Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

তনুর ধর্ষক-খুনিদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে নেমেছে সিআইডি

মেডিকেল বোর্ডের প্রধানের ভূমিকা রহস্যজনক!

প্রকাশের সময় : ১৯ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে : তিন ধর্ষকই পাশবিক নির্যাতনের পর তনুকে খুন করেছে, নাকি এ ঘটনায় আরো কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন ধারণা নিয়েই বেশ সতর্কতার সাখে এগোচ্ছে দেশব্যাপী আলোচিত তনু হত্যা মামলায় সিআইডির তদন্ত সহায়ক দল। ডিএনএ টেস্টে যে তিন পুরুষের বীর্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তা কাদের হতে পারে এমন সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে সিআইডি। তালিকা অনুযায়ী সন্দেহভাজনদের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে মাঠে নেমেছে সিআইডি। ঘটনার রাতে তনুর লাশ উদ্ধারের স্থান দিয়ে তিন ব্যক্তিকে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেছিলেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। ওই তিনজনই কি ধর্ষক ছিল? এমন প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে সিআইডির ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট প্রকাশের পর।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেয়ার ব্যাপারে কোনো কিছু বলতে নারাজ তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা: কে পি সাহা মুখে কুলপ এঁটেছেন। প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে রক্ষা করতে কে পি সাহা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। কেননা দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেয়া নিয়ে তার ভূমিকা রহস্যজনক!
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ¯œাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্য সোহাগী জাহান তনুকে হত্যার আগে একাধিক পুরুষ তার ওপর পাশবিক নির্যাতন অর্থাৎ ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজটি করেছে। সোমবার রাতে ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট থেকে সিআইডির তদন্ত সহায়ক দল পুরোপুরি এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন আঁটঘাট বেঁধে। তনু হত্যা মামলার তদন্ত সহায়ক দলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গণধর্ষণের পর তনুকে হত্যা করে লাশ তার বাড়ির কাছাকাছি জঙ্গলে ফেলে যায় ঘাতকরা। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। সর্বোপরি এটাও সত্য যে, ঘাতকরা পুরো ঘটনা পরিকল্পিতভাবে করেছে। সেনানিবাসের মতো একটি সুরক্ষিত জায়গায় বাইরের কোনো লোকের পক্ষে এ ঘটনা সংঘটিত করার কোনো সুযোগ নেই।
সিআইডির তদন্ত সহায়ক দলের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, সেনানিবাসের ভেতরের কিছু লোকের তালিকা আমরা করেছি। যাদেরকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তনুর শরীরে পাওয়া নমুনা মেলানো হবে। আর এটা করতে পারলেই ধর্ষকদের সূত্র ধরে খুনের বিষয়টিও বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনায় আরো লোক জড়িত ছিল কি না এসব বিষয়ও বেরিয়ে আসবে। তিনি আরো বলেন, সামনে এগিয়ে চলাটা ততো সহজ নয়। কারণ আমরা আগ থেকেই বলে আসছি ঘটনাটি একটি বিশেষ এলাকায় ঘটেছে। আর তাই সাংবাদিকসহ সেনাবাহিনীরও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে দেড় মাসের বেশি সময় গড়ালেও তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করতে গড়িমসি করছেন তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। বোর্ডের প্রধান ডা: কামদা প্রসাদ সাহা (কেপি সাহা) আরো আগ থেকেই বেঁকে বসে আছেন ডিএনএ রিপোর্ট হাতে এলে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেবেন। কিন্তু সোমবার সিআইডি ডিএনএ রিপোর্ট প্রকাশ করলেও এটি মেডিকেল বোর্ডের হাতে না আসায় তিনি দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেয়ার বিষয়ে বলতে নারাজ। সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে মুখে কুলপ এঁটেছেন।
এদিকে বিভিন্ন মহল ধারণা করছে, ডিএনএ রিপোর্টে তনুকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। কিন্তু প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা: শারমিন সুলতানা রিপোর্টে খুন ও ধর্ষণের আলামত বিষয়ে কিছুই প্রকাশ করেননি। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ডা: শারমিনকে রক্ষা করতে কোনো কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন না তো? না হয় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিতে মেডিকেল বোর্ডকে ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকতে হবে কেন? ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তো কখনো ডিএনএ রিপোর্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়। ফলে সাধারণ মানুষের বুঝতে আর বাকি নেই যে, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেয়ার নামে প্রায় ৪৮ দিন সময় পার করার নেপথ্যে কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তনুর ধর্ষক-খুনিদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে নেমেছে সিআইডি
আরও পড়ুন