Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯, ০২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

মোজাম্বিকে সাইক্লোন ইদাইয়ের তাণ্ডবে নিহত সহস্রাধিক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ মার্চ, ২০১৯, ৩:৫৭ পিএম

আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে সাইক্লোন ইদাইয়ের শক্তিশালী আঘাতে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফিলিপ নুসি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, গত সপ্তাহে মোজাম্বিকে ইদাই পুরোমাত্রায় আঘাত হানে। এতে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিবেশি জিম্বাবুয়েতে আরো ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার মোজাম্বিকের মধ্যাঞ্চলের বেইরা শহরে সাইক্লোন ইদাই তাণ্ডব চালায়। শক্তিশালী এই সাইক্লোনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয় বেইরা। পরে এটি প্রতিবেশি দেশ জিম্বাবুয়েতে আঘাত হানে। সাইক্লোন ইদাইয়ের তাণ্ডবের পর বন্যায় দুই দেশে হাজার হাজার বাড়ি-ঘর ডুবে গেছে। রাস্তায় গাছপালা ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়েছে।
জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ফিলিপ নুসি বলেছেন, এখন পর্যন্ত আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ৮৪ জনের প্রাণহানির তথ্য পেয়েছি, কিন্তু আসলে কী ঘটছে সেটা জানার জন্য আমরা যখন সরজেমিনে গিয়েছি, সবকিছু দেখে আমাদের মনে হয়েছে, এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির তথ্য আমাদের নথিভুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, এটা আসল মানবিক বিপর্যয়। ১০ হাজারের বেশি মানুষ বিপদের মধ্যে রয়েছেন। বন্যায় বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকে গাছের ডালে আশ্রয় নিয়েছেন; সহায়তার অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অলাভজনক সংস্থা মিশন অ্যাভিয়েশন ফেলোশিপের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বন্যায় বাড়ি-ঘরের জানালা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। ফলে অনেক মানুষ তাদের বাড়ি-ঘরের ছাদে আটকা রয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট স্যোসাইটিজ (আইএফআরসি) বলছে, বেইরা শহরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক এবং আঁতকে ওঠার মতো।
এক বিবৃতিতে আইএফআরসি বলছে, শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের অধিকাংশ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ। অস্বাভাব্কি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় সবকিছু ধ্বংস হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিকল রয়েছে। রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কিছু এলাকায় পৌঁছানো যাচ্ছে না।
প্রতিবেশি দেশ জিম্বাবুয়েতে সাইক্লোন ইদাইয়ের তাণ্ডবে প্রাণ গেছে প্রায় ৯৮ জনের, নিখোঁজ রয়েছেন আরো কমপক্ষে ২১৭ জন। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় ফরাসী বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে। এএফপির একজন আলোকচিত্রী বলেছেন, সোমবার থেকে জিম্বাবুয়েতে নিহতদের লাশ দাফন শুরু হয়েছে।
জিম্বাবুয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেরান্স শিরি বলেছেন, ঘুর্ণিঝড় ইদায়ের আঘাতে বাড়ি-ঘর ভেসে গেছে। বিভিন্ন এলাকার সেতু টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। ধ্বংসযজ্ঞের যে আলামত রেখে গেছে ইদাই; তাতে যে কারো মনে হবে যুদ্ধের ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন। তিনি বলেন, কিছু কিছু রাস্তায় বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। জিম্বাবুয়ের পরিবহন ও অবকাঠামো উন্নয়ন মন্ত্রী জোয়েল বিগি মাটিজা বলেন, বন্যার পানির স্রোতে সেতু-কালভার্ট ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি। সূত্র: রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আবহাওয়া


আরও
আরও পড়ুন