Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, ১৫ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট সমাধানের উদ্যোগ নেই

মুন্সী কামাল আতাতুর্ক মিসেল, চান্দিনা ও মোক্তার হোসেন মোল্লা, সোনারগাঁ থেকে | প্রকাশের সময় : ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ছুটির দিনে মহাসড়কে গাড়ীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, শুক্র ও শনিবার ছুদির দিন হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ী চাপ বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার গাড়ি মহাসড়কের ওপর দিয়ে পার হওয়া, মেঘনা ও দাউদকান্দি সেতু এলাকায় ধীর গতিতে গাড়ি পারাপারের কারণে যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়। মেঘনা-গোমতী সেতুর গজারিয়া অংশে ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজের কাছে মহাসড়ক সংস্কারের কাজ করায় এ যানজটের সৃষ্টি। যানজটের কবলে পড়ে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহনও আটকা পড়ে যানজটে। অনেকে খুব সকালে রওনা হওয়ায় অভুক্ত অবস্থাতেই পার করছেন সময়। শিশু ও বয়স্কদের জন্য খুবই পীড়াদায়ক ছিল এই যানজট।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কেন এত যানজট ? আর এর সমাধানই বা কী ? এই প্রশ্ন করলে এই মহাসড়কে চলাচলরত শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিত প্রত্যেকের কাছেই কোনো না কোনো জবাব পাওয়া যাবে। সমস্যাটা সবারই জানা আর সকলের কাছেই এর একটি সমাধান আছে! কিন্তু ভুক্তভোগিরা সমস্যা সমাধানের নানা পরামর্শ দিলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি ঘটছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এখন ভয়াবহ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিশ্চল অবস্থায় যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এটাই যেন এ মহাসড়কের নিয়ম। এক থেকে দেড় কিলোমিটার রাস্তা পার হতেই সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বা তারও বেশি। এতে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। যানজটের কারণে যে শুধু সময় নষ্ট হয়, তা নয়। ক্ষতি হয় বিপুল পরিমাণ জ্বালানিরও। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিরসনে নেয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা এবং মহাপরিকল্পনা। অর্থনীতির লাইফলাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি ৩ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। করা হয়েছে ওয়ান ওয়ে, বন্ধ করা হয়েছে মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচলও। কিন্তু তার পরেও ফলাফলও শূন্য। কয়েকদিন আগে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুটিও খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরাতন সেতুটি বন্ধ করে দেয়ায় ফলাফল আগের মতোই। যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা মুক্তি পাচ্ছেন না যানজটের দুর্বিষহ যন্ত্রণা থেকে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই আটকে থাকছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। নষ্ট হচ্ছে শত শত কর্মঘণ্টা। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাউশিয়া পাখিরমোড় পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর ফিরোজ বলেন, কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় গার্ডারের কাজ এবং সকাল থেকে দু’টি বড় পণ্যবাহী গাড়ি মেঘনা সেতুতে বিকল হয়ে যাওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে বলে জানান এসআই ফিরোজ।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের সোনারগাঁও উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মল্লিকেরপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে বেপরোয়া একটি বাস মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই এর আরোহী পারভীন আক্তার (২৫) ও মেয়ে ফেরদৌসী আক্তার (৬) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল চালক জসিম উদ্দীন (৪৫)। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এই সড়ক দুর্ঘটনায় কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকায় এ যানজটের সূত্রপাত।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি কাইয়ুম আলী সরদার জানান, গতকাল ছুটির দিন থাকায় মহাসড়কে বাড়তি গাড়ির চাপ ছিল। মেঘনা টোল প্লাজায় টোল আদায়ে ধীর গতির কারণে এ যানজট দীর্ঘ হতে থাকে। বৃহস্পতিবার রাত ২টার পর থেকে এ যানজট শুরু হয়। এছাড়াও মেঘনা ব্রিজের ঢালু ও ব্রিজের উপর দুটি কাভার্টভ্যান, জামলাদী এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান বিকল হয়ে পরার কারণে যান চলাচল খানিকক্ষণ বন্ধ থাকে। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে কাঁচপুর থেকে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে।
সরেজমিনে সকাল সাড়ে১১ টার দিকে মহাসড়কের টিপুরদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গাড়ীর চালকরা ইঞ্জিন বন্ধ রেখে বসে আছেন। মাঝে মধ্যে থেমে থেকে গাড়ি চললেও কিছুক্ষণ গিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে থাকতে দেখা যায়।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী হানিফ পরিবহনের যাত্রী খায়রুল ও আবুল কাশেম জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ পার হয়েই যানজটের কবলে পড়েছি। সকাল ৯টার দিকে কাঁচপুরে ছিলাম। ১০মিনিটের পথ আড়াই ঘন্টায় আসলাম।
গজারিয়া পরিবহনের যাত্রী মশিউর রহমান ও জুয়েনা দম্পতি বলেন, তীব্র যানজটে দীর্ঘক্ষন বাসে বসে থেকে অস্বস্থিতে ভুগছি। ব্রিজের গাড়ি বিকল হওয়ার কারণে লোকাল যাত্রীরাও ভোগান্তিতে আছি। ২০মিনিট হাটলে গৌন্তব্যে পৌছাতে পারতাম। যানজট শেষ হবে এ আশায় বসে আছি।
সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, মহাসড়কে গাড়ির অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ যানজটের প্রভাব শাখা পথগুলোতে এসে পড়েছে। যানজট নিরসনের হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সোনারগাঁ থানা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।



 

Show all comments
  • জুয়েল মিয়া ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    উন্নয়নের বিলর্বোডের দিকে তাকিয়ে থাকুন,
    Total Reply(0) Reply
  • Royal Haque ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    ওখানে ফ্লাইওভার করুন। দশ হাজার কোটি টাকা পাম্পিং করুন। আমার আওয়ামীলীগের কিছু ভাইয়ের পকেটে কিছু টাকা ঢুকুক অন্তত। সবমিলিয়ে তো উন্নয়ন ই হলো নাকি ?
    Total Reply(0) Reply
  • Shahnowaj Mozumder Rimon ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    কি দরকার পকেটে টাকা আসলেই হলো।
    Total Reply(0) Reply
  • Ahsan Habib ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    কার ঠেকা পরছে,এখানে কেউ টাকা দিবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Bappy Bhuiyan ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    রাস্তা নাকি ৪ লেন শুনলাম।। তাইলে জ্যাম কেন?
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনি উন্নয়নের মহাসড়কে আছে
    Total Reply(0) Reply
  • Alimul Karim ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    গত বৃহস্পতিবার ঠিক এমনই যানজট সৃষ্টি হয়, তারপর বাধ্য হয়ে ঢাকা থেকে বাইকে করে কুমিল্লা পর্যন্ত মোটর সাইকেলে করে যায়!!
    Total Reply(0) Reply
  • Tawhidul Islam Shawon ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    গতকাল চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১ টায় এনা বাসে উঠে রাত ১২ টায় ঢাকা বাসে পৌঁছাইলাম।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Islam Zahir ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:২৫ এএম says : 0
    বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে যানজট এখন অনেকটা মহামারী আকারে দেখা যায়। ১ ঘন্টার পথ যেতে ৫ ঘন্টা সময় লাগে।সড়কে কোন শৃঙ্খলা নেই, ড্রাইভারগণ যে যার মত করে চালাতে চায়। এক্ষেত্রে ট্রাক, কভার্ডভ্যান ড্রাইভারাই দায়ী বেশি। যানজটের কারণে বার্ষিক ২০- ৩০ হাজার কোটি টাকা অপচয় হয় শুধু অকারণে তেল গ্যাস পুড়িয়ে। মানুষের সময় ও কর্মকাল এবং কর্মক্ষমতা না বাদই দিলাম। সরকার নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি যানজটমুক্ত সড়কের জন্য দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নিবে বলে আশাকরি।
    Total Reply(0) Reply
  • Mehadi Rafe ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:২৫ এএম says : 0
    রাস্তার সাইডে অবৈধ পার্কিং করা গাড়িগুলো সব সরিয়ে দিলে যানজট কমে যাবে, জ্যাম বাধলে 6টা 7টা লাইন বানানো, কার আগে কে যাবে সেই প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২০ এপ্রিল, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ