Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

ফের ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২১ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

বেপরোয়া একটি বাসের চাপায় বিইউপির ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর প্রায় সব সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে কোথাও যানবাহনের অভাব আবার কোথাও প্রচন্ড যানজটে কার্যত স্থবির হয় পড়ে কর্মব্যস্ত রাজধানী। আর চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। উত্তার রাজধানীর বেশিরভাগ রাস্তায় গণপরিবহন ছিল না বললেই চলে। প্রাইভেট যানবাহনও চলে কম। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না করে তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। আর রাস্তায় ভোগান্তির মুখে পড়া মানুষের মধ্যে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অন্যদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলন আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিইউপির শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষার্থীরা।
দেশে দ্বিতীয় দফা সড়ক আন্দালনের দ্বিতীয় দিনে বসুন্ধরা এলাকার প্রগতি সরণি, মিরপুর, ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা কিছু এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ফার্মগেট, উত্তরা, রামপুরা ও মিরপুরসহ রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করে। নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে ৮ দফা দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিলও করেছে। অনেক এলাকায় গতবছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত প্রথম দফা সড়ক আন্দালনের মতো শিশু-কিশোররাও রাস্তায় নামে। এ সময় রাজপথে গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করার পাশাপাশি গাড়িগুলোকেও লাইন ধরে চলার ব্যবস্থা করে দিতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কলেজের শিক্ষার্থীরাও সড়কে নামে। সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সামনের সড়কগুলো বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে পড়তে হয়েছে গণপরিবহনকে। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় বসে থাকা, গাড়ি না পেয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেয়া, বাইক থেকে নেমে পার্কিংয়ে বাইক রেখে হেঁটে অফিসে ঢোকার মতো ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।
এর আগে, শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। বিইউপি শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে নুর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, আজ ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে এসেছে। তাদের দাবিগুলো অতি দ্রুত বাস্তবায়নে আমরা আপনার আশ্বাস ও কার্যকর ভূমিকা চাই। সায়েম রহমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কোনো আশ্বাস আমরা আর শুনতে চাই না। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে এমন দেখতে চাই। যখন আমাদের দাবি পূরণ হবে তখন আমরা আন্দোলন ছেড়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবো।
সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ইমন সাহা বলেন, গত ছয়-সাত মাস আগে দুজন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এরপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে সরকারিভাবে নানা রকম আশ্বাস দেয়া হয়। অথচ তার বাস্তবায়ন আজও হয়নি। এ কারণে নতুন করে আমাদের আরেক ভাইয়ের প্রাণ দিতে হয়েছে।
ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রহিমসহ তার সহপাঠীরা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। উন্নয়নের নামে সরকারি লোকদের নিজেদের পকেট ভারী হচ্ছে আর মাঝখান থেকে আমাদের শিক্ষার্থী ও নিরীহ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। আমরা আন্দোলন করি, ট্রাফিক পুলিশ বাণিজ্য করে। রাস্তা পার হওয়ার সময় বুক ধরফর করে এই বুঝি আমি দুর্ঘটনার কবলে পড়লাম। এমন অনিশ্চয়তা নিয়ে আমাদের রাস্তায় চলাচল করতে হয়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আমরা আন্দোলনে যোগ দিয়েছি। আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত
মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের পর বাসের চাপায় সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন। বিইউপি শিক্ষার্থীরা বলছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের দাবিগুলো মেনে নেয়া হবে মেয়রের এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতেই তারা আন্দোলন স্থগিত করেন। গতকাল দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর প্রতিনিধি দলে থাকা বিইউপি শিক্ষার্থী ফয়সাল এনায়েত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শিক্ষার্থী, উপাচার্যসহ ডিএমপি কমিশনার ও মেয়রের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছি। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আটটি দাবির মধ্যে তিনটি দাবির কথা পুনরায় তুলে ধরছি। এর মধ্যে যে মামলা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে এ মামলার চার্জশিট দিতে হবে। জবাবে কমিশনার বলেছেন, তার আগেই যদি সম্ভব হয়, তাহলে আগেই দেয়া হবে। চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টরা কী পরিকল্পনা নিলেন, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে ঠিক করতে হবে। সুপ্রভাত পরিবহনের যে বাসটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে, তা স্থায়ী কার্যকর করতে হবে।
বৈঠকে এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থদের দাবি-দাওয়া মানার আশ্বাস দেয়া হয়েছে জানিয়ে ফয়সাল এনায়েত বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় আমরা সবাই আবারও মেয়রের সঙ্গে বৈঠকে বসব। গৃহীত দাবিগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, সেটা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হবে। সেখানে গৃহীত পদক্ষেপগুলো শুনে আমরা সন্তুষ্ট (স্যাটিসফায়েড) না হলে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আবারও রাজপথে নামব। এর মধ্যে আন্দোলনে না নেমে ২৮ মার্চের বৈঠকের পর করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।
বৈঠকের পর ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, একজন চালকের হাতে একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হবে এটা কারও কাম্য নয়। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সেখানে (বসুন্ধরা গেট) একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। সুপ্রভাত ও জাবালে নূর বাস যেন ঢাকায় চলতে না পারে, সেজন্য ডিএমপি, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আবরারের নামে ফুটওভার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় বাসের চাপায় নিহত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরীর নামে ফুটওভার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার যেখানে সু-প্রভাত পরিবহনের বাসটি আবরারকে চাপা দেয়, ঠিক সেখানেই তৈরি হচ্ছে এই ফুটওভার ব্রিজটি। সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র ফুটওভার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় বিইউপি’র ভিসি মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
বসুন্ধরায় সড়ক অবরোধে ৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে ওই সড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে এসব শিক্ষার্থী আট দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলন চালিয়ে যায়। এ সময় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইউনিভার্সিটি, বি ইউ পি, এম আই এস টি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলনে যুক্ত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সাথে আশ্বাসের দীর্ঘশ্বাস আর না আর না, এরপর কি আমার পালা? ওস্তাদ জোরে চালান সামনে স্টুডেন্ট, উই ওয়াান্ট জাস্টিস, আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, এমন নানা স্লোগান লেখা ফেস্টুন-ব্যানার নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ঘটনাস্থল ছাড়লেন মেয়র-ডিএমপি কমিশনার
বসুন্ধরা গেট এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে গিয়ে তোপের মুখে পড়লেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতেই বাধ্য হন তারা। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বসুন্ধরা গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর কিছু সময় আগেই ওই এলাকায় একটি ফুটওভারব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
ডিএমপি কমিশনার শিক্ষার্থীদের বলেন, সুপ্রভাত পরিবহনের লাইসেন্স ও রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে আর এ বাস চলবে না। আর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জাবালে নূর পরিবহনের চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হবে। এসময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তাকে বক্তব্য থামাতে বলে শিক্ষার্থীরা বলেন, আপনারা এর আগেও কথা দিয়েছিলেন, সেই কথা রাখেননি। যার কারণে আবার আমাদের প্রাণ গেল, আবার আমাদের মাঠে নামতে হলো। এর মধ্যে বিইউপি উপাচার্য মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করলে তখনও শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। ‘মানি না, মানব না’, ‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘প্রশাসনের প্রহসন মানি না মানব না’ এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। এসময় মেয়র আতিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনিও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। পরে ডিএমপি কমিশনার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।
ফের লাইসেন্স পরীক্ষা, লাইনে গাড়ি
বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার মৃত্যুর ঘটনায় আবার ফিরে এসেছে গত বছরের জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের শুরুর দিককার সেই নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের স্মৃতি। ফের সড়কে বিভিন্ন পরিবহনের গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স-ফিটনেস পরীক্ষা করে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। সড়কের গাড়িগুলোকেও ফের লাইন ধরে চলার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তারা। রাজধানীর ধানমন্ডি ল্যাব এইড মোড়, শাহবাগ, রামপুরা, ফার্মগেট, উত্তরা, কুড়িল, প্রগতি সরণি, মহাখালী, গুলশান, বনানী, সায়েন্স ল্যাব, পুরান ঢাকা ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন সড়কে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহবাগ মোড়টি শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে রেখেছিলেন সকাল থেকে। তবে সময় গড়ালে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে যানচলাচলের সুযোগ করে দেন। এ সময় তারা প্রতিটি গাড়ির চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেসের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে থাকেন। গাড়িগুলোকেও লাইন ধরে চলার সুযোগ করে দেন তারা। এ সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির লাইসেন্সও তাদের পরীক্ষা করতে দেখা যায়।
পাথর ফেলে সড়ক অবরোধ করায় আটকা পড়েছে বাসসকালে উত্তরা থেকে রওনা দিয়ে তিনঘণ্টাতেও বিমানবন্দর সড়কে পার হতে পারেননি বোরহান। তিনি বলেন, আমি এরপরও এই আন্দোলনের পক্ষে। ভোগান্তি হচ্ছে আমাদের সবারই, কিন্তু আজকে যদি কোনও সমাধানের দিকে না যান, তাহলে কালকে আপনার আপনজনও নিহত হতে পারেন।
মিরপুর রোডের পুরোটাই গাড়িতে ঠাসাঠাসি। এখানে তিন জায়গায় রাস্তা অবরোধ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। যানবাহন কম থাকায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে কর্মব্যস্ত মানুষকে। সকালে পুরান ঢাকার রায় সাহেব ও বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। এসময় তারা বেশ কয়েকটি পরিবহনের কাগজপত্রও চেক করেছেন।
রাজিব উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি নিরাপদ সড়ক। কিন্তু সরকার এখনও আমাদেরকে নিরাপদ সড়ক উপহার দিতে পারেনি। পরিবহন চালকদের দৌরাত্ম্য ও অনিয়মের কারণেই আজকে সড়ক নরকে পরিণত হয়েছে।
এ ছাড়া ফার্মগেট এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়। উত্তরায় হাউস বিল্ডিং এলাকায় মাইলস্টোন কলেজ ও উত্তর ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। এতে যান চলাচল ব্যাহত হলেও সড়কের একপাশ দিয়ে যান চলাচল করে।
পরিবহন মালিকদের দাবি, তারা শঙ্কায় থাকার কারণেই রাস্তায় পরিবহন কম নামিয়েছেন।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দফতর সম্পাদক সামদানি খন্দকার বলেন, আসলে আন্দোলনের সময় অনেক পরিবহন ভাংচুর হয়। এছাড়া রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে বসে থাকতে হয়। সেকারণে পরিবহন কিছুটা কম নেমেছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিহবন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে লুটেরা। ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্স বিহীন চালককে সড়কে নামতে না কঠোর আইন করা প্রয়োজন। অবিলম্বে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ৮দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পার্টির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারন সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম।
স্থগিতের ঘোষণা মানতে নারাজ, কাল ফের আন্দোলনে নামবে একপক্ষ
মেয়র ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল এক সপ্তাহের জন্য নিরাপদ সড়কের আন্দোলন স্থগিতে সম্মত হয়ে এলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ তা মানতে নারাজ। দাবি বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথেই থাকতে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনার পর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও এখনের মত সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফের তারা অবরোধে বসবেন বলে জানান। এসময় শিক্ষার্থীদের সবাইকেই বসুন্ধরা গেট ছাড়তে দেখা গেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সড়ক

২০ এপ্রিল, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ