Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলাই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর প্রতিজ্ঞা : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের যে অগ্রযাত্রা, সেটা আমরা অব্যাহত রেখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো এবং তার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেটাই হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বছরব্যাপী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হবে। শুধু ঢাকা শহর বা দেশের বড় বড় শহরে যেন এটা সীমাবদ্ধ না থাকে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর এর মাধ্যমে জাতি সত্যিকার ইতিহাস জানতে পারবে।
গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির যৌথ সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ হিসেবে উদযাপন করা হবে। সরকার এ উপলক্ষে বিশিষ্ট জনদের নিয়ে একটি ১০২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এবং বাস্তায়নের জন্য ৬১ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটি করেছে, আজ ছিল তারই প্রথম যৌথ বৈঠক। মুজিব বর্ষের প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সারাদেশের সকল জেলা, উপজেলা থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানমালা চলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ মাস আমাদের জন্য একটা অর্থবহ মাস। ৭ মার্চ তার জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ তার জন্মদিন। আবার ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কাজেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বছরটাই আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে উদযাপন করবো।
তিনি বলেন, জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে এ দেশের মানুষের জন্যই কষ্ট স্বীকার করে গেছেন জাতির পিতা। আর সেই কষ্টের ফসল হিসেবই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, স্বাধীন জাতির মর্যাদা। কাজেই এটা আজকে আমাদের একটা জাতীয় কর্তব্য। আমি মনে করি, তার জন্ম শতবার্ষিকী আমরা ভালভাবে উদযাপন করবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকা শহর বা দেশের বড় বড় শহরে যেন এটা সীমবিদ্ধ না থাকে, আমরা সারাদেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এদেশের মানুষ যাতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে একটা মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে যেন আমরা গড়ে তুলতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে জাতির পিতা দেখেছেন দারিদ্র্যের হাহাকার। বুভুক্ষু নর-নারীর কষ্ট। মানুষ ওষুধ পায়নি, চিকিৎসা পায়নি, খাবার পায়নি, থাকার জায়গা নাই। মানুষের এই দুঃখ কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারেননি। আজকে আমাদের দারিদ্রের হার ২১ ভাগে আমরা নামিয়ে এনেছি। হত দরিদ্রের হার আমরা ১১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। আমাদের লক্ষ্য এটা আরো কমিয়ে আনা এবং হত দরিদ্র বলে এদেশে কিছু থাকবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা তার জীবনের সবথেকে মূল্যবান সময় এদেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ব্যয় করেছেন। মানুষের ওপর অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দিনের পর দিন কারাবরণ করেছেন। তারা সন্তান হিসেবে পিতৃস্নেহ বঞ্চিত হয়েছেন। কেননা জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কারাগারের ঐ অন্ধ প্রকোষ্ঠেই তিনি কাটিয়েছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দীর্ঘ ২১ বছর বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সব থেকে দুর্ভাগ্য যে ভাষা আন্দোলনে তার যে অবদান সেটা একেবারে মুছে ফেলা হচ্ছিল। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানও মুছে ফেলার একটা চেষ্টা করা হয়েছিল। আসলে সত্যকে কেউ কখনও মুছে ফেলতে পারে না। সত্য কখনও না কখনও উদ্ভাসিত হবেই, আর তার স্থানটা সে করে নেবে। সেটার প্রমাণ আমরা পাচ্ছি এবং সেটা দেখছি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রা আমরা অব্যাহত রেখেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো। আর তার জন্মশতবার্ষিকীতে সেটাই হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা পরিচালনা করেন কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ এবং আমির হোসেন আমু, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং মতিয়া চৌধুরী, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বৈঠকে নিজ নিজ অভিমত ব্যক্ত করেন।



 

Show all comments
  • রিমন ২১ মার্চ, ২০১৯, ৪:১১ এএম says : 1
    বর্তমান দেশের অবস্থা দেখে আমাদের তো অন্য কিছু মনে হচ্ছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Mansur Ahmed ২১ মার্চ, ২০১৯, ৪:০৮ এএম says : 0
    আমরাও চাই দেশেটা সোনার বাংলা হোক
    Total Reply(0) Reply
  • Tawhid ২১ মার্চ, ২০১৯, ৪:১২ এএম says : 0
    We are waiting for that
    Total Reply(0) Reply
  • রিফাত ২১ মার্চ, ২০১৯, ৪:০৯ এএম says : 1
    তাহলে কী আমরা আমাদের ভোটাধিকার আর ফিরে পাবো না ?
    Total Reply(0) Reply
  • Akramul Hoque ২১ মার্চ, ২০১৯, ৩:১৮ এএম says : 0
    প্রতিজ্ঞা করুন, বিরোধী দল এবং মতের বিরুদ্ধে সহনশীল হবেন - এটাই চায় জনগণ
    Total Reply(0) Reply
  • আকতার ২১ মার্চ, ২০১৯, ১০:১৫ এএম says : 1
    গনতন্ত্র না থাকলে, সোনার বাংলা কেন, হিরার বাংলা করলে ও লাভ হবেনা। জনগণ কি চায় সেইটা বুঝতে চেষ্টা করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ২২ মার্চ, ২০১৯, ৬:৪১ এএম says : 0
    নেত্রী হাসিনা বলেছেন তিনি এই দেশকে জতীর জনকের বলা ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলবেন। প্রয়াত পিতার স্বাদ পুরন করা সকল সন্তানেরই কাম্য হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের নেত্রী হাসিনা এতই সুভাগ্যবান যে, আমি দেখতে পাচ্ছি তিনি তাঁর জন্মদেয়া বাবার স্বাদ একের পর এক পুরন করে যাচ্ছেন। মহান আল্লাহ্‌ তালা ওনাকে ওনার নেক নিয়ত পুরনে যেভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন এটা কল্পনাই করা যায়না। আমি মনে করি আমাদের সবাইকে নেত্রী হাসিনার মত করে আল্লাহ্‌ বিশ্বাসী হয়ে তারই মত করে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করা তাহলেই আমরা এই পৃথিবীতে সাথে সাথে পরকালে আমাদেরকে সুপ্রতিষ্ঠিত হিসাবে দেখতে পাব এবং মহান আল্লাহ্‌ও সন্তুষ্ট হবেন তাঁর সৃষ্টির কাজ দেখে। আল্লাহ্‌ আমাকে সহ সবাইকে সত্য বলতে, সত্য বুঝতে এবং সত্য পথে চলতে ক্ষমতা প্রদান করুন। আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ