেন্দ্র ছিল।
সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও অনেক কেন্দ্রে দুপুর পর্যন্ত কোন ভোটার আসেনি। ফাঁকা ছিল ব্যালট বাক্স। ফটিকছড়ির রাঙ্গামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফটিকছড়ি ডিগ্রি কলেজ এবং হাটহাজারীর হেদাই চৌধুরী ফোরকানিয়া মাদরাসা ও কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়সহ রাঙ্গুনিয়া ও সীতাকুন্ডে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র ছিল ফাঁকা।
ফটিকছড়ি উপজেলার দু’টি কেন্দ্রে পাঁচ ঘণ্টায়ও ভোট দিতে আসেনি কোন ভোটার। কেন্দ্র দুটি হচ্ছে- কাঞ্চননগর রুস্তুমিয়া মুনিরুল ইসলাম মাদরাসা ও শাহনগর উচ্চবিদ্যালয়। কাঞ্চননগর রুস্তুমিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আলমগীর কবির শাহনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. ইব্রাহিম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আলমগীর কবির বলেন, সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনো ভোটার আসেনি। ফলে পাঁচ ঘণ্টায়ও একটি ভোট কাস্ট হয়নি। তিনি জানান, এ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৬৫০ জন।
শাহনগর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোটার ছিল না। এ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৭১০ জন। দুপুর পর্যন্ত কেউ ভোট দেয়নি। উপজেলার নানুপুর আবু সুবাহান উচ্চ বিদ্যালয়, আজিম নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাজিরহাট জামিয়া মিল্লিয়া কামিল মাদরাসা, পূর্ব ফরহাদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাজহারুল উলুম গাউছিয়া মাদরাসা, নানুপুর গাউছিয়া মাদরাসা কেন্দ্রেও হাতেগোনা কয়েকজন ভোটার দেখা গেছে। জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পাঁচ উপজেলায় ৪৯৫ জন প্রিসাইডিং, তিন হাজার ৪৪১ জন সহকারি প্রিসাইডিং এবং ছয় হাজার ৮৮২ জন পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন।
সিলেট : সিলেটে জেলায় ১২টি উপজেলায় সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল গড়িয়ে দুপুর এলেও ভোট প্রদানে ভোটারদের তেমন স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে না। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই নির্বাচনে ভোট গ্রহণে জড়িত কর্মকর্তাদের গল্পগুজব করে সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সদর উপজেলার সাহেবের বাজার স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে (পুরুষ কেন্দ্র) ভোট আছে ২৭৪১টি। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কাস্ট হয়েছে ৯০০ ভোট।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বদিকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ১৪৬২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২২০ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ উপজেলার তেলিবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯টি ভোট, লিটলস্টার কিন্ডার গার্টেন কেন্দ্রে ২৭ ভোট, লালাবাজার দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয় (পশ্চিমাংশ) কেন্দ্রে ৩১ ভোট, লালাবাজার দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয় (পূর্বাংশ) কেন্দ্রে ১১৮ ভোট, মোহাম্মদীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬৮ ভোট কাস্ট হয়েছে।
বদিকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জয়দ্বীপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি একেবারেই কম।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায়ও ভোটারদের সাড়া নেই বলে জানিয়েছেন জকিগঞ্জের সাংবাদিক আল হাছিব তাফাদার। বিয়ানীবাজারের সাংবাদিক সুফিয়ান আহমদও জানিয়েছেন সেখানেও একই অবস্থা। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ভোটার না থাকায় গল্প করে অবসর সময় পার করছেন নির্বাচনী কর্মকর্তা।
বিশ্বনাথের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু জানিয়েছেন, বিশ্বনাথ উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চললেও ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম।
উপস্থিতি কম হওয়ায় কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব করে সময় পার করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও অলস সময় পার করতে দেখা গেছে।
এদিকে সিলেটের জৈন্তাপুরে জাল ভোট দিতে গিয়ে দুই যুবক আটক হয়েছেন পুলিশের হাতে। আটককৃতরা হলেন- সাইফ উদ্দিন ও সায়মন আহমদ। তারা উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক হন। তারা ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা।
এদিকে, সিলেটের জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের তিরাশী গ্রামের ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে ও ব্যালট পেপার ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় হামলার শিকার হয়েছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ১৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে। এতে অন্তত পক্ষে ২০/২৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া গেছে।
দিনাজপুর : উপজেলা নির্বাচনের ২য় ধাপে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার মধ্যে ১২ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটার শূন্য নির্বাচনে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোথাও কোন গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘোড়াঘাট উপজেলায় দুই আওয়ামী নেতাকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছে।
জেলার ১৩ উপজেলার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি অনেক কম। বীরগঞ্জ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৯০ জন ভোটের মধ্যে বেলা ১১ টা পর্যন্ত ভোট পড়ে মাত্র ১’শ টি। কাহারোল বাজার ফাজিল মাদ্রাসার পুরুষ কেন্দ্রে বেলা পৌনে ১টায় দেখা গেল ভোটার শূন্য বুথ। প্রিজাইডিং অফিসারের দাবি ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে এই কেন্দ্রের মহিলাদের লাইন দেখা গেছে। বীরগঞ্জে ইতিমধ্যে আওয়ামী প্রার্থী’র অভিযোগের প্রেক্ষিতে বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৩ পুলিশকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত করা হয়েছে।
এদিকে ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে এসেও ভোট না দেয়ার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কেন্দ্রে না গেলেও ভোট হয়ে যাওয়ার আক্ষেপে ভোটাররা এবার ভোট কেন্দ্র বিমুখ হয়ে পড়েছে। স্মরনাতীতকালের উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলেই স্বীকার করেছেন।
মৌলভীবাজার : সকাল থেকে মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহন শুরু হয়েছে। পৌর এলাকার কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায় কেন্দ্রগুলো একেবারে ফাঁকা। কেন্দ্রেগুলো হচ্ছে হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গোবিন্দশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসা, কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ, বাজার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়কাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার ভোট কেন্দ্র গুলোতেও ভোটারের উপস্থিতি একেবারে কম বলে জানা গেছে।
এদিকে, মৌলভীবাজার পৌর এলাকার কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ২ হাজার ৯শত ৯৭ ভোট। এ কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিং অফিসার, আনসার, পুলিশ মিলে ৪১ জন ছিলেন। আলাদাভাবে প্রার্থীর এজেন্টের দ্বায়িত্ব পালন করেন ২১ জন। কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ৪১টি। ৯টি বুথের মধ্যে ৮টি বুথে ভোট পড়েছে। একটি এলাকা (বর্ষিজোড়া ও শমসের নগর সড়ক দক্ষিণ) এর মানুষ ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ায় ১টি বুথে কোন ভোট পরেনি। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নিলাদ্রি শেখর দাশ জানান ভোট কম হওয়ায় গননায় বেশী সময় লাগেনি। বিকেল সোয় ৫টার দিকে গননার কাজ শেষ হয়ে যায়।
রাঙামাটি : অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসববিহীন নিরানন্দ পরিবেশে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সকল উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে তিন উপজেলা বাঘাইছড়ি, কাউখালী ও নানিয়ারচর উপজেলায় সরকার সমর্থকদের ছাড়া বাকি ৫জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন।
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর ও কাউখালী এই তিনটি উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছে। একই সাথে সাত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীও তাদের ভোট বর্জনের খবর জানিয়েছেন। ভোট বর্জন করে নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেছেন তারা। দুই উপজেলাতেই জাতীয় রাজনৈতিক দলের কোনও দলই অংশ নেয়নি। ‘রাতে ভোট গ্রহণ ও দিনে বেলায় ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে না দেয়া’র অভিযোগ এনে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোটবর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা এবং তিন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ও এবারের প্রার্থী বড় ঋষি চাকমা অভিযোগ করেছেন, ‘গতকাল রাতেই বিভিন্ন কেন্দ্রে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। সকাল থেকেই আমার সমর্থক ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাঁধা দেয়।’ আমার সাথে আরও তিন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীও নির্বাচন বর্জন করেছে। একই অভিযোগ নানিয়ারচরের চেয়ারম্যান প্রার্থী রূপম দেওয়ানের ও কাউখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনসংহতি সমিতি সমর্থিত প্রার্থী অর্জুন মনি চাকমা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নানিয়াচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাসউদ পারভেজ মজুমদার বলেছেন, তিন চেয়ারম্যান ও চার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন স্থগিত করার জন্য আমার কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি আমি রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি।
ফরিদপুর : ফরিদপুরের সদর উপজেলা ব্যাতিত আটটি উপজেলায় সকাল আটটা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। সকাল থেকেই ভোটারদের আগ্রহের সাথে ভোটকেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে। দিনের প্রথমভাগে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
গাইবান্ধা : উৎসবমূখর পরিবেশে গাইবান্ধার ৫টি উপজেলায় একটানা ভোট গ্রহণ বিকাল ৪ টায় সম্পন্ন হয়েছে। ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে জেলা রিটানিং অফিসার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পুলিশ আনসার বাহিনী সদস্যদের পাশাপাশি পর্যাপ্ত অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিযোগ দেওয়া হয়েছে।
পাবনা : পাবনার ৮টি উপজেলায় ৫ম নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গড়ে ৩০ থেকে ৩৫শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ চলে। আমাদের ঈশ্বরদী রিপোর্টার এস.এস রাজা জানান, সকাল থেকে ১৪টি কেন্দ্র ঘুরে ভোটারের উপস্থিতি খুব বেশি চোখে পড়েনি। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিন্নাত আরা জলি বলেছেন, ভোট গণনার পর কাস্টিং এর চিত্র পাওয়া যাবে। তবে গড়ে ৩০% ভোট দুপুর পর্যন্ত কাস্টিং হয়েছে। পড়ে আরও বাড়তে পারে।
ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি উপজেলায় ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে। সকাল ৮.০০ থেকে শুরু হয়ে চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। পাঁচ উপজেলায় ৪০২টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনকে সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ জিলহাজ উদ্দিন। ভোট কেন্দ্র গুলো ঘুরে দেখা যায় ভোটার উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করেন প্রার্থীরা।
কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) : কম ভোটারদের উপস্থিতি ২য় ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এর মধ্যে ওয়াগ্গা ইউপির সাক্রাছড়ি জুনিয়র হাই স্কুল কেন্দ্রের কিছু ব্যালট পেপারে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী অংলাচিং মারমার উড়ো জাহাজ প্রতিক না থাকার অভিযোগ উঠায় কেন্দ্রটি স্থগিত করেন উপজেলা সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এদিকে, ওয়াগ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও সাক্রাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী (উড়ো জাহাজ) অংলাচিং মারমার দুইজন সমর্থকে আটক করা হয়েছে। এই বিষয়ে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশ্রাফ আহমেদ রাসেল জানান, ওয়াগগা উচ্চ বিদ্যালয় ও সাক্রাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী (উড়ো জাহাজ) অংলাচিং মারমার দুইজন সমর্থকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাক্রাছড়ি কেন্দ্রে সর্বমোট ২হাজার ৪৪ভোট। এর মধ্যে শতাধিক ব্যালট পেপারে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী অংলাচিং মারমার উড়ো জাহাজ প্রতীক না থাকার (রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় উড়োজাহাজ মার্কা নেই, সেই উপজেলার কিছু ব্যালট পেপার ভুলবশত এই কেন্দ্রে চলে আসে) অভিযোগে ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থাগিত করা হয়।



 

Show all comments
  • Sezaur Rahman ১৯ মার্চ, ২০১৯, ২:০৬ এএম says : 0
    রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকে গলা টিপে হত্যা করেছে! তাই নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ শূন্যের কোটায়। ভবিষ্যতে হয়তো নির্বাচনই থাকবে না!
    Total Reply(0) Reply
  • Ashek Rabbani ১৯ মার্চ, ২০১৯, ২:০৮ এএম says : 0
    আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের লাজ লজ্জা না থাকলেও,সাধারন মানুষের ল্জ্জা আছে।যারা সাধারন মানুষের মধ্যে আওমীলীগ করে, বর্তমানে তারাও ভোটকেন্দ্র যেতে লজ্জা পায়।
    Total Reply(0) Reply
  • Aminur Rahman Chowdhury ১৯ মার্চ, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
    ক্ষমতার আসন পাকাপোক্ত আর দীর্ঘায়িত করতে জনগনকে নির্বাচনে ভোট দানে অনিচ্ছুক করে তোলা আর নির্বাচন নিয়ে মাথা না ঘামাতে ও অনিহা ও অনাগ্রহী করে তোলার জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থাকে একেবারে গুড়িয়ে দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার সুকৌশলে নির্বাচন কমিশনকে ঠুটোঁ জগন্নাথ বানিয়ে।
    Total Reply(0) Reply
  • Tahmina Akter Mim ১৯ মার্চ, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
    ঈদের আনন্দের চেয়েও এদেশের জনগনে কাছে বড় আনন্দ ছিল ৫বছর পর নির্বাচনের আনন্দ। সারাদিন মিছিল করে বিকেলে উম্মুক্ত মাঠে বসে গুর মুড়ি খাওয়া। আজ সে আনন্দ কোথায় গেল? এটা কার অবদান? মানোনিয় স্পিকার!
    Total Reply(1) Reply
    • MAHMUD ১৯ মার্চ, ২০১৯, ৬:৫২ এএম says : 0
      Many thanks, Dear TAHMINA AKTER. You have disclose precise comments. Everybody knows "ETA KAR OBODAN" but peoples have no any rejoice and suddenly taciturn.
  • Rasel Mahamud Sharif ১৯ মার্চ, ২০১৯, ১:৫১ এএম says : 0
    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল প্রায় ৯০শতাংশ ভোট পেয়ে। তাহলে বর্তমান উপজেলা নির্বাচনে তাদের ভোটাররা কোথায়?
    Total Reply(0) Reply
  • Tanvir Mahmud Shovan ১৯ মার্চ, ২০১৯, ১:৫৪ এএম says : 0
    ভোটার শূন্য!! নির্বাচনের নামে প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ না করে ভাগ-বাটোয়ারা করে দিলেই তো হয়। এতে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় টা অন্তত কমবে।।
    Total Reply(0) Reply
  • Sabbir Swapan ১৯ মার্চ, ২০১৯, ২:১০ এএম says : 0
    ভোট না করে মহাজোটের শরিকেরা পদ গুলো ভাগবাটোয়ারা করে নিলেই তো হয় । প্রার্থী সমর্থক প্রশাসন সবই একাকার যেখানে সেখানে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করার কি দরকার !
    Total Reply(0) Reply
  • আলী ১৯ মার্চ, ২০১৯, ১১:০৭ এএম says : 0
    ত্রতে বুজা যায আ,লীগ থেকে বি ত্রন পির জনপ্রিযতা বেশি
    Total Reply(0) Reply
  • রহিম ১৯ মার্চ, ২০১৯, ১১:২২ এএম says : 0
    দিনের শেষে হযতো বা বলবে ৮০ভাগ ভোট পডেছে আ,লীগের সব নেতা পাশ
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

৩১ মার্চ, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ