Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

দেবহাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সাত নেতা-কর্মী আটক

আন্দোলনের মুখে দুই সহোদরকে রেখে পাঁচজনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২২ মার্চ, ২০১৯, ১১:১৯ এএম | আপডেট : ৫:০২ পিএম, ২২ মার্চ, ২০১৯

আন্দোলনের মুখে শুক্রবার (২২ মার্চ) বিকালে আটক সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকে ছেড়ে দিলেও সহোদর দুই যুবলীগ নেতাকে চালান দিয়েছে দেবহাটা থানা পুলিশ। এরা হলেন, দেবহাটা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক রাজু ও তার ভাই পারুলিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আবু রায়হান।
যাদেরকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে তারা হলেন, পারুলিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সদস্য আবুল কাশেম, মনিরুল ইসলাম, একই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, একই ওয়ার্ডের কোষাধ্যক্ষ রায়হান ও সখিপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের আ’লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম। শুক্রবার ভোর রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে থানায় আটকে রাখে। আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে দেবহাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট স.ম গোলাম মোস্তফা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নোওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, কুলিয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম, দেবহাটা সদর ইউপির চেয়ারম্যান আবু বকরসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং হাজার হাজার সমর্থকরা দেবহাটা থানার সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখেন। তারা সড়ক অবরোধ করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবী জানাতে থাকেন। একই সাথে ভোটের একদিন আগে কোনো রকম অভিযোগ ছাড়াই তাদের গ্রেফতারে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা। এক পর্যায়ে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ পাঁচজনকে ছেড়ে দেন এবং দুই সহোদর যুবলীগ নেতাকে আদালতে চালান দেয়।
দেবহাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট স.ম গোলাম মোস্তফা জানান, দেবহাটা উপজেলায় নির্বাচনী পরিবেশ খুবই শান্ত ছিলো। কিন্তু পুলিশই পরিবেশ অশান্ত করে তুলছে। আটককৃতরা সবাই তার নির্বাচনে মাঠে কাজ করছেন দাবী করে বলেন, অন্যায়ভাবে একটি পক্ষের হয়ে দলীয় সাতজন নেতা-কর্মীকে রাত তিনটার দিকে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসে পুলিশ । আন্দোলনের মুখে পাঁচজনকে ছেড়ে দিলেও দুই সহোদরকে ছাড়েনি পুলিশ। তিনি বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশা করছিলাম কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে পুলিশি’র একমুখী আচরণে সেই অবাধ ভোটের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন অবাধ, সুষ্ঠু একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য।
এ ব্যাপারে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা জানান, নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে প্রচার প্রচারণা চালায় তাদেরকে আটক করা হয়েছিলো। আটক ৭ জন সম্পর্কে যাচাই বাছাই শেষে ৫ জনের নামে কোন মামলা না থাকায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। রাজু ও রায়হান নামের দুইজনের নামে মামলা থাকায় তাদের চালান দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য ঃ আগামী ২৪ মার্চ সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলাসহ ৭ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উপজেলা পরিষদ নির্বাচন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ